চলতি বছরে ১৭ হাজারের বেশি মানব পাচার হয়েছে

২০১৩ সাল থেকে ৩০ জুলাই বিশ্ব মানবপাচার বিরোধী দিবস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হয়। গতকাল এ দিবসটি উপলক্ষ্যে রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে সোমবার আয়োজিত এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল ইসলাম। তিনি জানান,‘ আমাদের দেশে মানবপাচারের ৯০ শতাংশ হয়ে থাকে অবৈধ অভিবাসন কেন্দ্রিক।’

ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন পথ ব্যবহার করে বাংলাদেশের লোকজনের বিদেশে পাড়ি দেওয়া থামছে না।ভাগ্য বদলাতে অনেকে দেশ-বিদেশি মানব পাচারকারীদের প্রলোভনের শিকার হচ্ছেন। গত মে মাসে তিউনিসিয়ার উপকূলে ভূমধ্যসাগরে এলাকায় নিখোঁজ ৩৯ বাংলাদেশির নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে।২০১৮ সালের অক্টোবরে মেক্সিকোর দুর্গম পথে প্রায় ২০০ বাংলাদেশি আটক হন। তাঁদের গন্তব্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের গত বছরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র পৌঁছাতে আগ্রহী অবৈধ অভিবাসীদের দুবাই থেকে ব্রাজিলে নেওয়া হয়। এরপর বলিভিয়া, পেরু, ইকুয়েডর, পানামা সিটি আর গুয়াতেমালা হয়ে নেওয়া হয় মেক্সিকোতে। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে আটক করা হয় ১৯২ জন বাংলাদেশিকে। তাঁদের গন্তব্য ছিল মালয়েশিয়া।আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে লিবিয়া থেকে ইউরোপে যাওয়ার পথটি হচ্ছে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ওই পথ দিয়ে ইতালি যাওয়ার সময় প্রতি ৫০ জনের ১ জন মারা গেছে। আর এ বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত অন্তত ১৭ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসী ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইউরোপে ঢুকে পড়েছে।এ সময়ে সাগরে হারিয়ে গেছে অন্তত ৪৪৩ জন।
জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ দপ্তরের (ইউনিডক) ২০১৮ সালের মানব পাচারবিষয়ক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিম ও দক্ষিণ ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে দক্ষিণ এশিয়ার অন্তত ৫ শতাংশ নাগরিককে পাওয়া গেছে। দক্ষিণ এশিয়া থেকে মানব পাচারের শিকার হওয়া এসব লোক মূলত ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের নাগরিক। এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার লোকজন বিশ্বের ৪০টি দেশে মানব পাচারের শিকার হয়।