রয়টার্সের রিপোর্ট:যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক রিপাবলিকানদের ট্রাম্পবিরোধী তৃতীয় দল গঠনের উদ্যোগ!

রিপাবলিকান দলের সাবেক কয়েক ডজন কর্মকর্তা ট্রাম্পবিরোধী তৃতীয় একটি দল গঠন নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ অবলম্বন বাদ দেয়নি রিপাবলিকানরা এবং যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রকে খর্ব করায় তার উদ্যোগের বিরোধিতা করেননি দলীয় নেতারা। এমনটা মনে করে এসব নেতা নতুন দল গঠন নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ প্রক্রিয়ায় জড়িত এমন চারজন ব্যক্তি এ তথ্য দিয়েছেন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে।

প্রাথমিক পর্যায়ে এ উদ্যোগের সঙ্গে রয়েছেন কয়েকজন সাবেক নির্বাচিত রিপাবলিকান, সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান, জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ, জর্জ ডব্লিউ বুশ এবং ট্রাম্পের প্রশাসনের কিছু সাবেক কর্মকর্তা, রিপাবলিকান সাবেক কয়েকজন রাষ্ট্রদূত ও কৌশলী। এ নিয়ে গত শুক্রবার কমপক্ষে ১২০ জন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জুমে আলোচনা করেছেন। তারা সংবিধান ও আইন শৃংখলার প্রতি অনুগত থাকার প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন। ট্রাম্প যেসব বিষয়কে আবর্জনার স্তূপে ফেলেছেন তারা সেগুলোকে সঙ্গে নেবেন।
দল গঠনের পর তারা কিছু নির্বাচনে প্রার্থী দেয়ার পরিকল্পনা করছে। এ ছাড়া মধ্য ডানপন্থি অন্য প্রার্থীদের সমর্থন দিতে পারে। এমন প্রার্থী হতে পারেন রিপাবলিকান, স্বতন্ত্র অথবা ডেমোক্রেট।

হাউজ রিপাবলিকান কনফারেন্সের প্রধান পলিসি বিষয়ক পরিচালক ছিলেন ইভান ম্যাকমুলিন। তিনি ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। তিনি রয়টার্সকে বলেছেন, তিনিই ওই জুমকলের উপস্থাপক ছিলেন। অন্য তিনটি সূত্র রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন একটি আলাদা দল গঠন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে তারা নাম প্রকাশ করতে চাননি। ওই জুমকলে অংশ নিয়েছিলেন ট্রাম্পের অধীনে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির জেনারেল কাউন্সেল জন মিটনিক, সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান চার্লি ডেন্ট, ট্রাম্পের অধীনে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি চিপ অব স্টাফ এলিজাবেথ নিউম্যান, হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সাবেক কর্মকর্তা মাইলস টেইলর প্রমুখ। এতে ট্রাম্পের নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ এবং ৬ই জানুয়ারি তার উস্কানিতে ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনায় দলে ভাঙ্গনের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরে আলোচনা হয়। এসব ঘটনার পর অনেক রিপাবলিকান সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষে কট্টরভাবে অনুগত থেকে যান। কিন্তু অন্যরা নতুন পথ করে নিচ্ছেন নতুন দলের জন্য। ওদিকে ট্রাম্পকে গত ১৩ই জানুয়ারি প্রতিনিধি পরিষদ অভিশংসিত করেছে। এরপর এখন কংগ্রেসের উচ্চ কক্ষ সিনেটে চলছে তার বিবিরুদ্ধে অভিশংসনের বিচার।