আলজাজিরা ‘ভাইরাসকে’ কাউন্টার করতে সরকারের নতুন নাটক: রিজভী

গোটা বিশ্ব যখন করোনাভাইরাসে আতঙ্কিত, তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘আলজাজিরা ভাইরাসে’ আতঙ্কগ্রস্ত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

কাতারভিত্তিক এ সংবাদমাধ্যমটির প্রসঙ্গে সরকারের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র এখন মাফিয়ারা চালাচ্ছে, রাষ্ট্র এখন গুণ্ডারা চালাচ্ছে। করোনাভাইরাসে বিশ্ববাসী আতঙ্কগ্রস্ত, আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আতঙ্কগ্রস্ত আলজাজিরা ভাইরাসে। এ ভাইরাসকে কাউন্টার করার জন্য নতুন নাটক তৈরি করা হচ্ছে। সেই নাটকের নাম জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রীয় খেতাব কেড়ে নেওয়া এবং তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়া।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

হয়রানিমূলক মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, দলের প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ সাতক্ষীরার ৩৪ নেতাকর্মী, পাবনায় ৪৭ নেতাকর্মীকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ‘ফরমায়েশি সাজা’ দেওয়া এবং দলটির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদকে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, আজকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে হঠাৎ করে অন্যায়ভাবে কোনো সুযোগ না দিয়ে নড়াইলের একটি আদালতে সাজানো মামলায় সাজা দেওয়া হলো। তার পর এখন আমরা কী দেখতে পাচ্ছি, স্বাধীনতার ঘোষক জেড ফোর্সের অধিনায়ক জিয়াউর রহমান, তার নাকি খেতাব কেড়ে নেওয়া হবে। আর এটির সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে– কীসের জন্য হঠাৎ করে এ বিষয়টি সামনে নিয়ে আসা হলো? এগুলোর পেছনে তো সরকার আছে। শেখ হাসিনা আছেন। দেশের এই কীর্তিমান মহানায়কের খেতাব কেন কেড়ে নেওয়া হবে? ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কেন সাজা?’

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, আপনাদের অনেক নেতা বলেন যে, জিয়াউর রহমান নাকি পাকিস্তানের চোর রাজাকার। তা হলে যে ব্যক্তিটি জিয়াউর রহমানকে বীর উত্তম খেতাব দিলেন আজকের প্রধানমন্ত্রীর পিতা, তিনি কত বড় রাজাকার? উনি তো জিয়াউর রহমানকে বীর উত্তম খেতাব দিয়েছিলেন, আপনারা সেই খেতাব মুছে দেবেন? পারবেন না। গ্রামের কুঠিরে কুঠিরে জিয়াউর রহমানের নাম। পদ্মা-মেঘনার উত্তাল স্রোতে জিয়াউর রহমানের নাম, কোকিলের কণ্ঠে জিয়াউর রহমানের নাম, এই নাম মানুষের হৃদয় থেকে মানুষের অন্তর থেকে এই মাফিয়া সরকার মুছে ফেলতে পারবে না।’

এখন রাষ্ট্রীয় খেতাব কারা পাচ্ছেন- এমন প্রশ্ন রেখে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘এখন খেতাব পাবে কে? খেতাব পাবে দুই খুনের আসামি, চার খুনের আসামি; পাঁচ খুনের আসামিরা। আর জিয়াউর রহমানের মতো দেশমাতৃকার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের খেতাব কেড়ে নেওয়া হবে। কারণ কী? সেটি তো আমরা আলজাজিরায় দেখতেই পাচ্ছি। আজকে খুনিরা অভিনন্দিত, খুনিদের খেতাব দেওয়া হয়। কারণ এই রাষ্ট্র মাফিয়ারা চালাচ্ছে, এই রাষ্ট্র গুণ্ডারা চালাচ্ছে।’

মহানগর দক্ষিণের সভাপতি কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে এবং দক্ষিণের কাজী আবুল বাশার ও উত্তরের এজিএম শামসুল হকের পরিচালনায় সমাবেশে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শিরিন সুলতানা, আজিজুল বারী হেলাল, নাজিম উদ্দিন আলম, আবদুস সালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল, রাজীব আহসান, মহানগর বিএনপির মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, ইউনুস মৃধা, হাবিবুর রশীদ হাবিব, যুব দলের সুলতান সালাহ্উদ্দিন টুকু, এসএম জাহাঙ্গীর, রফিকুল আলম মজনু, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, ফখরুল ইসলাম রবিন, নজরুল ইসলাম, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, ছাত্রদলের ফজলুর রহমান খোকন প্রমুখ নেতারা বক্তব্য দেন।