২০২০ সালের হজ অনলাইনে নিবন্ধনে লক্ষ্যমাত্রা পৌছেনি,কাল বৈঠক হচ্ছে

২০২০ সালের হজ কার্যক্রমের নিবন্ধনের সময় শেষ হচ্ছে আগামীকাল বুধবার (৮ এপ্রিল)। তবে করোনাভাইরাসের ধাক্কায় এখন পর্যন্ত হজ করতে আগ্রহীদের অনলাইনে নিবন্ধনের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রার পৌছেনি,এ পরিস্থিতিতে নিবন্ধনের তারিখ বাড়ানোর চিন্তা করছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য আগামীকাল বুধবার সচিবালয়ে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠকও ডাকা হয়েছে। ওই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হবে, হজের জন্য অনলাইন নিবন্ধনের সময় বাড়বে কি না। বর্তমান পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত করণীয় কী হবে, তাও উঠে আসবে ওই বৈঠকে।
বিজ্ঞাপন

সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, এ বছর বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৯৮ জন হজে যেতে পারবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৭ হাজার ১৯৮ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে পারবেন ১ লাখ ২০ হাজার জন। সে অনুযায়ী সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ মার্চ আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২ মার্চ থেকে হজের নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ প্রক্রিয়ায় নিবন্ধন করেছেন মাত্র ৪৮ হাজার ৫৭২ জন, যা লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৩৫ ভাগ। সে কারণেই নিবন্ধনের সময় বাড়ানোসহ অন্য বিষয়গুলো নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে মন্ত্রণালয়কে।

হজের জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় প্রথমে সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয় ২৫ মার্চ। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে নিবন্ধন বেশি না হওয়ায় ৮ এপ্রিল পর্যন্ত নিবন্ধনের সময় বাড়ানো হয়। কিন্তু কাজ হয়নি তাতেও। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, সরকারিভাবে মাত্র ৩ হাজার ৩৭৪ জন এবং বেসরকারিভাবে ৪৫ হাজার ১৯৮ জনের নিবন্ধন হয়েছে এ পর্যন্ত।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনাভাইরাসের কারণে হজ নিবন্ধনে সাড়া পাওয়া যায়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ ছুটি রয়েছে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। তাছাড়া সৌদি আরব সরকার এরই মধ্যে ওমরাহ বন্ধ করেছে। করোনাভাইরাসের কারণে হজ নিয়েও জটিলতা তৈরি হবে কি না, সে আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সে কারণেই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে বসতে যাচ্ছে মন্ত্রণালয়।

হজ সংক্রান্ত বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নূরী সারাবাংলাকে বলেন, বুধবারের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যেহেতু পরিস্থিতি কিছুটা অবনতির দিকে, সেহেতু কী করা যায়, তা চিন্তা করতে হবে। তবে করোনাভাইরাসের বিস্তার যদি বিশ্বব্যাপী বেড়ে যায় এবং কোনো কারণে যদি হজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়, তাহলে যারা এ পর্যন্ত টাকা জমা দিয়েছেন, তারা তাদের টাকা ফেরত পাবেন।

হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম সারাবাংলাকে বলেন, এবার হজ হবে কি না, তা নির্ভর করছে করোনাভাইরাসের বিস্তারের মাত্রার ওপর। এটি তো বৈশ্বিক মহামারি পরিস্থিতি। আমরা হজের নিবন্ধন কার্যক্রম চালু রেখেছি, কারণ যদি হজ হয় তাহলে যেন আগ্রহীদের নিয়ে যেতে পারি। ১ লাখ ৫১ হাজার ৯৯০ টাকা নিবন্ধন ফি। তা ব্যাংকেই থাকে। তা তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ কারও নেই। যদি কেউ টাকা ফেরত চান, নিয়ে যেতে পারবেন। আর যদি কেউ মনে করেন পরের বছর হজে যাবেন, তবে তার জন্যও সে টাকা সুরক্ষিত থাকবে। বেসরকারিভাবে নিবন্ধনের বাইরে বিমান ভাড়াসহ অন্যান্য সার্ভিসের কোনো চার্জ নেওয়া হচ্ছে না বলে জানান তিনি।
করোনাভাইরাসের কারণে সারাবিশ্বেই কমবেশি অবরুদ্ধ অবস্থা চলছে। সৌদি আরবে দেশি-বিদেশি নাগরিকদের জন্য ওমরাহ স্থগিত করেছে দেশটির সরকার। শুরু তাই নয়, দেশটির মসজিদগুলোতে নামাজ পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৩০ জুলাই বা ৯ জিলহজ হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। চলতি বছরে হজের জন্য হজ ফ্লাইট শুরু হওয়ার কথা আগামী ২৩ জুন। এসব দিনক্ষণ সাধারণত চাঁদের হিসাবের ওপর নির্ভর করলেও এ বছর সে হিসাবের পাশাপাশি করোনাভাইরাস পরিস্থিতির ওপরও নির্ভর করছে।