জার্মানি: আগে কোণঠাসা ম্যার্কেল শিবির

প্রতিবেদন:
জার্মানির সাধারণ নির্বাচনের ঠিক এক সপ্তাহ আগে তৃতীয় ও শেষ ত্রিপাক্ষিক টেলিভিশন বিতর্কেও মানুষের মন জয় করতে পারলেন না বিদায়ী চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের রক্ষণশীল শিবিরের প্রার্থী আরমিন লাশেট৷ জনমত সমীক্ষা অনুযায়ী তিনটি বিতর্কেই সামাজিক গণতন্ত্রী এসপিডি দলের প্রার্থী ওলাশ শলৎস জয়ী হয়েছেন৷ সবুজ দলের প্রার্থী আনালেনা বেয়ারবক চ্যান্সেলর হবার স্বপ্ন কার্যত ছেড়ে দিয়ে তৃতীয় বিতর্কে খোলাখুলি এসপিডি দলের সঙ্গে সরকার গড়ার ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন৷ বৃহস্পতিবার সব প্রধান দলের শীর্ষ প্রার্থীদের টেলিভিশন বিতর্কের পর অনিশ্চিত ভোটাররা মনস্থির করার আরেকটি সুযোগ পাবেন৷

আগামী ২৬শে সেপ্টেম্বর নির্বাচনের দিনেও ভোটাররা একই মনোভাব দেখালে এসপিডি দলের নেতৃত্বেই জার্মানির আগামী সরকার গঠিত হবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে৷ তবে শুধু সবুজ দলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া যাবে কিনা, সে বিষয়ে সংশয় রয়েছে৷ কারণ সমীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় ৪২ শতাংশ মানুষ চ্যান্সেলর পদপ্রার্থী হিসেবে শলৎসের পক্ষে সমর্থন জানালেও তাঁর এসপিডি দল এখনো মাত্র ২৫ শতাংশ সমর্থন পাচ্ছে৷ সে ক্ষেত্রে বামপন্থি দল ‘ডি লিংকে’ বা উদারপন্থি এফডিপি দলকে তৃতীয় শরিক হিসেবে জোটে শামিল করতে হবে৷ ফলে জোট সরকার গড়ার লক্ষ্যে আলোচনা দীর্ঘ হতে পারে৷ উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের নির্বাচনের পর সরকার গড়তে রেকর্ড ছয় মাস সময় লেগেছিল৷
রবিবারের টেলিভিশন বিতর্কে শলৎস ও বেয়ারবক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যে দীর্ঘ ১৬ বছর ক্ষমতার শীর্ষে থাকার পর সিডিইউ ও সিএসইউ দলের রক্ষণশীল শিবিরের সংসদে বিরোধী পক্ষে বসার সময় এসে গেছে৷ সামাজিক গণতন্ত্রী দলের কর্মসূচির সঙ্গে নিজের দলের লক্ষ্যের যথেষ্ট মিল থাকায় বেয়ারবক লাল-সবুজ জোটের পক্ষে সওয়াল করেন৷ জার্মানিতে ন্যূনতম মজুরির হার বাড়ানো, বেকার ভাতা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করার মতো বিষয় নিয়েই লাশেট ও বাকি দুই প্রার্থীর সংঘাত স্পষ্ট হয়ে পড়ে৷ শলৎস মনে করিয়ে দেন, ন্যূনতম মজুরির হার বাড়ালে দেশের প্রায় এক কোটি মানুষের উপকার হবে৷ তাঁর মতে, একাধিক কাজ করেও তাঁরা হিমশিম খাচ্ছেন৷ ভাইস চ্যান্সেলর ও অর্থমন্ত্রী হিসেবেও এতদিন শলৎস সেই চেষ্টা চালিয়ে এসেছেন বলে দাবি করেন৷ অন্যদিকে লাশেট বিষয়টি শ্রমিক সংগঠন ও শিল্পজগতের হাতে ছেড়ে দেবার পক্ষে সওয়াল করেন৷

জাতীয় স্তরে সিডিইউ দলের পাশাপাশি বাভেরিয়ার সিএসইউ দলও জনমত সমীক্ষায় সমর্থন হারানোর ফলে লাশেটের ইউনিয়ন শিবিরের সংকট আরও জোরালো হচ্ছে৷ সিএসইউ নেতা ও বাভেরিয়ার মুখ্যমন্ত্রী মার্কুস স্যোডারের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা তুঙ্গে থাকলেও তাঁর দল দ্বিতীয় ভোটে পাঁচ শতাংশের সীমা অতিক্রম করতে পারবে কিনা, সে বিষয়ে সংশয় দেখা দিচ্ছে৷ এমন অভূতপূর্ব বিপর্যয়ের আশঙ্কায় ইউনিয়ন শিবিরে বাড়তি সংশয় দেখা যাচ্ছে৷ তবে প্রথম ভোটে সরাসরি যথেষ্ট প্রার্থীর জয়ের দৌলতে সিএসইউ দল সংসদে যথেষ্ট সংখ্যক আসন পাবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে৷

এসবি/এসিবি (ডিপিএ, রয়টার্স)