বাংলাদেশবিরোধী প্রোপাগান্ডায় এবার দ্য ইকোনমিস্ট

প্রতিবেদন:
অনলাইন ভার্সনে লেখা এক প্রতিবেদনে দ্য ইকোনমিস্ট সামরিক বাহিনীর এমন সব কাজ নিয়ে সমালোচনা করেছে যে কাজগুলো অত্যন্ত সাধারণ ও স্বাভাবিক। তারা বলছে, অর্থের বিনিময়ে বাংলাদেশ সরকার সৈনিকদের বিশ্বস্ততাই শুধু কিনছে না, তাদের ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকারও সুযোগ করে দিচ্ছে।
অভিযোগের সুরে দ্য ইকোনমিস্ট বলেছে, বাংলাদেশে সামরিক বাহিনীর সদস্য ও তাদের পরিবারের জন্য যে চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে, তা দেশসেরা। তবে তারা উল্লেখ করেনি, সারা বিশ্বের সামরিক বাহিনীর হাসপাতালগুলোকেই উন্নত বলে বিবেচনা করা হয়। ইকোনমিস্ট ব্রিটিশ গণমাধ্যম। সে দেশের রানি নিজেও সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
আরেকটি অভিযোগ হলো, ২০১৫ সালে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বেতন প্রায় দ্বিগুন করেছে সরকার। সেখানে তারা নিজেরাই লিখেছে, একই সময়ে বেসামরিক চাকুরেদের বেতনও দ্বিগুন করা হয়।
২০০৮ সাল থেকে ২০১৭ সালে বাংলাদেশের সামরিক বাজেট বেড়েছে ১২৩ শতাংশ। এসময় প্রায় একই হারে দেশের জিডিপিও বেড়েছে। সেখানে দেশরক্ষার উপকরণ কেনা নিয়ে প্রশ্ন তোলাও অবান্তর। একই সময় অধিকাংশ দেশের সামরিক বাজেটও দ্রæত গতিতেই বেড়েছে। প্রশ্ন তোলা হয়েছে পটুয়াখালিতে ৬২০ হেক্টরের সামরিক ঘাটি গড়ে তোলার বিষয়েও। অর্থাৎ বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর উন্নয়নে কি অবকাঠামো গড়ে তুলবে, তারও হিসেব চায় দ্য ইকোনমিস্ট!

ম্যাগাজিনটি বলছে, শেখ হাসিনার শাসনামলে আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট আর সেনাকল্যাণ সংস্থার আয় বেড়েছে। সেনাকল্যান সংস্থার সম্পদ ৬০ বিলিয়ন টাকা বলেও জানিয়েছে তারা। তবে এগুলো অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত সেনাদের উন্নয়ন সংস্থা। এর মুনাফা হলে সেনাবাহিনীর জেনারেলদের লাভ হচ্ছে এ কথা বললেও কিভাবে সংস্থার অর্থে ব্যক্তিগত লাভ হয়, তা জানায়নি তারা।

আরেকটি অভিযোগ হলো, নির্বাচন কমিশনের জন্য ইভিএম বানিয়েছে সেনাকল্যান সংস্থা। ইকোনমিস্টের দাবি, এতে ভোট জালিয়াতি সহজতর হয়েছে। তবে কোন প্রযুক্তি বা প্রকৌশলের ফলে জালিয়াতি সহজতর হয়েছে, তা উল্লেখ করা হয়নি।

তারা বলছে, নৌবাহিনী ভাসানচরে শরণার্থী শিবির তৈরির জন্য ৩০ কোটি ডলার পেয়েছে, ঢাকার প্রধান বিমানবন্দরের দায়িত্বে আছে বিমান বাহিনী, সেনাবাহিনী হাইওয়ে নির্মানের দায়িত্ব পায়। তবে এসব কিভাবে অপরাধ হয়, তা উল্লেখ করেনি ইকোনমিস্ট। সারা বিশ্বেই বড় প্রকল্পগুলিতে সামরিক বাহিনীর যুক্ত হওয়ার নজির রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন ও ভারতে প্রায় সকল বড় প্রকল্পেই সামরিক ইঞ্জিনিয়ার্স কোর যুক্ত থাকে।

সাবেক সেনাসদস্যদের ঢাকায় জমি পাওয়ার সমালোচনা করেছে ইকোনমিস্ট। তবে এই ধরণের জমি যে অর্থ ছাড়া দেওয়া হচ্ছে না, সে ব্যাপারে কিছু জানায়নি তারা। এছাড়াও তারা বলেনি বেসামরিক কর্মকর্তাদেরও একইভাবে কমমূল্যে জমি দেওয়া হয়।

শুরুতেই তারা লিখেছে, একসময় বিএনপির সঙ্গে সামরিক বাহিনীর সুসম্পর্ক ছিলো। সেটিকে দোষ হিসেবে দেখিনি ইকোনমিস্ট। আফসোসের সুরে তারা বলেছে, সে স্থানটি দখল করে নিয়েছেন শেখ হাসিনা, যার বাবাকে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা হত্যা করেছিলো। তাদের ভাষ্য দেখে মনে হতেই পারে শেখ হাসিনার সঙ্গে সামরিক বাহিনীর সুসম্পর্কে তারা খুব কষ্ট পেয়েছে। সম্পাদনা: সালেহ্ বিপ্লব
আমাদের সময়.কম