মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরানে স্বাস্থ্য সহায়তা পাঠালো ইউরোপ

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে ইরানে মেডিকেল সামগ্রী পাঠিয়েছে ৩ ইউরোপীয় দেশ বৃটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি। খুবই জটিল এক আর্থিক ব্যবস্থা ব্যবহার করে এই পদক্ষেপ নিয়েছে তিন দেশ। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মার্কিন অবরোধের কারণে ডুবতে বসা ইরান পারমাণবিক চুক্তি কার্যকর রাখার আশা কিছুটা হলেও বেড়েছে। বৃটিশ পত্রিকা দ্য টেলিগ্রাফ এই খবর দিয়েছে।
জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, ওই মেডিকেল সামগ্রী ইরানে নিরাপদে পৌঁছেছে। ২০১৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে বের হয়ে আসেন। এরপর ইরানের ওপর আরোপ করা হয় মারাত্মক অবরোধ। যুক্তরাষ্ট্রের ওই পদক্ষেপের সঙ্গে একমত ছিল না ইউরোপের প্রধান ৩ দেশ।
মার্কিন অবরোধকে এড়িয়ে ইরানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন অব্যাহত রাখতে তখনই প্রতিষ্ঠিত হয় ইনস্টেক্স সিস্টেম। এই সিস্টেম ব্যবহার করেই এবার ইরানে সহায়তা পাঠানো হয়েছে।
এ মাসের শুরুতে বৃটেন, জার্মানি ও ফ্রান্স ঘোষণা দিয়েছিল যে, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ইরানকে ৪০ লাখ ইউরো দেওয়া হবে। পাশাপাশি, পরীক্ষার জন্য মেডিকেল সামগ্রি ও সুরক্ষামুলক পোশাক পাঠানো হবে।
খবরে বলা হয়, ভবিষ্যতেও বৃটিশ সরকার এই ইন্সটেক্স সিস্টেম ব্যবহার করে ইরানে বিভিন্ন সহায়তা পাঠাতে পারে। এই সিস্টেমে মার্কিন ডলার ব্যবহার করা হয় না।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে আসার পর, ইরান অনুযোগ করছিল যে, ইউরোপ তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ভয়ে সকল ইউরোপিয়ান কোম্পানিই ইরানের সঙ্গে লেনদেন বন্ধ করে দেয়। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের পাশাপাশি, মেডিকেল সরঞ্জামেরও অভাব দেখা দেয় ইরানে। দেশটিতে করোনাভাইরাস মারাত্মকভাবে আঘাত করার অন্যতম কারণও এটি।
ইরানও মার্কিন ও ইউরোপিয়ান পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় চুক্তির কিছু অঙ্গীকার ঘোষণা দিয়ে লঙ্ঘণ করতে থাকে। বিশেষ করে ইউরোনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসে দেশটি।
গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরান ইউরোপ ও অন্যান্য দেশে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু করেছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে মেডিকেল সামগ্রি প্রদানের আর্জি জানিয়েছে। মঙ্গলবার অবদি, ইরানে প্রায় ২৮৯৮ জন মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন ৪৪৬০০ জন।