রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নাকি জনগণের ক্ষমতা:আহমেদফজলুর রহমান মূরাদ

সুমন দেবনাথরা সত্য উৎপাদন করার ক্ষমতা রাখে। রিফাতের বাপের প্রেস কনফারেন্স তো সামান্য বিষয়, এরা চাইলে নয়ন বন্ড আসলে দায়েশের সদস্য ছিলো আর মিন্নির কাজ ছিলো দায়েশের জন্য মহিলা সদস্য রিক্রুট করা, এমন সত্যও মানুষের মুখ দিয়ে বের করতে পারে। এদের সত্য হলো চরম স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতার সত্য। এই সত্য ফ্যাক্টের ওপর নির্ভর করে না। করে ফিকশনের ওপর। বাংলাদেশে দুই কোটিরও বেশি মানুষ ভালোভাবে খেতে পায় না (জাতিসংঘের প্রতিবেদন, ২০১৯) এটা একটা ফ্যাক্ট, আর বাংলাদেশ উন্নয়ন করতে করতে সিঙ্গাপুর মালয়েশিয়াকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে এটা একটা ফিকশন। প্রথমটা আপনি কমই শুনবেন, দ্বিতীয়টা শুনবেন সারাক্ষণ।

এই দেশে দাগী আসামীদের জন্যও আইনজীবী পাওয়া যায়, পাওয়া যাচ্ছে না শুধু মিন্নির জন্য, মানুষ তো এতো বোকা নারে ভাই যে এর পেছনের আওয়ামি রাজনীতিটা বুঝবে না।কিন্তু এটা করেও কি পরিত্রাণ জুটবে।সারাদেশব্যপী মানুষের যে প্রতিবাদ সেখানে কোন রাজনৈতিক বিবেচনীয় নেই আমার জানামতে বহু আওয়ামীলীগ ছাত্রলীগ সমর্থকরাও এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। আজকে সবাই বুঝতে পারছে বরগুনার মাদক সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে মাদক সম্রাট আজকে খুনিদের রক্ষায় মাঠে নেমেছে।রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে অপব্যবহার করে আজ তারা যে অন্যায় কাজ শুরু করেছেন সেটা জনগনের কাছে পরিষ্কার।। ১৯৯১ -৯৬ মেয়াদে দিনাজপুরের ইয়াসমিনকে পতিতা বানানোর চেষ্টা করেছিলো তৎকালীন বি,এন,পি সরকার । পারে নাই আন্দোলনের কারনে , গণমাধ্যমের কারনে ।জনগনের প্রতিবাদ রাষ্ট্রীয় অনাচারকে প্রতিহত করবেই।।

ডিআইজি মিজানকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ,মিন্নিকে ১২ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদের নামে মানসিক নির্যাতন ও গ্রেফতার করে জেল,পাঁচ দিনের রিমান্ড! কেনো? তাকে কি জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতোনা?পাচদিনের রিমান্ডে যেখানে রাখা হবে সেখানে নারীর জন্য টয়লেট আছে?নারী পুলিশ রিমান্ডে থাকবেন? একজন আইনজীবি তার পক্ষে দাঁড়ালেননা কেনো?তার মানেইতো একটি ভয়ংকর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পৃষ্টপোষকতায় অপরাধের দূর্গ গড়ে উঠেছে।সন্ত্রাস ও অর্থ বানিজের সিন্ডিকেটের কাছে ভয়ে সবাই জিম্মি।।

এখন রিমান্ড নিয়ে তাকে দিয়ে জজ মিয়ার মতো সীকারোক্তী আদায় কোন বিচিত্র ঘটনা নয়।যেখানে রাষ্ট্র ও প্রশাসন ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় চলে তখন ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে এটাই স্বাভাবিক।। কিন্তু জনগন কি সেটা বিশ্বাস করবে? এমপি পুত্র সুমন দেবনাথের সমস্ত কর্মকৌশলই প্রমাণ করছে সেই এই হত্যার মুল পরিকল্পনাকারী। নয়ন বন্ড ক্রসফায়ারে নিহত হবার পরে তার মা বলেছিল ” আমার ছেলে মারা গেছে এখন কোথায় এমপি পুত্র?” এর থেকে পরিস্কার নয়ন বন্ডের সকল অপকর্মের গড ফাদার ছিলো এমপি পুত্র সুমন দেবনাথ।

নয়ন বন্ডকে ক্রসফায়ার করিয়ে সুমন দেবনাথ তার অপরাধের সাক্ষী সরিয়ে দিলেও সে তার পরবর্তী কার্যক্রম দিয়ে নিজেকেই জড়িয়ে ফেলছেন।তিনি বার বার সাবেক এমপি দেলোয়ার হোসেনকে খুনি রিফাত ফারাজি ও রিশাদ ফারাজির আত্বীয় বলে তীরটা তার দিকেই ছুড়লেও নয়ন বন্ডের মা নয়ন মারা যাবার পরে কেন তাকে খুজছেন সেটা নিয়ে কিছুই বলছেন না।সুমন দেবনাথ একঢিলে তিন পাখি মারতে গিয়ে আজ নিজেই ধরা খেয়েছেন।তার মাদক সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে সে নয়ন বন্ডকে ক্রসফায়ার করিয়েছে রিফাত ফারাজি রিশাদ ফারাজি খুনের অপরাধে কারাবন্দী। এখন এই মামলাকে ভিন্ন খাতে নিতে পিতৃক্ষমতার জোরে মিন্নিকে স্বাক্ষী থেকে আাসামী বানানোর চক্রান্ত করছে।ইতিমধ্যে সে তার মাদক সাম্রাজ্য এক ডনের হাতে তুলে দিয়েছে।সেই ডন এখন ফেসবুকে বিভিন্ন আউ ডি খুলে মিন্নির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। একটি সহজ প্রশ্ন একটি প্রকাশ্য দিবালোকে রিফাত হত্যা হয়েছে তার স্ত্রী তাকে বাচাতে সাহস করে আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। কিন্তু কি স্বার্থে সুমন দেবনাথ তাকে নিজেকে এটাতে জড়িয়ে ভুমিকা রাখছেন? এই প্রশ্নের জবাব পেলেই সব রহস্য বের হয়ে আসবে।।

: বরগুনার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মারুফ হোসেন বলেছেন, রিফাত হত্যার ঘটনায় মিন্নি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে এমন কোনো কথা আমি বলিনি। একজন আসামি রিমান্ডে থাকা অবস্থায় আমি এ কথা বলতে পারি না। আমাকে কেউ কোট করে যদি নিউজ করে তবে তা ঠিক করেনি।’ আসামীকে রিমান্ডে রেখে সাংবাদিকদের তথ্য দেওয়া আইনের সুস্পষ্ট লংঘন , আর এই তথ্য নিয়ে আমরা নানা রকম গল্প সাজাই । তাহলে এ নিউজ কারা প্রচার করছে তাদের খবরের উৎস কি? তারা সরকারি ঘরনার সংবাদ মাধ্যম। তাদের উদ্দেশ কি সুমন দেবনাথকে রক্ষা করা?? ডিআইজি মিজানকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ,মিন্নিকে ১২ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদের নামে মানসিক নির্যাতন ও গ্রেফতার করে জেল,পাঁচ দিনের রিমান্ড কেনো? তাকে কি জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতোনা?

মাদকসহ নয়নবন্ড ধরা পরলেও ছেড়ে দেয়া হয়েছিলো! পুলিশ সুপার বলেন পরিমান কম ছিলো বলে ছেড়ে দেয়া হয়! নয়নের বন্ধু এমপি পুত্রের মিন্নিকে গ্রেফতার করাতে এতো তৎপরতা কেনো?পুলিশ সুপার ও তার ভূমিকা রহস্যময়।এমপিপুত্রকে তবে কেনো ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়না?।নয়ন বন্দুকযুদ্ধে নিহত, তার মোবাইল তাহলে পুলিশের হাতে জব্ধ।তাহলে নয়নের সেক্স ভিডিও ভাইরাল করলো কে?

মিন্নির পক্ষে কোন আইনজীবী না দাঁড়ানোর কারন জিজ্ঞেস করলে মিন্নির বাবা বলেন ” আমি তিনজনের সাথে যোগাযোগ করেছিলাম কিন্তু তাঁরা কেন দাঁড়ায় নাই তা আমি বলতে পারবো না। তবে ধারণা করছি, প্রতিপক্ষের ভয়ে হয়তো কোনও আইনজীবী দাঁড়াননি।” । কোন প্রতিপক্ষের কারণে আইনজীবী দাঁড়াননি−এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোন প্রতিপক্ষ, সেটা আপনারাই বুঝে নেন। আমি বলতে গেলে বরগুনায় থাকতে পারবো না।

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘আমাকে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন তার মেয়ের পক্ষে দাঁড়ানোর কথা বলেছিলেন। কিন্তু আমি তার পক্ষে দাঁড়াইনি।’ কী কারণে দাঁড়াননি, এমন প্রশ্নের তিনি কোন উত্তর না দিয়ে তিনি চুপ করে থাকেন ।

এখন বুঝতে পেরেছেন ? কেন এতো বড় একটা শহরে একজন উকিলও সাহস নিয়ে এজলাসে দাঁড়িয়ে অসহায় মিন্নির পক্ষে কথা বলেনি ? কারন তাঁরা ভীত সন্ত্রস্ত । এই ভীতি রাষ্ট্রের তথা প্রশাসনের । সেই সাথে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর সশস্ত্র দুর্বৃত্ত দের ।এদের ইচ্ছের বাইরে একচুল পরিমাণ নড়াচড়া করার সাধ্য কারো নেই । বরগুনার আদালতের উকিল সাহেবরাও জানেন শম্ভু এম পির সন্ত্রাসী পুত্রের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মেয়েটির পক্ষে দাঁড়ালে কি ভয়ংকর পরিণতি হতে পারে । আরেকটা কথা সেদিন যারা রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ভিডিও দেখে আশেপাশের আতঙ্ক গ্রস্থ মানুষ গুলোকে মনের ঝাল মিটিয়ে গালাগাল করেছিলেন তাঁরাও নিশ্চয়ই এখন বুঝতে পেরেছেন কি কারনে এখন মানুষ দলবদ্ধ হয়ে ধর ধর বলে চিৎকার করে সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করেনা । ক্ষমতাসীনরা তাদের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার উদ্দেশ্যে পুরো দেশটাকে একটা একটা ভয়ের রাজ্যে পরিণত করেছে। এখানে বিচার শালিস বলতে কিচ্ছু নাই । এই যে মেয়েটা মিন্নি সে ছিল এই মামলার প্রধান সাক্ষী । এখন দেখেন খুনি নয়ন বন্ড জেনো এম পি পুত্র আর তার মদদ দাতা দের নাম ফাঁস করে দিতে না পারে তাই তাকে ক্রসফায়ারে খুন করে মিন্নিকেই আসামী বানিয়ে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে । তারপরও কি আপনি এই হত্যার বিচার আশা করেন ?

সত্য, রাজনীতি আর প্রশাসনকে জিম্মি করলে, প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে যায় -ভয়ের সংস্কৃতি গড়ে উঠে,বরগুনায় চলছে সারাদেশের মতো একদলীয় শাসন – জনগণ এবং আইনজীবীদের মধ্যে চলছে প্রতিবাদহীন নিরবতা -নিস্কৃয়তা — আঃ কি অসভ্য সমাজে বসবাস আমাদের ! তবে ক্ষোভের আগুন তো জ্বলেই আছে। শুধু তুমি একে এতো আবর্জনা দিয়ে ঢেকে রেখেছো যে সে আগুন বাইরে বেরবার পথই খুঁজে পাচ্ছে না। একবার যদি অন্তরের সেই আগুন স্ফুলিঙ্গ হয়ে উদ্ভাসিত হতে থাকে, বাকীটা আপন নিয়মেই ঘটবে। “প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিপথে বাঁধা সৃষ্টি করলে প্রলয় ঘটবেই।।

“একটি ভয়ংকর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পৃষ্টপোষকতায় অপরাধের দূর্গ গড়ে উঠেছে।সন্ত্রাস ও অর্থ বানিজের সিন্ডিকেটের কাছে ভয়ে সবাই জিম্মি।” এই জিম্মি দশা থেকে বাঁচতে সবাইকে আওয়াজ তুলতে হবে,একসাথে,নাহয় দলকানা আর দলদাস কাউকেই বাঁচতে দেবে না! সুস্হ সুন্দর একটি সমাজের প্রতিক্ষায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।