যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে চরম মানবিক সংকট

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের দক্ষিণাঞ্চলের ডেল রিও সীমান্তে অবস্থান করা হাইতিয়ান অভিবাসনপ্রত্যাশীদের চরম মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। খোলা আকাশের নিচে ১২ হাজারের বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অপেক্ষায় ছিলেন।এরই মধ্যে সীমান্ত পার হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা কয়েকশো জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অপেক্ষায় থাকা সবাইকে যত দ্রুত সম্ভব হাইতিতে ফেরত পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রেসিডেন্ট হত্যার জের ধরে হাইতির রাজনৈতিক সংকট চরমে পৌঁছেছে। এর মধ্যে আবার শক্তিশালী ভূমিকম্প দেশটিকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। বেঁচে থাকার তাগিদে বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশটির চরম দরিদ্র মানুষেরা একটু নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পাড়ি জমাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে। তবে তাদের গ্রহণ করতে নারাজ বাইডেন প্রশাসন। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে আশ্রয়প্রার্থী হাইতিয়ানদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্ডার পেট্রল প্রধান জানিয়েছেন, ডেল রিও ক্যাম্প থেকে এরই মধ্যে অন্তত কয়েক হাজার অভিবাসন প্রত্যাশীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অনেককে ফেরত পাঠানো হয়েছে নিজ দেশে, আবার অনেকের ঠাঁই হয়েছে জেলে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন হাজার জনকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। আর অবশিষ্টদেরও সপ্তাহখানেকের মধ্যে ফেরত পাঠানো হবে।
নিজ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা শোচনীয়। রয়েছে বেকারত্বের সমস্যা। বেড়ে গেছে অপরাধ। উন্নত জীবনের খোঁজে নিজের জমানো সব অর্থ ব্যয় করে হাইতি ছেড়ে আসা অভিবাসন প্রত্যাশীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে না পেরে নিজেদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় না পেয়ে মেক্সিকোতে অবস্থান করার সিদ্ধান্তও নিচ্ছেন অনেকে।

অভিবাসনপ্রত্যাশীদের একজন বলেন, আমি খুব ভয়ে আছি। কিছুদিন আগে আমাদের প্রেসিডেন্টকে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের জীবনেরও কোন নিরাপত্তা নেই। হাইতিতে কোন কাজ নেই। অপরাধও অনেক বেড়ে গেছে।
আরেকজন বলেন, আমরা অনেক কষ্ট সহ্য করেছি। অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। আমাদের পরিবারকে সহায়তা করার জন্যই যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চেয়েছি। কেউই নিজ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে যেতে চায় না। কেবলমাত্র উন্নত জীবনের আশায় এখানে এসেছি।
গেল কয়েক বছর ধরেই হাইতিয়ানরা যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের খোঁজে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করছেন। ২০১০ সালের ভূমিকম্পের পর যুক্তরাষ্ট্রমুখী হতে শুরু করেন অনেকে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের কারণে ফের বেড়ে গেছে অভিবাসন প্রত্যাশীদের ঢল।