‘জেএসডির বিদ্রোহীদের’ মূল ধারায় ফিরে আসতে আহ্বান রবের

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির বিদ্রোহীদের দলের মূল ধারায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন পার্টির সভাপতি আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বাধীন অংশটি। জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতনসহ শনিবার সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া আটজন নেতার উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সভা থেকে এ আহ্বান করা হয়।

শনিবার বিকালে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সভার পর এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানানো হয়।
সভায় তাদেরকে ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে দলের মূল ধারার সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য সময় বেধে দেওয়া হয়। এ সময়ের মধ্যে দলে ফিরে না এলে দলের আগামী কাউন্সিলে তাদের সম্পর্কে কাউন্সিলাররাই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বলে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, দলের সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে জাতীয় প্রেসক্লাবে সকালে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে আবদুল মালেক রতন তার নেতৃত্বে থাকা অংশটিই পার্টির মূল ধারা বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, আমরা মূল জেএসডি। এ সময় তিনি দলের সভাপতি আ স ম আব্দুর রবের নেতৃত্বাধীন অংশটির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির সাথে গভীর আঁতাতের অভিযোগ আনেন।

এদিকে, শনিবার অনুষ্ঠিত জেএসডির কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সভায় বক্তব্য রাখেন জেএসডি স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য মোহাম্মদ সিরাজ মিয়া, মিসেস তানিয়া রব, শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ওয়ালী আহম্মেদ পাটোয়ারী, অ্যাড. আবদুর রহমান, আবদুল জলিল চৌধুরী, এম এ আউয়াল, অ্যাড. সানোয়ার হোসেন তালুকদার, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী, অ্যাড. সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল, আহসান উদ্দিন চৌধুরী সুইট, অ্যাড. বিকাশ চন্দ্র সাহা, লোকমান হাকিম, আবদুর রাজ্জাক রাজা, অ্যাড. কাউছার নিয়াজী, মতিউর রহমান মতি প্রমুখ।

সভায় গৃহীত জেএসডি’র রাজনৈতিক প্রস্তাবে বলা হয়, বিদ্যমান শাসক শ্রেণির পক্ষে রাষ্ট্রকে সংকট থেকে উত্তরণ ঘটানো সম্ভব নয়। অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার কূট কৌশলের আশ্রয়ে জনগণের প্রকৃত শাসন প্রতিষ্ঠা করার রাজনীতি অর্থহীন করে তুলেছে। প্রজাতন্ত্রে জনগণের সাংবিধানিক মালিকানা ক্রমাগতভাবে অস্বীকার করে রাষ্ট্রকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। জনগণের রাজনৈতিক-শাসনতান্ত্রিক অধিকার ক্রমাগতভাবে বলপ্রয়োগে দমন করার ফলে রাষ্ট্র এবং সমাজে প্রবাহমান রাজনীতির ধারা দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ফলে দেশের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সংকট গভীর পর্যায়ে উপনীত। রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনের অবাধ প্রতিযোগিতায় এবং আধিপত্য বিস্তারের নেশায় সরকার দলীয় উপসংগঠনের মাঝে ঘোর অন্তদ্বন্দ্বের চরম পর্যায়ে পুলিশি অভিযানের নামে নাটক দুর্নীতিকে আরো ব্যাপকতা দান করেছে। বিদ্যমান শাসক শ্রেণির পক্ষে রাষ্ট্রকে আর রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণ ঘটানো সম্ভব নয়। জনগণের অসন্তোষ ও ক্ষোভের তীব্রতা, বঞ্চনা ও যন্ত্রনাবোধ এক চূড়ান্ত রূপ পরিগ্রহ করছে। সুতরাং সকল রাজনৈতিক শক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে সরকারের পতনকে ত্বরান্বিত করতে শ্রম-কর্ম-পেশার অংশীদারিত্ব ভিত্তিক রাষ্ট্রীয় রাজনীতির স্তরে আত্মপ্রকাশ করা এখন সময়ের করণীয়।

বিডি-প্রতিদিন