খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঢাকায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

পূর্বঘোষিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার (১৫ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে বাড্ডার সুবাস্তু নজরভ্যালী টাওয়ারের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ফুজি টাওয়ারের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পুলিশ মিছিলে ধাওয়া দিয়ে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছে বিএনপি। মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন আদালত খারিজ করে দেয়ার প্রতিবাদ এবং খালেদা জিয়ার অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

মিছিলে অন্যদের মধ্যে মহানগর উত্তর বিএনপির আহসানুল্লাহ হাসান, এজিএম শামসুল হক, এবিএম আবদুর রাজ্জাক, তাজুল ইসলাম, আব্দুল কাদের বাবু, নুরুল ইসলাম কাজী, তুহিন, সাজ্জাদ হোসেন রুবেল, হারুনুর রশিদ সহ তিন শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত পথসভায় রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে জড়িয়ে মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির এ নেতা বলেন, ১৯৭৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত সফিউল্লাহ সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। সে সময়ই তো শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। অথচ ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ১৬ বছর কেএম সফিউল্লাহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। কিন্তু এ দেশের মানুষের কাছে শহীদ জিয়া একজন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। জনগণের মাঝে শহীদ জিয়ার জনপ্রিয়তা অত্যন্ত উঁচুমানের। তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে কোনো লাভ হবে না।

মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপরিবারে মর্মান্তিক ও বিয়োগন্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সে সময় শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপরিবারে হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগেরই বহু নেতা তাদের আত্মতৃপ্তির কথা বলেছিলেন। তাদেরই একজন আব্দুল মালেক উকিল লন্ডনে থাকাবস্থায় বলেছিলেন যে, “ফেরাউনের পতন হোক”। এমনকি খন্দকার মোশতাকের শপথ বাক্য পাঠ করান তৎকালীন মন্ত্রী পরিষদ সচিব এইচটি ইমাম। আজকে যিনি প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম সিনিয়র উপদেষ্টা। কই প্রধানমন্ত্রী তো সে বিষয়ে কিছু বলেননি। অথচ পরবর্তীতে মালেক উকিল সহ হত্যাকাণ্ডের সমর্থনকারী বহু নেতাই তো শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন। আজকে নিজের ঘরের দিকে তাকান না প্রধানমন্ত্রী। আমি বলবো আগে নিজেদের চেহারা আয়নায় দেখুন আর ভাবুন যে কারা খুনিদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন?

দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলা ও সম্পাদককে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে রিজভী বলেন, আজকে দেশে গণতন্ত্র নেই। গণমাধ্যমের মত প্রকাশ ও মানুষের বাক স্বাধীনতা কেড়ে হয়েছে। কারো সাথে কারো মতের মিল না থাকতে পারে। রাজনীতিতে ভিন্ন ভিন্ন মত থাকবে এটা স্বাভাবিক। তাই বলে দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার কার্যালয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা ফ্যাসিবাদী শাসনের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে হয়।