ইরানের উন্নয়নে ক্ষুব্ধ হয়েই আমেরিকা আমাকে আটক করে: সুলাইমানি

ইরানের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী মাসুদ সুলাইমানি মার্কিন কারাগার থেকে মুক্তিলাভের পর তেহরানে ফিরেছেন।

শনিবার রাতে তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে তাকে বহনকারী বিমান অবতরণ করে। এ সময় তিনি বলেন, জ্ঞান-বিজ্ঞানে ইরানের উন্নয়নে ক্ষুব্ধ হয়েই আমেরিকা তাকে আটক করেছিল। খবর রয়টার্সের।

এ সময় বিমানবন্দরে তার পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সুইজারল্যান্ডের জুরিখ থেকেই সফরসঙ্গী হয়েছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাভেদ জারিফ। মাসুদ সুলাইমানিকে আনতে তিনি নিজে সুইজারল্যান্ডের জুরিখ পর্যন্ত যান।

তেহরানে পৌঁছে মুক্তিপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী বলেছেন, জ্ঞান-বিজ্ঞানে ইরানের উন্নয়নে ক্ষুব্ধ হয়েই আমেরিকা তাকে আটক করেছিল।

এক বছর আটক রাখার পর সুলাইমানিকে মুক্তি দিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতায় এই বিজ্ঞানীকে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ইরানও একজন চীনা বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাভেদ জারিফ শনিবার টুইটারবার্তায় লিখেছেন– আমি অত্যন্ত খুশি; কারণ প্রফেসর মাসুদ সুলাইমানি এবং মি. জিয়ু ওয়াং খুব শিগগির তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিলিত হতে পারবেন।

ওয়াং হচ্ছেন চীনা বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে আটক ওই মার্কিন নাগরিককে ইরান মুক্তি দিয়েছে।

২০১৮ সালের ২৫ অক্টোবর আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইরানি চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও স্টেম সেল বিশেষজ্ঞ ডক্টর মাসুদ সুলাইমানিকে শিকাগো বিমানবন্দর থেকে মার্কিন ফেডারেল পুলিশ বা এফবিআই আটক করে। আটকের সময়ও তার সঙ্গে বৈধ কাগজপত্র ও ভিসা ছিল।

বিনা অভিযোগে ও আদালতের কোনো নির্দেশ ছাড়াই এফবিআই এতদিন ইরানের এ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও গবেষককে আটলান্টা শহরে আটকে রেখেছিল। তাকে এমন কারাগারে রাখা হয়েছিল যেখানে ভয়ঙ্কর অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও বন্দি রয়েছে।

অন্যদিকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ২০১৬ সালের আগস্টে চীনা-আমেরিকান গবেষক জিউয়ে ওয়াংকে আটক করে ইরান।