অবসরের আগে প্রশিক্ষণে বিদেশ যাচ্ছেন ৬ কর্মকর্তা, স্ত্রীরাও সঙ্গে থাকবেন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের ব্যাপারে সতর্ক করার পরও তা বন্ধ হচ্ছে না। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন অবসর গ্রহণের দুমাস আগে প্রশিক্ষণ নিতে তুরস্ক যাচ্ছেন। পূর্ত মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশনের আরও পাঁচ কর্মকর্তাও যাচ্ছেন এ প্রশিক্ষণে। প্রকৌশলীদের জন্য প্রশিক্ষণে যুক্ত হয়েছে আমলা ও তাদের স্ত্রীরা। ৯ দিনের এই ভ্রমণের জন্য সরকারের রাজস্ব খাত থেকে ব্যয় হবে অর্ধকোটি টাকারও বেশি। এমন সফর নিয়ে অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চলছে সরস আলোচনা-সমালোচনা। কেউ কেউ বলছেন, স্ত্রীদের সঙ্গে নিলে প্রমোদভ্রমণ হয়, প্রশিক্ষণ হয় না। সমকাল

জানা যায়, আগামী ৩০ ডিসেম্বর অবসরে যাবেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন। এর দুইমাস আগে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে ভবন সুরক্ষা উন্নতিকরণ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ নিতে গণপূর্তের ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের তুরস্ক ভ্রমণের বিষয়টি চূড়ান্ত করেছেন তিনি। প্রতিনিধি দলটির ভ্রমণের সময় ছিলো গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত। কিন্তু কয়েকজনের ভিসা জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে প্রতিনিধি দলটি যেতে পারেনি। ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণের সব আয়োজন শেষ হয়েছে। যে কোনো দিন তারা তুরস্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন। প্রতিনিধি দলে আছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব শহিদ উল্লা খন্দকার ও তার স্ত্রী রোকেয়া শহীদ। পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সিনিয়র সহকারী চিফ (প্রধান) সালাহ উদ্দীন ও তার স্ত্রী ফারজানা ইসলাম আঁখি। এই দুই কর্মকর্তার কেউই কারিগরি বিষয়ক নন। প্রতিনিধি দলে আছেন গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মঈনুল ইসলাম, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ডিজাইন বিভাগ-৫ এর নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসাইন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগ-৩ এর নির্বাহী প্রকৌশলী এ এন এম মাজাহারুল ইসলাম।

আরও জানা যায়, ভ্রমণের জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩ থেকে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ৩টি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কোটেশন চাওয়া হয়। এতে ট্রেনিং অ্যান্ড টেকনোলজি ট্রান্সফার (টিটিটি) নামের একটি প্রতিষ্ঠান প্রশিক্ষণ গাইড হিসেবে কাজ পায়। এ জন্য খরচ ধরা হয়েছে ৫৫ লাখ ৯৮ হাজার ৩৫৫ টাকা। এর মধ্যে বিমানে আসা-যাওয়া খরচ ২২ হাজার ১৯৪ ডলার, প্রতিদিনের খরচ ১২ হাজার ৩৫৬ ডলার, অনুষ্ঠান সংক্রান্ত খরচ ২৫ হাজার ৫০ ডলার এবং প্রশিক্ষণের ভ্যাট-ট্যাক্স বাবদ খরচ ধরা হয়েছে ৬ হাজার ২৬৩ ডলার।

এ ব্যাপারে গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন বলেন, অবসরে যাচ্ছি বলেই যে প্রশিক্ষণ নিতে যাওয়া যাবে না, এমন কোনো কথা নেই। অবসরের পরেও তো আমি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পারি। তখন এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যাবে। কারিগরি ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে আমলাদের অন্তর্ভুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে কোনো সফরেই মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি থাকেন। এ জন্যই তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্ত্রীদের সঙ্গে নেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্ত্রীদের ভ্রমণের খরচ তাদের স্বামীরা বহন করবেন। কাজেই তাদের জন্য সরকারের কোনো টাকা খরচ হবে না। স্ত্রীরা সঙ্গে থাকলে প্রশিক্ষণে ব্যাঘাত ঘটবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই তো আর প্রশিক্ষণ হবে না।
এমআই/এসবি