নুতন প্রজন্মই পারবে। ঐক্যবদ্ধ জাসদ গড়তে

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের আরেকটি ভাঙ্গন গতকাল সবাই প্রত্যক্ষ করেছেন।সারাদেশ থেকে অনেকেই আমাকে ফোনে বা ইনবক্সে জানতে চেয়েছেন আমার ঐক্যের আহ্বান মুহুর্তে দলের আরেকটি ভাঙন কি প্রমাণ করে? আমার আজকের লেখাটি শুধুমাত্র তাদেরকে উদ্দেশ্য করে।আমি আগেই স্পট করেছি সমাজতন্ত্র বিশ্বাসী আপোষহীন একটি রাজনৈতিকদল যখন তার ঘোষিত রাজনীতিকে দুরে রেখে শুধুমাত্র ক্ষমতা লিপ্সায় কোন বুর্জোয়া রাজনীতির সাথে আপোষ লেজুড়বৃত্তি করবে তাদের পরিণতি এমনটাই স্বাভাবিক। যেটা ইতিপূর্বে হয়েছে জাসদে ও সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টতে আর গতকাল জেএসডিতে। বুর্জোয়াদলের সাথে আপোষ, লেজুড়বৃত্তি ও কতৃত্ববাদী নেতৃত্বর কারনে জাসদ,ওয়ার্কার্স পার্টির পরে এবার জেএসডিতে ভাঙ্গন।। এটা হতেই পারে লেনিন যখন স্যোসাল ডেমোক্রেটিক লেবার পার্টি ত্যাগ করে বলশেবিক পার্টি গড়েন তখনও অল্প কয়েকজন নিয়ে শুরু করেন। মূল হল রাজনীতি। আমি এঘটনায় একচুলও বিস্মিত নই বরং আমি মনে করি এঘটনার মধ্যেদিয়ে আমার বর্তমান দলীয় নেতৃত্বের অন্তঃসার শুন্যতার বক্তব্য প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।বর্তমান জাসদ নেতৃত্ব আজকে আপোষমুখী,সুবিধাবাদের কারনে এদলকে নেতৃত্ব দেবার অযোগ্য এটাই প্রমাণ করছে।।এ বিভক্তি আমার জাসদকে নুতন প্রজন্মের হাতে তুলে দেবার দাবিকেই জোরালো করেছে।।

সমাজবিপ্লবে বিশ্বাসী একটি রাজনৈতিকদল একটি চেতনার উপরে প্রতিষ্ঠা পেয়ে থাকে। জাসদের সমালোচক যারা তারা যতকথা বা সমালোচনাই করুক আমি মনে করি জাসদ একটি চেতনার নাম যার সাথে জড়িয়ে আছে এদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ।। মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা একটি অসাম্প্রদায়িক গনতান্ত্রিক শোষণহীন সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশের সপ্ন।এদলের সাথে জড়িয়ে আছে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধার নাম যার আংশিক ইতিমধ্যে আমি প্রকাশ করেছি।এখনো নুতন নুতন নাম পাচ্ছি। আজ সকালেও কয়েকজন জানিয়েছে তাদের বাবা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং জাসদের রাজনীতি করতেন।।জাসদের রাজনীতি করতে গিয়ে যারা জীবন দিয়েছেন তাদের অনেকের ভাই,সন্তান, ভাতিজা আমার সাথে ফেসবুকে যুক্ত হতে ইনবক্স করছেন। আমি গত এক সপ্তাহ এরুপ প্রায় তিন শতাধিক রিকোয়েস্ট পেয়েছি।বিশেষ করে মেজর জলিলের কন্যা ব্যারিস্টার সারা জলিল ও কমরেড সিরাজুল আলম খানের ভাতিজি ব্যারিস্টার ফারহা খানের নাম প্রচারিত হবার পরে এ প্রবনতা আরো বেড়ে গেছে।।আমি এটাকেই আগামী জাসদ রাজনীতির ইতিবাচক দিক বিবেচনা করতে চাই।।ব্যারিস্টার সারা জলিলকে নিয়ে দেওয়া পোষ্ট ও ব্যারিস্টার ফারহা খানের ঐক্যের আহ্বানে ব্যাপক সাড়াই তার বড় প্রমান।।

এবার যারা জেএসডির ভাঙ্গন নিয়ে হতাশ তাদেরকে বলতে চাই রাজনীতি একটি বিজ্ঞান আর বস্তুবাদী রাজনীতি আরো অধিকতম বিজ্ঞান মেনে চলে।।বিজ্ঞানের মহাকর্ষ সুত্রমতে অনুপরমানুর বিভাজন আছে। আকর্ষন বিকর্ষন আছে।আজকে জাসদও সেভাবে বিভাজিত হয়েছে।বিভিন্নজন বিভিন্ন মেরুতে অবস্থান নিয়ে অালাদা আলাদা বলয় তৈরী করেছে।এটাই বিকর্ষন। যেহেতু আকর্ষন তত্ত্ব মোতাবেক সকলের মধ্যে একই চেতনা বিরাজমান সেকারনে আজকে এখানেও বিভিন্ন বলয় আবার একটি কক্ষে একত্রিত হতে পারে।সেকারণে দরকার আরেকটি কক্ষের আবির্ভাব। আমি সেই নুতন কক্ষের সন্ধান করতেই আমাদের নুতন প্রজন্মকে সামনে আনতে চেয়েছি।।যেখানে জাসদীয় চেতনা আবার পুনঃএকত্রিত হতে পারে।।

আজকে দীর্ঘদিনের পুরাতন রাজনৈতিকদল আওয়ামীলীগও তাদের শিকড়ের সন্ধানে নেমেছে।আজকে তারা যারা পারিবারিকভাবে আওয়ামীলীগ তাদেরকে খুজে বের করে দলীয় নেতৃত্বে আনতে শুরু করেছে।।আজকে জাসদকেও তার শিকড়ের সন্ধানে নামতে হবে।হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধার হাতে গড়া জাসদ। হাজার হাজার শহীদ সাথী সহযোদ্ধার রক্তে রঞ্জিত জাসদ। আজকে জাসদকেও সেই সকল মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ সাথীদের পরিবার ও সন্তানদের খুজে বের করে জাসদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করতে হবে।।আমার দৃঢ় বিশ্বাস যাদের পিতা আপোষহীন লড়াই করে একটি অসাম্প্রদায়িক গনতান্ত্রিক শোষণহীন সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশের সপ্ন দেখেছিলেন তার সন্তানও এই চেতনার বাইরে যেতে পারে না।।

জাসদ কেন অন্যান্য দল থেকে আলাদা বৈশিষ্ট্যের? জাসদ ছাড়া আর কোন দল রাজনৈতিক শক্তির পাশপাশি বিভিন্ন সামাজিক শক্তিকে রাষ্ট্র ক্ষমতার অংশীদারিত্ব দিতে চায় না।জাসদ ফেডারেল রাষ্ট্র কাঠামো,দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট ও সংখানুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থায় বিশ্বাস করে।এটাই সময়ের দাবি।। আজকে নুতন প্রজন্মের নেতৃত্বে সমাজশক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে জাসদকে তার ঘোষিত রাজনীতিকে জনগনের সামনে তুলে ধরতে হবে।পুরাতন বস্তাপচা বুলিসর্বস্ব ঘুণেধরা রাজনীতির পাল্টা সমাজ কাঠামো বদলের নয়া রাজনীতি আজকে জনগনের প্রত্যাশা।আর সেটা একমাত্র জাসদেরই আছে।। সরকার কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়ে জনগণের প্রকৃত শাসন প্রতিষ্ঠা করার রাজনীতি অর্থহীন করে তুলেছে। রাষ্ট্রকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।এই রাজনৈতিক শুন্যতা থেকে মুক্তি পেতেই আজ ঐকমত প্রয়োজন।।

তাই আসুন এইসব ভাঙ্গনে বিচলিত বা হতাশ না হয়ে আপোষকামিতা,দোদুল্যমানতা সুবিধাবাদ ও বুর্জোয়াদলের লেজুড়বৃত্তি পরিহার করে নুতন প্রজন্মের নেতৃত্ব গড়ে জাসদীয় চেতনার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করি।।স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী পাকিস্তানি ধারা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে দুর্নীতি, দুঃশাসন, দখলবাজি,চাঁদাবাজি, লুটপাট কে প্রতিহত করতে আপোষহীন লড়াকু ঐক্যবদ্ধ জাসদ গড়ে তুলি।।আর একবার লড়াই করে হাজার সাথীর সপ্ন অসাম্প্রদায়িক গনতান্ত্রিক শোষণমুক্ত,বৈশম্যহীন সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করি।। গৌরবোজ্জ্বল ৪৭ বছর।আপোষহীন জাসদ কখনও বুর্জোয়া রাজনৈতিকদলের লেজুড়বৃত্তি করতে পারে না।লড়াই সংগ্রাম জাসদের রাজনীতি এর বাইরে যারা তারা নীতিভ্রষ্ট, সুবিধাবাদী।। বাঙ্গালী জাতির প্রতিবাদী চরিত্রের বিস্ফোরিত রুপ ৭১এর মুক্তিযুদ্ধ; যার সংগঠিত প্রতিরুপ ৭২এর জাসদ।বুর্জোয়া রাজনৈতিকদলের সাথে আপোষকামিতা,লেজুড়বৃত্তি পরিত্যাগ করুন নুতন প্রজন্মের ঐক্য গড়ে তুলুন।।

#প্রযুক্তি নির্ভর নতুন সভ্যতা ও সমাজে, অতীত আশ্রয়ী না হয়ে, আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে জাতির ভবিষ্যৎ নির্মানে কোন সাহসী প্রচেষ্টা জাসদ ঘরানার মানুষদের রাজনীতিতে ও দেশ সেবায় উদ্বুদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ করতে পারে।#
আসুন সাহসী নেতৃত্ব আর সাহসী প্রচেষ্টায় আপোষহীন জাসদ গড়তে সবাই আবার এক পথে চলি।।জয় আমাদের হবেই।।বিভক্তির মাঝে করুণা ভিক্ষা না করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ন্যায্যতার দাবী করুন।।
Source:Facebook
writer:Ahmedfazlur Rahman Murad