মধ্যরাতে মেস থেকে বের করে দেওয়া হল ২১ নেপালি শিক্ষার্থীকে

রংপুরে নর্দান বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ২১ নেপালি শিক্ষার্থীকে মধ্যরাতে মেস থেকে বের করে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ওই শিক্ষার্থীরা থানা পুলিশের স্মরণাপন্ন হলে গতকাল রবিবার (১৪ ফেব্রুয়ারী) দিবাগত রাত দু’টায় পুলিশি প্রহরায় তাদের মেসে উঠতে দেয়া হয়। তবে শর্ত বেধে দেয়া হয়েছে একদিনের মধ্যে মেসের বকেয়া ভাড়া পরিশোধ করতে হবে। পরে নেপালি শিক্ষার্থীসহ সাধারণ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা মাইগ্রেশনসহ বিভিন্ন দাবিতে রংপুর মেডিখেল কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

ভুক্তভোগী এমবিএস শেষ বর্ষের নেপালি শিক্ষার্থী বিকেশ গৈইন বলেন, ভর্তির সময় কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের থাকা খাওয়াসহ যাবতীয় টাকা গ্রহণ করেছে। সেই হিসেবে মেসের ভাড়া তাদের দেয়ার কথা। কিন্তু গতকাল রবিবার রাতে মেস মালিক এসে বলে ৮ মাসের মেস ভাড়া বকেয়া রয়েছে। এ কথা বলে আমাদের মেস থেকে বের করে দেয়। পরে আমারা থানায় গেলে থানা পুলিশ আমাদের মেসে উঠিয়ে দেয়। এসময় মেস কর্তৃপক্ষ জানায়- একদিনের মধ্যে টাকা পরিশোধ করতে হবে।
নর্দান মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান লাভলি বেগম বলেন, আমি এখন গাড়িতে রয়েছি। এ বিষয়য়ে এখন কোন মন্তব্য করবো না।

মেস মালিক নুরুল ইসলাম বলেন, এই তিনটি ফ্ল্যাটের মাসিক ভাড়া ৬৫ হাজার টাকা হিসেবে গত আট মাসের ভাড়া বকেয়া আছে। এ নিয়ে আমি অনেকবার কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে আমি এই কাজ করেছি।

কোতয়ালি থানার ওসি আব্দুর রশিদ বলেন, শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করার পর রাতেই তাদের মেসে উঠিয়ে দিয়েছি। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা একটি জিডি করেছে।

জানা গেছে, নিয়মিত তিন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি করালেও শর্ত পূরণ না করায় এই মেডিকেলের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এরপর ২০০৯ সালে আবারও শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি পেলেও ২০১৫ সালে কঠোর হয় মন্ত্রণালয়। ফের কলেজটির কার্যক্রম বন্ধ করতে নির্দেশ দেয়। ততক্ষণে অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়ে যায়। তখন থেকেই অনুমোদন ছাড়াই চলছে প্রতিষ্ঠানটি। বেশকিছু শিক্ষার্থী এমবিবিএস কোর্স শেষ করার পরেও কলেজটির কাগজপত্র ঠিক না থাকায় তারা ইন্টার্নশিপ করতে পারছে না।

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক খলিলুর রহমান জানান, বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা এবং বৈঠক হয়েছে। আমরা কাগজপত্র নিয়ে মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তরে যাচ্ছি সমাধানের জন্য।