২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ৪ কোটি বাংলাদেশী

রাজধানীতে বাড়ছে বায়ু দুষণ। শুধু রাজধানীই নয় সারা দেশেই জরুরি পদক্ষেপ না নেওয়া হলে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি সূচকে বাংলাদেশ রয়েছে নবম স্থানে। কার্বন গবেষকরা সোমবার ইনডিপেন্ট নিউজ অনলাইনকে বলছেন, জলবায়ু সম্মেলন থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা ১১ দেশ নিয়ে জোট গঠন না হলে অর্থ আদায় কঠিন হবে। অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, প্রখর তাপ, জলোচ্ছ্বাস, অসময়ে প্রচণ্ড ঠান্ডা সব মিলে প্রকৃতির আচরণ হয়ে উঠেছে অস্বাভাবিক।

বিশ্বের প্রভাবশালী বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার কমিউনিকেশনে প্রকাশিত নতুন এক গবেষণা বলছে, ২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হবে চার কোটি বাংলাদেশি। এমন পরিস্থিতিতে জলবায়ু তহবিলে দাতা দেশগুলো প্রতিশ্রুত সহায়তা না দেয়ায় জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ঝুঁকিতে থাকা ১১ দেশ একজোট হয়ে কর্মকাঠামো গঠন না করলে তহবিল আদায় সহজ হবে না। সেই সাথে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড, অ্যাডাপ্টেশন ফান্ড, এলডিসি ফান্ড এবং অন্য বৈশ্বিক তহবিলগুলো থেকে অর্থায়ন পাওয়ার জন্য জোটকেই শক্তিশালী ভূমিকা রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন গবেষকরা।

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজন আড়াই বিলিয়ন ডলার। সেখানে দাতাদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে মাত্র ৮৫ মিলিয়ন ডলার। নিজস্ব অর্থায়নে গত দশ বছরে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার তিন শতাধিক প্রকল্প নিয়েছে বাংলাদেশ। এদিকে গত মাসে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালের পর থেকে গত শতাব্দীর তুলনায় আড়াইগুণ বেশি দ্রুতগতিতে সমৃদ্ধপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়েছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে এই শতাব্দীতে বিশ্বের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর অনেকটাই তলিয়ে যাবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে প্রায় ২০০ কোটি মানুষ। বড় ধরনের ক্ষতির মুখোমুখি হতে পারে বাংলাদেশের ঢাকা ও উপকূলীয় অঞ্চল। জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে সংস্থাটির পরিবেশ পরিবর্তন বিষয়ক আন্তঃসরকার প্যানেলের (আইপিসিসি) করা সর্বশেষ প্রতিবেদন তুলে ধরেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের মাত্রা কমপক্ষে ৪৫ শতাংশ কমিয়ে আনতে হবে। নয়তো তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যেতে পারে। এটি হলে বিশ্বজুড়ে এর প্রভাব হবে ভয়াবহ। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর এই তালিকায় রয়েছে ঢাকা । সম্পাদনা : ভিক্টর কে. রোজারিও