ক্ষমতার দানব অশিক্ষার দানবের চেয়েও ভয়ংকর

আমি এমনিতে অনেক কিছু জানি। ইংরেজিতে ‘রঁদেভূঁ’ বানান জানি, বাংলায় ‘কিংকর্তব্যবিমূঢ়’ও বলতে লিখতে জানি। কিন্তু আমি নিশ্চিত বড় কোনো সাহেব দারোগার ভঙ্গিতে (ইন্সপেকশনে) এসে আমাকে ‘গরু ঘাস খায়’ ইংরেজি অনুবাদ করতে বললেও থতমত খেয়ে ‘আই ঈট গ্রাস’ বলে ফেলতে পারি। প্রশ্নকারীর কানে চটকানাও লাগিয়ে বসতে পারি। থতমত খাওয়া মানুষ পারে! একটি স্যররিয়্যাল দৃশ্য ইনবক্স করলেন এক বন্ধু। একজন ডিসি সাহেব একজন স্কুল শিক্ষককে বানান-টানান হাবজাবি কিছু জিজ্ঞেস করেছিলেন। শিক্ষক পারেননি বা ভুলভাল করেছেন। ডিসি সাহেব সবার সামনে তাকে যাচ্ছেতাই অপমান তো করলেনই, কীভাবে নিয়োগ পেলো, অভিভাবকরা যেন এইরকম শিক্ষকদের লাঠিপেটা করেন নানা অপমানের খই ফোটালেন।

অসুস্থ বোধ করছি ফেসবুকে কমেন্টগুলো দেখে। গুটিকয় বাদে বেশির ভাগই ডিসি সাহেবকে বাহবা দিয়েছেন। কে না জানে শিক্ষকদের বড় অংশই রাজনীতিক, ঘুষ দিয়ে চাকরিতে ঢোকেন, পড়াশোনা করেনও না, জানেনও না। বিদ্যোৎসাহী নন, সৎ ও নন। শিক্ষক হওয়ার যোগ্যই নন। কিন্তু শিক্ষাব্যবস্থা বরবাদ করে দিয়েছে একটি যে সিস্টেমটি ডিসি সাহেব নিজেও সেই সিস্টেমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি নিজেও তাই অশিক্ষিত ও গ-মূর্খই! তার চাকরি যে ক্ষমতাদর্পিতা বা মাস্তানি টাইপ চোটপাট কিংবা বেয়াদবি করার জন্য নয় সেটিই তো শেখেননি।

ডিসি সাহেব সব দেখে-শোনে বুঝে ভদ্রভাবে চুপচাপ চলে গিয়ে জ্বালাময়ী প্রতিবেদন লিখতে পারতেন; শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ কাঁপিয়ে দিতে পারতেন। শিক্ষা সংস্কারের নেতৃত্ব দিতে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারতেন। রাতকে দিন বানিয়ে ফেলতে পারা পরিবর্তনের ক্ষমতা তো তাদের হাতেই, দুটো ভাত-ডাল আর সন্তান-স্বজনদের প্রয়োজনে (ঘুষ দিয়ে ধরে নিলাম) শিক্ষকতা পেশায় নামা মানুষটির হাতে তো নয়। ক্ষমতার দানব অশিক্ষার দানবের চেয়ে ভয়ংকর। দানব ক্ষমতা ও অশিক্ষা দুটিরই সৃষ্টি হলে সেই দানব মহাদানব। তার মধ্যে নায়কত্ব খুঁজে পাওয়াই দেখিয়ে দ্যায় আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা আসলে কোন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। ফেসবুক থেকে
লেখক:হেলাল মহিউদ্দিন