মানবতাবিরোধী অপরাধ : রাজশাহীর মুসার মৃত্যুদণ্ড

মহান মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বাঁশবাড়িয়ার আব্দুস সামাদ মুসা। মঙ্গলবার বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই রায় দেন।

আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত চারটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দিলেন আদালত। এটি এই ট্রাইব্যুনালের ৩৯তম রায়। রায় ঘোষণার সময় আসামি কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলো। ২০১৭ সালে ২৪শে জানুয়ারি মুসাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন আবদুস সামাদ মুসার নেতৃত্বে পশ্চিমভাগ এবং গোটিয়া গ্রামে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয়।

১৯৭১ সালের ১২ই এপ্রিল মুসার সহযোগিতায় পাকিস্তানি আর্মিরা পুঠিয়ায় হত্যাযজ্ঞ ও অগ্নিসংযোগ শুরু করে। ১৯শে এপ্রিল পাকহানাদার বাহিনী নিয়ে বাঁশবাড়িয়া গ্রামে যায় মুসা। সেখানে ২১ জনকে আটক করে গোটিয়া গ্রামে নিয়ে যায়। ওই গ্রামে ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের বাড়িতে নিয়ে তাদের দিনভর নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে ১৭ জনকে ছেড়ে দেয়া হলেও চারজনকে পুঠিয়ার দুর্গাপুরে মুসার নির্দেশে গুলি করে হত্যা করা হয়।

একইভাবে মুসার নির্দেশে পশ্চিমভাগ মাদ্রাসার সামনে আক্কেল আলীর ছেলে আবদুস সাত্তারকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়া পশ্চিমভাগ সাঁওতালপাড়ার আদিবাসী লাডে হেমব্রমের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করারও অভিযোগ ছিল মুসার বিরুদ্ধে।
এই মামলায় ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর ঋষিকেশ সাহা ও প্রসিকিউটর জাহিদ ইমাম। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আবদুস সাত্তার পালোয়ান।