কালো পর্দার বাইরে ইভিএম:রামগতিতে নৌকায় ভোট বাধ্যতামূলক!

লক্ষ্মীপুরের রামগতি পৌরসভা নির্বাচনে ইভিএম কালো পর্দার বাইরে রেখে নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। রোববার বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। এমন অনিয়মের অভিযোগে বিএনপি প্রার্থী সাহেদ আলী, জাতীয় পার্টির আলমগীর হোসেন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আবি আবদুল্লাহ ও জামাল উদ্দিন ভোট বর্জন করেছেন।

সকাল ১০টার দিকে ৬নং ওয়ার্ডে আলেকজান্ডার পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ নেতা কামাল হোসেনসহ অনেকে বুথে নৌকায় ভোট দিতে বাধ্য করছেন। ইভিএম নিয়ে বসে থাকা আওয়ামী লীগ নেতারা নিজেদের নৌকার এজেন্ট দাবি করেন। তবে একটি বুথেই নৌকার ৩-৪ জন করে এজেন্ট দেখা গেছে। এসব কেন্দ্রে ধানের শীষের কোনো এজেন্ট ছিল না। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আলেকজান্ডার পাইলট উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়েও একই চিত্র দেখা যায়। সেখানে বেলাল হোসেন নামে একজন নৌকায় ভোট দিতে বাধ্য করেন। তবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি আমার এক আত্মীয়কে ভোট দিতে সাহায্য করতে এসেছি।’ এছাড়া বেলা ১১টার দিকে ৯নং ওয়ার্ডের চর হাসান হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়েও নৌকায় ভোট দিতে বাধ্য করার চিত্র দেখা যায়। বিএনপির মেয়র প্রার্থী সাহেদ আলী বলেন, ইভিএম আওয়ামী লীগ নেতাদের দখলে ছিল। তারা ভোটারদের নৌকায় ভোট দিতে বাধ্য করছেন। প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার না দেখার ভান করছেন। জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী আলমগীর হোসেন বলেন, আমার এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। মারধর করা হয়েছে। নৌকায় ভোট দিতে আওয়ামী লীগের নেতারা ভোটারদের বাধ্য করেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী আবি আবদুল্লাহ জানান, সকাল ৯টা পর্যন্ত তিনি পাঁচটি কেন্দ্রে ঘুরেছেন। সব কেন্দ্রে গোপন বুথে নৌকার এজেন্টদের অবস্থান করতে দেখেছেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি। এ বিষয়ে রামগতি পৌরসভা নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী হেকমত আলী বলেন, কালো পর্দার বাইরে ইভিএম থাকার কথা নয়। কোথাও ছিল কি না, তা কেউ আমাকে জানায়নি। যিনি নিয়ম ভঙ্গ করবেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।