ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল বাংলাদেশেরও রাজনৈতিক পরিস্থিতি পাল্টাবে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা

দেবদুলাল মুন্না: ভারতে লোকসভার পর রাজ্যসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল বা ক্যাব ( সিএবি) পাশ হওয়ার পর এখন আইনে রূপ নিয়েছে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মাধ্যমে। এতে দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও যেমন বদলে যেতে শুরু করেছে তেমনই বাংলাদেশেরও রাজনৈতিক পরিস্থিতি পাল্টাবে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা।

ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমদে বলেন, ‘এবার নাগরিকত্ব আইনে সংশোধন এনে পৃথিবীর একমাত্র হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত হওয়ার পথে ভারত একটা বড় লাফ দিল। এই লাফটা তারা কেন মারল, ভারতীয় সংসদের উভয় কক্ষে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তা জানাতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি। তাঁর ব্যাখ্যায় যত দোষ জওহরলাল নেহেরু ও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর। দ্বিজাতিতত্ত্ব মেনে তারা দেশ ভাগ না করলে বাহাত্তর বছর পর সেই ‘পাপের’ প্রায়শ্চিত্ত বিজেপিকে করতে হতো না। ফলে সাংবিধানিকভাবে ভারত এতোদিন যে ধর্মনিরপেক্ষ ছিল সেটির ওপর শেষ পেরেক মারা হলো। এর প্রভাব বাংলাদেশেও বিভিন্নভাবে পড়তে পারে। ভারত থেকে অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা বাড়তে পারে। এছাড়া রাজনীতিতে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’র স্লোগান জনপ্রিয়তা হারাতে পারে।’

২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ছিলেন তারিক এ করিম। সাবেক এই কূটনীতিক বলেন, ‘ বাংলাদেশের বহু মানুষ এখন মনে করছেন, ভারত ধর্মনিরপেক্ষতার রাস্তা থেকে সরে এসে দ্বিজাতিতত্ত্বকে মান্যতা ও বৈধতা দিচ্ছে।

গত অক্টোবরে দিল্লিতে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ইন্ডিয়া ইকোনমিক সামিটে দেওয়া শেখ হাসিনা ভাষণে বলেছিলেন, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু মানসিকতা থেকে বের হয়ে দক্ষিণ এশিয়ার উচিত আঞ্চলিক, জাতিগত ও ভাষাগত বিভিন্নতা আঁকড়ে এগিয়ে চলা। শত শত বছর ধরে বহুত্ববাদই দক্ষিণ এশিয়ার প্রকৃত শক্তি।’ এখন ধর্মনিরপেক্ষতা ঝেড়ে ফেলে দ্বিজাতিতত্তে্বর দিকে ঝুঁকে হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দিকে ভারতের এই এগিয়ে চলা বাংলাদেশিদের মনে যদি এই প্রশ্নের জন্ম দেয় যে আমাদের ধর্মনিরপেক্ষ থেকে কী লাভ, তাহলে?’