মাস্ক সম্পর্কিত সঠিক কিছু তথ্য:সারা ফেরদৌসী পৌষী

নোবেল করোনা ভাইরাস এর জন্য অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করছেন, এছাড়াও ব্যাংক কর্মকর্তারাও পিপি পর্যন্ত ব্যবহার করছেন।
এই যে সমস্ত মাস্ক পরতে দেখছি সকলকে রাস্তাঘাটে সকলের মধ্যে বেশির ভাগ মাস্ক কোন কাজের নয়। সকলের সচেতনতা জন্য আমার এই লেখাটি;
* কাপড়ের মাস্ক: প্রথমেই আসি কাপড়ের মাস্ক যেটি ১-২-৩ লেয়ার বিশিষ্ট হতে পারে। এটি ভাইরাস বা জীবাণু কোনোটিতেই কোন কাজে আসে না। ব্যাকটেরিয়া কিছুটা কমতে পারে ধুলোবালি ও কিছুটা কমে। যদিও ব্যাকটেরিয়ার কথাটা সঠিকভাবে বলাটা এখানে ঠিক না কেনোনা সেটি খুবই অল্প মাত্রায় ব্যাকটেরিয়া কমায়। যদি এটি আমরা ব্যবহার করি তবে শুধুমাত্র ধুলাবালি ও বাতাসটা কিছুটা শুদ্ধ করে।
তবে কি কোন ভাইরাসের ক্ষেত্রে কার্যকরী নয়।
* বাজার করার কাপড়ের ব্যাগ দিয়ে তৈরি কৃত মাস্ক: আমরা অনেকেই বাজারে দেখতে পাচ্ছি কিছু রং বে রং এর মাস্ক পাওয়া যাচ্ছে যেগুলো বাজারে ব্যাগ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এগুলো বিভিন্ন রংয়ের হ‌ওয়ায় বেশ আকর্ষণীয়। এগুলোতে একটি করে ফিল্টার ব্যবহার করতে দেখা গেছে। তবে এগুলো কোন কাজের না এগুলো ভাইরাসকে ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। একই শুধুমাত্র কাপড়ের মাস্কের মতো কিছুটা ধুলোবালি ও বাতাসকে কিছুটা শুদ্ধ করবে এছাড়া আর কোন কাজে আসবে না। বাজার করা কাপড় দিয়ে ব্যাগ তৈরি করা হয়েছে সেগুলোর অনেকগুলো তে ফিল্টার রয়েছে আবার অনেকগুলো তে ফিল্টার নেই। কে ফিল্টার গুলো কোন কাজের নয় বরং এগুলা দিয়ে ভাইরাস ও জীবাণু সহজেই শরীরের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে।
বাজার করার কাপড়ের ব্যাগ দিয়ে ২-৩ লেয়ার ভিতরে তৈরি দিয়ে একটু উন্নত মাস্ক বাজারে দেখা যাচ্ছে। এগুলোতে একটি করে ফিল্টার রয়েছে। তবে এই মাস্ক গুলো ও কোন কাজের নয়।
* গেঞ্জির কাপড়ের মাস্ক: গেঞ্জি কাপড়ের মাস্ক সস্তা দরে বাজারে বেশ সহজেই পাওয়া যায়। এটির কোনো কোনোটিতে সামনে নাকের স্থানে সামান্য নেট ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এটিও ভাইরাস প্রটেক্ট করবে না। শুধুমাত্র কিছু ধুলাবালি থেকে রক্ষা করবে। এটিও ভাইরাস থেকে রাখতে পারবে না।
উপরের আলোচনা কৃত সবগুলোই মাস্ককে খুব স্বাভাবিকভাবে জীবাণু বা ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে।
শুধুমাত্র N95 মাস্ক নোবেল করোনাভাইরাস থেকে বা যে কোন ভাইরাস বা জীবাণু থেকে রক্ষা করতে ৯৫% থেকে ৯৯% কার্যকরী হয়। এটিকে রেস্পিরেটর বলা হয়। এটি ভিতরের অংশে বা যে অংশে নাক বা মুখ থাকবে সে দিকে হাত না দিয়ে সর্বোচ্চ এইটি তিনবার ব্যবহার করা যায়। এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। বর্তমান বাংলাদেশের বাজার মূল্য ৯০০ টাকার উপরে। এবং এটি এখন পাওয়াও যাচ্ছে না সহজে বাজারে। এটি সবার ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। এটি শুধুমাত্র যে রোগীর দেখাশোনা করবেন বা রোগীর কাছে যাবেন শুধুমাত্র তার ব্যবহারের জন্য। বিশেষ করে ডাক্তার, নার্স অথবা পরিবারের কেউ দেখা করার সময় এটি ব্যবহার করবেন তাদের জন্য। এর সাথে পিপি ব্যবহার করতে হবে। এটি স্বাভাবিক আবহাওয়ার বা গরম মধ্যে ব্যবহার করলে নিঃশ্বাস নিতে কিছুটা কষ্ট হয় বা বেগ পেতে হয়। এটি শুধুমাত্র এসি যেটিকে আমরা এয়ারকন্ডিশন বলি সেই রুমে ব্যবহারের জন্য উপযোগী। এই মাস্ক নাকের এবং মুখের চামড়ার সাথে খুব শক্তভাবে লেগে থাকে যার ফলে ভাইরাস জীবাণু এটি দ্বারা সহজে প্রবেশ করতে পারে না। যদি আপনার চোখে চশমা থাকে তবে এই মাস্ক পড়লে আপনার চশমা ঘোলা হয়ে যাবে। এটি বাংলাদেশের সকলের জন্য বেশ ব্যয়বহুল। এটি সবার ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই।
যদি আপনারা ব্যবহার করতে চান তবে সার্জিকাল মাস্ক ব্যবহার করুন। যেটির চারদিকে চারটি ফিতা আছে। এছাড়াও দুইদিকে রাবারের মত বা বেল্ট ও বলা যায় এগুলো ব্যবহার করুন। এটি তিনটি লেয়ারের থাকে। এছাড়াও এটি সল্প মূল্যে পাবেন।
সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহারে অনেকের কিছু কনফিউশন রয়েছে। যেমন; সাদা দিকটা বাইরে নাকি নীল দিকটা বাইরে। কোনো কারণ নেই চিন্তিতো হ‌ওয়ার। সব সময় নীল বাইরের দিকে হবে। এটি পরে নাক অবশ্যই আপনার ভিতরে রাখবেন। এটির বাইরে নাক বের করে রাখলে কোন লাভ হবে না।
সর্বোপরি কথা, মাস্ক ব্যবহার করতে হবে এবং স্বাস্থ্যসম্মত থাকতে হবে। এজন্য আপনি সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করুন। সর্দি-কাশি যাদের আছে সে অবশ্যই পড়বেন এবং সাধারন মানুষ‍ও অবশ্যই পড়বেন। আপনি আপনার safety জন্য পড়তে পারেন।
সচেতনতার জন্য শুধুমাত্র সার্জিক্যাল মাস্ক ও হাতে পরার গ্লাভস ব্যবহার করুন। হ্যান্ড স্যানিটাইজার এর দাম বেশি হওয়ার কারণে চিন্তিত হবার প্রয়োজন নেই। হ্যান্ড স্যানিটাইজার ছাড়া আপনি সাবান বা হ্যান্ড ওয়াশ দিয়ে হাত ২০ সেকেন্ড ধরে পরিষ্কার করুন।
সারা ফেরদৌসী পৌষী
sharaferdousipoushi@gmail.com