বৃটেনের নেতৃত্বে নেই কোনো ‘প্ল্যান বি’

বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের করোনা ভাইরাস ধরা পড়েছে। কোনো দেশের এত বড় নেতার এটাই প্রথম করোনা আক্রান্তের ঘটনা। শুক্রবার চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়েছেন যে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী করোনা আক্রান্ত। তিনি নিজেই টুইটারে ভিডিও পোস্ট করে নিশ্চিত করেছেন, জ্বর, কাশিসহ তার করোনা সংক্রমণের সামান্য উপসর্গ প্রকাশ পেয়েছে। তবে বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলেও আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন জনসন।
কিন্তু আমরা জানি করোনা আক্রান্ত হলে তার ভয়াবহ প্রভাব পড়ে মানুষের শরীরে। বরিস জনসনের যে বয়স তাতে এ প্রভাব আরো বেশি ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভবিষ্যতে যদি তার এই উপসর্গগুলো আর সামান্য না থেকে আরো গুরুতর হয়ে ওঠে তখন কী হবে? বৃটেনের হাল তখন কে ধরবেন? দেশটির সংবিধানেও এ নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট উত্তর দেয়া নেই।
ফলে বরিস জনসনের করোনা আক্রান্তের খবরে সৃষ্টি হয়েছে এক অনিশ্চয়তার।
তার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানককও কয়েকদিন পূর্বে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। উভয়ই বলছেন, তারা সেলফ আইসোলেশনে থেকেই তাদের সব দায়িত্ব পালন করে যেতে পারবেন। করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়েও সব স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে আত্মবিশ্বাস আছে এমনটা বরিস নিজেও আলাদা করে বলেছেন। কিন্তু তাতে শঙ্কা দূর হচ্ছে না। প্রশ্ন উঠেছে, এত গুরুত্বপূর্ণ দুজনকে বিচ্ছিন্ন রেখে কিভাবে বৈশ্বিক সংকটের এই কঠিন সময় পাড়ি দেবে বৃটেন!
শত শত বছর পুরোনো বৃটিশ সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর কিছু হলে কোনো ‘প্ল্যান বি’র কথা উল্লেখ করা নেই। এ নিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বৃটিশ সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ক্যাথেরিন হ্যাডন বলেন, এমন পরিস্থিতিতে বৃটেনকে কখনো পড়তে হয়নি। তাই এই কোণ থেকে কখনো আমাদের ভাবতেও হয়নি। তবে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পর ভাইস প্রেসিডেন্ট রয়েছেন। সেখানে প্রেসিডেন্টের কিছু হলে বা মারা গেলে ভাইস প্রেসিডেন্টই ক্ষমতায় বসেন। সেখানে বৃটেনে কোনো সহকারি প্রধানমন্ত্রী বা তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রীর নিয়ম চালু নেই। যদিও ডাউনিং স্ট্রিট একটা সম্ভাবনা হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাবের কথা বলেছে। কিন্তু এ নিয়ে কোনো ধরণের নিয়ম বা এর নিশ্চয়তা কোনোটাই জানাতে পারেনি তারা।
১৯৫৩ সালে বৃটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। কিন্তু তার অসুস্থতার কথা তখন প্রকাশই করা হয়নি। কিছু উর্ধতন কর্মকর্তা ও মন্ত্রীদের একাংশ এ খবর জানতেন। তিনি সেই অসুস্থ অবস্থাতেই দেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন। সাম্প্রতিককালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের কথা বলা যায়। তিনিও হৃদরোগের কারণে দুই দফা অসুস্থ ছিলেন। এসময় একেকবারে তিনি কয়েক দিন করে অফিস থেকে দূরে ছিলেন।
কিন্তু বরিস জনসন আসলেই তার দায়িত্ব পালন করে যেতে পারবেন কিনা সে বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই। তারপর পূর্বের ঘটনার সময় বৃটেন কোনো ধরণের সংকটের মধ্যে ছিল না। কিন্তু বর্তমানে বৃটেনসহ পুরো বিশ্বই করোনার আঘাতে বিপর্যস্ত। সেসময়ও জনসন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমেই সরকার পরিচালনার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। কিন্তু বৃটেনের এমন কঠিন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্ব অপরিসীম। বিষয়টি স্বীকার করেছেন তার মন্ত্রী পরিষদের সদস্যরাও। তবে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ছাড়াই বৃটিশদের করোনার বিরুদ্ধে লড়তে হবে কিনা তা সময়ই বলে দেবে। আবার হয়ত প্রথমবারের মতো ‘প্ল্যান বি’র দিকে নজর দেবে বৃটেন।