চলন্ত বাসে ধর্ষণ চেষ্টা, গতিরোধ করে গৃহবধূকে বাঁচালো পেছনে থাকা ট্রাক

নগরীর চট্টগ্রাম ক্লাবের সামনের সড়কে গত শনিবার মধ্যরাতে এই ঘটনা ঘটেছে। ওই গহবধূর চিৎকারে বাসের পেছনে থাকা একটি গরু বোঝাই ট্রাকের চালক বাসটির গতিরোধ করে স্থানীয় লোকজনের সহযোগীতায় বাসের চালক ও সহকারীকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এই ঘটনায় বাসচালক রবিউল আউয়াল (২২) ও সহকারী মো.হৃদয় (২৪) গ্রেপ্তার হয়েছে। প্রথম আলো

গৃহবধূর মামলা সূত্র জানায়, গত শনিবার রাত ১১টায় বাবার বাড়ি আনোয়ারা উপজেলা থেকে তিনি শাহ আমানত সেতু এলাকায় পৌঁছান। কিন্তু বাসার চাবি বাবার বাড়িতে ফেলে আসায় তিনি নগরীর দেওয়ানহাটে চাচাতো বোনের বাসায় যাওয়ার উদ্দেশে বহদ্দারহাটের এক নম্বর রুটের বাসে ওঠেন। বাসটি জিইসি মোড়ে যাওয়ার পর অন্যান্য যাত্রীরা নেমে যান। এ সময় রবিউল ও হৃদয় গৃহবধূকে দেওয়ানহাট মোড়ে নামিয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে বাস চালানো শুরু করেন। কিন্তু বাসটি লালখান বাজার মোড়ে যাওয়ার পর দেওয়ানহাটের দিকে না গিয়ে গতিপথ বদলে কাজীর দেউড়ির দিকে যাওয়া শুরু করে। গৃহবধূ তাদের অসৎ উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে তাকে নামিয়ে দেয়ার জন্য বলেন।

গৃহবধূর অভিযোগ, তার কথা না শুনে দ্রুতগতিতে বাসটি চালিয়ে কাজীর দেউড়ির দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো। চট্টগ্রাম ক্লাবের সামনে যাওয়ার পর হৃদয় তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি চিৎকার করেন এবং জানালা দিয়ে লাফ দেয়ার চেষ্টা করেন। তার চিৎকারে বাসটির পেছনে থাকা গরুবাহী একটি ট্রাকের লোকজন তা বুঝতে পেরে বাসটিকে ধাওয়া করতে শুরু করে। বাসটি কাজীর দেউড়ি মোড়ে পৌঁছালে গরুবাহী ট্রাকটির চালক বাসটির সামনে গিয়ে পথরোধ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার বলেন, বাসের সামনে ট্রাকটি গতিরোধ করে রাখলে তারা এগিয়ে যান। তখন গরুর ট্রাকে থাকা লোকজন বলেন, গাড়ির মেয়েটি বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করছিলেন। শুনতে পেয়ে তারা বাসটিকে ধাওয়া করেছেন। এ সময় বাসের চালক ও সহকারীকে আটক করেন স্থানীয় লোকজন। পরে দুজনকে পুলিশে সোপর্দ করেন।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, বাসের পেছনে ছিলো গরু বোঝাই একটি ট্রাক। ট্রাকের চালক চিৎকার শুনে দ্রুত ট্রাকটিকে বাসের সামনে নিয়ে গতিরোধ করেন। এ সময় গৃহবধূ দ্রুত বাস থেকে লাফিয়ে রাস্তায় পড়েন। তখন স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে বাসের চালক ও সহকারীকে ধরে ফেলেন। এর মধ্যে টহল পুলিশও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। দুজনকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়। সোমবার দুজনকে আদালতে নেয়া হবে।