মিশরের পর এবার সৌদি আরবও গ্যাস কিনবে ইসরাইল থেকে

ইসরাইলের কাছ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস কেনার ব্যাপারে আলোচনা করছে সৌদি আরব। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একজন মিত্র এ কথা জানিয়েছেন। দুই দেশের সম্পর্কের উষ্ণতার মাত্রা কতটুকু তার ইঙ্গিত মিলছে এই আলোচনার খবর থেকে। মার্কিন প্রখ্যাত ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়ক সংবাদ মাধ্যম ব্লুমবার্গকে এই আলোচনার কথা জানিয়েছেন নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার সাবেক সদস্য আইয়ুব কারা। তিনি বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই কথা বলেছেন। তার মতে, লোহিত সাগরের পাশে অবস্থিত ইসরাইলি বন্দরনগরি এইলাত ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের বিষয়ে দু’দেশ আলোচনা করেছে। এই আলোচনায় আরো উঠে এসেছে ইসরাইলের এইলাত-আশকেলন পাইপলাইনের সঙ্গে সৌদি আরবের সংযুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও। এই পাইপলাইনে যুক্ত হলে, হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করা ছাড়াও ইউরোপ ও অন্যান্য বাজারে তেল রপ্তানি করতে পারবে সৌদি আরব।
প্রসঙ্গত, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ হরমুজ প্রণালির জ্বালানিবাহী একাধিক ট্যাঙ্কার বেশ কয়েক মাস ধরেই আক্রমণের শিকার হয়েছে। এজন্য ইরানকে দায়ী করেছে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে শেষ অবদি ইসরাইলি পাইপলাইনের সঙ্গে সৌদি আরব যুক্ত হলে, এর রাজনৈতিক মূল্য চড়া হতে পারে। ইসরাইল ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রকাশ্যে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। অথচ, ইসরাইল ও প্রতিবেশী জর্ডানের মধ্যে নব্বইয়ের দশক থেকে কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু দুই দেশ যখন একটি আকর্ষণীয় গ্যাস চুক্তি স্বাক্ষর করে, তারপর থেকে কয়েক মাস ধরে গণবিক্ষোভ দেখা দেয় জর্ডানে।
ইসরাইলি সাবেক মন্ত্রী কারা বলেন, ফিলিস্তিন নিয়ে আর অত সচেষ্ট নয় সৌদি আরব। শুধু বলতে হবে বলেই মাঝেমাঝে কিছু উচ্চবাচ্য করে দেশটি। কারার ভাষ্য, তাদের এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা নিরাপত্তা ও তাদের দেশের ভবিষ্যৎ। এটি এখন অভিন্ন স্বার্থের বিষয়। প্রসঙ্গত, ইরানকে ইসরাইল ও সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় কিছু দেশ অভিন্ন শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে।
ইসরাইলে পাইপলাইন স্থাপন অনেক সুদূরপরাহত মনে হলেও, সৌদি আরবের তেল জায়ান্ট আরামকো আগামী ১০ বছরে প্রাকৃতিক গ্যাস প্রকল্পে ১৬০০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। অপরদিকে ইসরাইলের গ্যাস মজুতের ৮০ শতাংশই ক্রেতাদের জন্য উন্মুক্ত। ফলে সেদিকে আকৃষ্ট হচ্ছে সৌদি আরব। তবে প্রতিবেশী কাতার প্রাকৃতিক গ্যাস খাতে বিশ্বের অন্যতম বড় রপ্তানিকারক হলেও, সৌদি আরব সেদিকে আকৃষ্ট নয়। কারণ, অনেকদিন ধরেই বিভিন্ন ইস্যুতে কাতারের সঙ্গে সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের নেতৃত্বে অনেক দেশ সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। এদিকে নভেম্বর থেকে মিশরে প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি শুরু করবে ইসরাইল। এর আগে গ্যাস আমদানির জন্য ইসরাইলের সঙ্গে ১৫০০ কোটি ডলারের চুক্তি সই করে প্রতিবেশী মুসলিম দেশ মিশর।