যুক্তরাজ্যে নির্বাচন: শেষ টিভি বিতর্কে এগিয়ে জনসন

যুক্তরাজ্যে আগামী ১২ মে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে শেষবারের মতো টিভি বিতর্কে মুখোমুখি হয়েছেন প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী। তাঁরা হলেন প্রধানমন্ত্রী ও কনজারভেটিভ পার্টির নেতা বরিস জনসন এবং লেবার দলের নেতা জেরেমি করবিন। গতকাল শুক্রবার বিবিসি আয়োজিত ওই বিতর্কে ব্রেক্সিট, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তার মতো বহুল আলোচিত বিষয়গুলোয় নিজ নিজ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন দুই নেতা। ফলে, প্রচারণার মাঠে খুব একটা প্রভাব ফেলেনি এই বিতর্ক।

বিতর্কে কে ভালো করলেন—এ নিয়ে ইউগভ পরিচালিত জরিপে ৫২ শতাংশ মানুষ বরিস জনসন ভালো করেছেন বলে রায় দিয়েছেন। আর জেরেমি করবিনের প্রতি সমর্থন দিয়েছেন ৪৮ শতাংশ মানুষ।

ব্রেক্সিট কার্যকর করা নিয়ে দলীয় কলহ ও নেতৃত্বের পালাবদল সত্ত্বেও কয়েক বছর ধরে জনমত জরিপে এগিয়ে আছে কনজারভেটিভ পার্টি। আর অসততা ও মিথ্যাচারের নানা অভিযোগ সত্ত্বেও নেতা হিসেবে করবিনের চেয়ে এগিয়ে আছেন জনসন। সরাসরি টিভি বিতর্কে কোনো ভুল যাতে জনসনের জনপ্রিয়তায় ধস না নামায়, তা নিয়ে শুরু থেকেই সতর্ক ছিলেন কনজারভেটিভরা। কোনো অঘটন ছাড়া এই বিতর্কের পর্ব শেষ হওয়ায় অনেকটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন তাঁরা।

গতকালের বিতর্কে ব্রেক্সিট কার্যকর করা নিয়ে আবারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে জেরেমি করবিনের অবস্থান। জনসন তাঁকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে থাকবে কি না—এ নিয়ে করবিন যদি কোনো পক্ষ নিতে না পারেন, তাহলে তিনি কিসের ভিত্তিতে ইইউর সঙ্গে ব্রেক্সিট চুক্তির সমঝোতা করবেন। ব্রেক্সিট নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করতে না পারা করবিনের নেতৃত্বের ব্যর্থতা বলেও মন্তব্য করেন জনসন।

জবাবে জেরেমি করবিন জনসনের ব্রেক্সিট চুক্তির সমালোচনা করে বলেন, জনসন মানুষকে সত্যি কথা বলছেন না। তাঁর সম্পাদিত চুক্তি ইইউর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ ঘটাবে। কিন্তু বিশাল এই বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক কী হবে, তা নির্ধারণ করা হচ্ছে না। ফলে, জনসনের চুক্তি যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যতের জন্য বিরাট ঝুঁকি।

লেবার পার্টির নেতা-কর্মীদের কারও কারও বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ ঠিকমতো মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রশ্নের ‍মুখে পড়েন করবিন। ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ মোকাবিলা করতে না পারা করবিনের ব্যর্থতা বলে মন্তব্য করেন জনসন। অন্যদিকে, কনজারভেটিভ পার্টিতে নেতা-কর্মীদের মধ্যে মুসলিমবিদ্বেষী আলামত নিয়ে জবাব দিতে হয় জনসনকে। মুসলিম নারীদের নিয়ে জনসনের অতীত মন্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে জেরেমি করবিন বলেন, বিদেশি ও কোনো ধর্মীয় জনগোষ্ঠী নিয়ে এমন মন্তব্য তিনি কখনো করবেন না।

নির্বাচনী প্রচারণায় মিথ্যাচারের দায়ে রাজনীতিবিদদের কেমন শাস্তি হওয়া উচিত—এমন প্রশ্ন রসিকতা করে উড়িয়ে দেন জনসন। তবে করবিন বলেন, প্রতিটি নির্বাচন রাজনীতিবিদদের জবাবদিহি করার মোক্ষম সময়। তিনি সরকারের কর্মকাণ্ডে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আনার পক্ষে মত দেন।

ভোটারদের প্রতি শেষ আহ্বানে করবিন বলেন, বৈষম্য ও দরিদ্রতা ঠেকানো এবং অর্থনৈতিক সুবিচার নিশ্চিত করার জন্য তিনি এ নির্বাচন লড়ছেন। আর বরিস জনসন বলেন, ব্রেক্সিট নিয়ে পার্লামেন্টের কার্যক্রমে যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, সেটি সরাতে হলে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে কনজারভেটিভ পার্টির ক্ষমতায় ফেরা একমাত্র বিকল্প। ব্রেক্সিট কার্যকর করে কনজারভেটিভ পার্টি যুক্তরাজ্যের পুরো সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবন-মান উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াবে।