সরব সিলেট, রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ

সকাল তখন ১০ টা। সিলেট নগরীর আম্বরখানা পয়েন্ট। রাস্তায় সব ধরনের যানবাহন। ভিড় বাড়ছে। ক্ষনে-ক্ষনে লাগছে যানজট। কোনো উপায় নেই। রাস্তায় এসে দাড়ালেন ট্রাফিক পুলিশও। যানবাহনকে সুশৃঙ্খল করে চলতে দিচ্ছেন।
এই দৃশ্য সিলেটের শুধু আম্বরখানায়ই নয়, গোটা নগরের। কেউ মানছে না কারো কথা। সামাজিক দুরত্ব মানছেন না কেউ। রাস্তায় যানবাহনের ভিড়। মার্কেট বন্ধ। অফিস আদালতও খোলা নেই। এরপরও মানুষ ছুটছে। সতর্কাবস্থা নেই। রাস্তায় আছে সবাই। পুলিশ, র‌্যাব সহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব টিম। এরপরও যেনো সব সচল। এমন দৃশ্য কেবল বৃহস্পতিবারের নয়। মঙ্গল ও বুধবার সিলেটে একই চিত্র দেখা গেছে। সকাল হতেই সরব হয়ে উঠে সিলেট। আগের মতো করোনা নিয়ে নেই আতঙ্ক। দোকান মালিক সমিতির নেতারা বুধবার রাতে ফের বৈঠক করেছেন। তারা আরো সময় বাড়িয়েছেন। এখনই তারা দোকান খুলবেন না। তাদের এই সিদ্বান্ত মানছেন সব ব্যবসায়ীরা। কেবল মানছে না যানবাহন চালকেরা। রাস্তায় যানবাহনেরও চাপ বাড়ছে। সকাল ১১ টা। র‌্যাব নামবে সিলেটে। জিন্দাবাজার, বন্দরবাজারে নামবে র‌্যাব। কয়েকটি টিম এসে পৌছে গেছে। জিন্দাবাজার ও বন্দরবাজার ফাকা হতে লাগলো। রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা কমে এলো। দুপুরের দিকে র‌্যাবের কয়েকটি টিম এক সঙ্গে ওই এলাকায় টহল দিলো। রাস্তা তখন সুনশান ফাকা। যেনো আগের চিত্র ফিরে এসেছে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হলো। নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখার অনুরোধ করা হলো। দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে ফিরে গেলো র‌্যাব। দৃশ্যপট নেমে এলো আগের মতোই। সড়কে বাড়লো যানবাহনের চাপ। কোর্ট পয়েন্ট আগের মতো ব্যস্ত। সিএনজি চালকরা ট্রিপ নিয়ে ছুটে চললেন। মানুষও রাস্তায়। খাবারের জন্য ছুটছে মানুষ। যেখানেই খাদ্য বিতরনের খবর পাচ্ছে ছুটে যাচ্ছে। খাদ্য দ্রব্য বিতরনেও মানা হচ্ছে না কোনো নিয়ম। যে যার মতো নগরে বিতরন করছেন খাদ্য দ্রব্য। সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে ৬৭ হাজার মানুষের মধ্যে খাবার পৌছে দেওয়া হচ্ছে। সন্ধা নামলেই শুরু হয় খাদ্য দ্রব্য বিতরন পর্ব। সেখানেও মানা হচ্ছে না নিয়ম। দলবেধে গিয়ে খাদ্য দ্রব্য দেওয়া হচ্ছে। করা হচ্ছে ফটো সেশন। এই খাদ্য বিতরনকে কেন্দ্র করে নগর ভবনও সরগরম। মেয়র আগের মতই ব্যস্ত। সিটি ফান্ড খুলে বসেছেন। দাতারা দলবেধে যাচ্ছেন। টাকা, চেক কিংবা খাদ্য দ্রব্য তুলে দিচ্ছেন। ছবি তুলে চলে আসছেন। শ’খানেক কর্মচারী নগর ভবনে ব্যস্ত। তারা খাদ্য দ্রব্য প্যাকেটিং করছেন। মানবতার ডাকে সাড়া দিয়েছেন সবাই। যে যার মতো খাবার তুলে দিচ্ছেন মানুষের হাতে। প্রতিদিনই সিলেটে জটলা। খাবার বিতরনে মানা হচ্ছে না কোনো নিয়ম। দলবেধে যাচ্ছেন খাদ্য দ্রব্য বিতরনে। ফটো সেশনও হচ্ছে। সন্ধ্যা নামলেই কাচাবাজার সরগরম। আগের মতোই সরগরম হয়ে উঠে বন্দরবাজার। ডাকঘরের সামন যেনো হাট। পন্য বিক্রিতে কোনো নিয়ম নেই। ভিড় ঠেলে ঠেলে বাজারে চলছে মানুষ। তেমনি অবস্থা লালবাজারেও। সামাজিক দুরত্ব কেউ মানছেন না। প্রবাসী শহর হলেও সিলেটে এখনো স্বস্তি আছে। করোনা ভাইরাস আক্রান্ত কোনো রোগি মিলেনি। সর্বশেষ সকালে আইসোলেশনে থাকা দু’জনের রিপোর্ট এসেছে। আইইডিসিআর জানিয়েছে- তাদের রিপোর্ট নেগেটিভ। ফলে এ পর্যন্ত ১৭ জনের রক্ত ও মুখের লালার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হলেও কেউ করোনা আক্রান্ত নন। অভিযোগ উঠেছে- সিলেটে পরীক্ষা হচ্ছে কম রোগির। এ কারনে এগিয়ে এসেছেন পররাস্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। তার উদ্যোগে সিলেটে স্থাপন হচ্ছে করোনা পরীক্ষার ল্যাব। আগামী রোববার নাগাদ সিলেটেই করোনা পরীক্ষা করা যাবে। এসেছে কীটও। এই অবস্থায় সচল হচ্ছে সিলেট। সামাজিক দুরত্ব মানা হচ্ছে না। এতে করে ক্ষোভ বাড়ছে জনমনে। খাবার পৌছে দেওয়া হচ্ছে ঘরে ঘরে। ঘরে থাকার আহবান জানানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন- বিষয়টি নিয়ে তারাও চিন্তিত। করণীয় ঠিক করতে তারা বৈঠক করবেন। এরপর কঠোর হবে সিলেটের প্রশাসন। মাঠে সক্রিয় হবে সেনাবাহিনী, র‌্যাব সহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা।