বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কোথায় থাকলো?

চেতনাটা গু-ামি দিয়ে তৈরি হয় না। রাজনীতিও গু-ামি করে প্রতিষ্ঠিত করা যায় না। গু-ামি করে যদি মানুষের চেতনা দখল করা যেতো তাহলে আইয়ুব খান অমর হয়ে যেতেন। উন্নয়ন ও গু-ামি তথা লোভ ও ভয়ের সংমিশ্রণ দিয়ে যে মানুষের মন দখল করা যায় না, মানুষের চেতনা দখল করা যায় না তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান। আর মানুষের রাজনৈতিক চেতনা ব্যবহার করে যে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা যায় তার উদাহরণ হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু। কী হয়েছিলো, ষাটের দশ বছর সেই ইতিহাস দেখেন, শিক্ষা গ্রহণ করুন। আইয়ুব খান ‘পাকিস্তান একটি মুসলিম রাষ্ট্র’ এই বৈশিষ্ট্য সামনে রেখে অগ্রসর হচ্ছিলো। সঙ্গে ছিলো উন্নয়ন আর গু-ামি। আইয়ুব খানের উন্নয়নের জোয়ার সম্পর্কে এখনো অনেক বয়স্ক মানুষই সাক্ষী দেবে। বাংলাদেশের যে সড়ক নেটওয়ার্ক দেখেন আর যতোসব ইমারত ইত্যাদি দেখেন প্রায় সবই হয়েছে আইয়ুবের সময়। সংসদ ভবন সচিবালয় আদালত এগুলো সব আইয়ুবের প্রকল্প।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বেশিরভাগই হয়েছে আইয়ুবের আমলে। লিস্টি আরও বাড়াতে পারি। আর গু-ামি? এনএসএফ নামে আইয়ুবের ছাত্র সংগঠন ছিলো। দেশের প্রতিটা শিক্ষাঙ্গনে প্রতিটা পাড়ায় মহল্লায় তারা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলো। আইয়ুবের বিরুদ্ধে কেউ টুঁ শব্দ করলেই তারা এসে মারধর করতো। তাদের যুক্তি ছিলো চমৎকার গঠনমূলক সমালোচনা করেন অসুবিধা নেই, কিন্তু উন্নয়নের বিরুদ্ধে কিছু সহ্য করা হবে না। রাজনৈতিকভাবে যারাই ভিন্নমত পোষণ করতো তারা সংগঠন বা কর্মসূচি করতে গেলে তারা বলতো ‘নাশকতার ষড়যন্ত্র’।

এসব কথা বলে তারা প্রকাশ্যেই সবাইকে হামলা করতো ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগ ছাত্র ইউনিয়ন কেউই রেহায় পায়নি তাদের হাত থেকে। এনএসএফ ছাড়া পুলিশ আর অন্যান্য বাহিনীও ছিলো। হামলার পাশাপাশি ছিলো মামলা। কি পরিমাণ মামলা যে আইয়ুবের সময় হয়েছে। বিশেষ একটা আইন ছিলো রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার নামে। ছাত্র ইউনিয়নের ছেলেমেয়েরা সে সময় ‘পাকিস্তান : দেশ ও কৃষ্টি’ নামের একটা বইয়ের বিরোধিতা করে কর্মসূচি করতো। নিয়মতান্ত্রিক স্বাভাবিক কর্মসূচি সেসব। তার জন্য দেশের সর্বত্র ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিলো কয়েক হাজার। বঙ্গবন্ধুর নামে মামলা হয়েছিলো প্রায় প্রতিটা জেলায় মহকুমায়। বঙ্গবন্ধু যেখানেই যায় তার নামে মামলা হয়। ফ্রিভুলাস সব অভিযোগ-ষড়যন্ত্র নাশকতা ইত্যাদি। ইষৎ সংক্ষেপিত।ফেসবুক থেকে।
“ইমতিয়াজ মাহমুদ