খুলনায় ত্রাণের জন্য বিক্ষোভ

নভেল করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে খুলনার রূপসা উপজেলায় ত্রাণের জন্য বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। আজ মঙ্গলবার বাংলা নববর্ষের দিন সকাল ১১টার দিকে রূপসা উপজেলার পূর্ব রূপসা বাজার পার্শ্ববর্তী আদর্শগলির নারী-পুরুষরা রাস্তায় নেমে এসে বিক্ষোভ করেন।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। একই সঙ্গে গণপরিবহনও বন্ধ করা হয়েছে। এসময়টাতে মানুষজনকে ঘরে থাকার আহ্বান করা হচ্ছে। এতে কাজ হারিয়েছেন অনেক শ্রমজীবী মানুষ। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে খাদ্য সঙ্কটও। খাদ্যাভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সামাজিক বা শারীরিক দূরত্বের তোয়াক্কা না করেই তারা বিক্ষোভ করেছেন এসব নিম্ন আয়ের মানুষ।

বিক্ষোভকারীরা স্থানীয় বাজারে লকডাউনের উদ্দেশ্যে দেয়া বাঁশের বেরিকেট ভেঙ্গে মিছিল নিয়ে পূর্ব রূপসা বাসস্ট্যান্ড ফাঁড়ির সামনে অবস্থান নেন। পরে তারা খুলনা-মোংলা মহাসড়কে সেনাবাহিনীর টহল গাড়ি পেয়ে তাদের কাছে খাবারের জন্য দাবি তুলে ধরেন।

তারা দাবি করেন, এলাকার প্রতিটা মানুষ ঘরে থাকলেও তাদের কাছে এখনো পর্যন্ত কোন ত্রাণ বা খাদ্য আসেনি। মেম্বার চেয়ারম্যানদের কাছে বললে তারা কোন গুরুত্ব দিচ্ছে না। এলাকার নেতারাও খোঁজ নিচ্ছেন না। এ অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন।

তারা আরও অভিযোগ করেন, এখানকার বেশিরভাগ মানুষ মাছের আড়তে কাজ করেন। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে মাছ ব্যবসায়ীরাও তাদের বেতন দিচ্ছেন না। আবার নিষেধাজ্ঞার কারণে ঘর থেকেও বের হতে পারছেন না। কাজ-কামও নেই। অথচ টিভিতে দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী গরীব মানুষকে সহায়তা পাঠিয়েছেন। সরকার ১০ টাকা কেজি দরে চাল দিচ্ছিল, তাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। এছাড়া যারা দিন এনে দিন খেয়ে জীবনযাপন করছিলেন তারাও পড়েছেন বিপাকে।

বিক্ষোভের সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা চেয়ারম্যানের সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বাস দিয়ে বিক্ষুব্দকারীদের শান্ত করেন।

পরে নৈহাটী ইউপি চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন বুলবুল সেনা সদস্যদের উপস্থিতিতে বলেন, কর্মহীনদের জন্য যে পরিমান বরাদ্দ পাচ্ছি তা দিয়ে কিছুই হচ্ছে না। এলাকায় ব্যাপক খাদ্য ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমার কাছে বিতরণের জন্য অল্প কিছু চাল আছে, দেখি তা দিয়ে কতদূর কি করতে পারি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাসরিন আক্তার বলেন, রূপসার নৈহাটী ইউনিয়নে ৪-৫ হাজার অভুক্ত মাছ কোম্পানির শ্রমিক রয়েছেন। একটা কোম্পানি ছাড়া বাকি কোম্পানিগুলো শ্রমিকদের এখনও বেতন দেয়নি। আমি মালিক পক্ষের সাথে বেশ আগে থেকে কথা বলেছি। ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সাথেও কথা বলেছি- যাতে শ্রমিকদের বেতন সময় মতো দেওয়া হয়।

তিনি জানান, রূপসা একটি বিশাল জনবসতি এলাকা। এখানে সরকারি সহযোগিতার চাল এসেছে ৬১ টন। যা মাত্র ৭ হাজার পরিবারকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শুধুমাত্র পূর্ব রূপসার নৈহাটী ইউনিয়নেই নিম্ন আয়ের শ্রমিক রয়েছেই ৫-৬ হাজার।