‘সিঙ্গেল মাদারদের’ সন্তানরা দুর্বৃত্ত, আগ্রাসী ও অজ্ঞ হয়ে বেড়ে ওঠে, বরিস জনসনের এ বক্তব্যে তুলকালাম

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ১৯৯৫ সালে সাপ্তাহিক দি স্পেকটেটরে এক কলামে ‘সিঙ্গেল মাদার’ বা একা যে সব মা তার সন্তানদের নিয়ে থাকেন তাদের নিয়ে এধরনের বক্তব্য দিয়েছিলেন। বরিস ওই কলামে লেখেন একক মায়েদের সন্তানরা অসুস্থ হয়ে বেড়ে ওঠে এবং এধরনের বক্তব্যকে নারীদের প্রতি তার অন্ধকার যুগের মনোভাব বলে তুলনা করেছেন ব্রিটেনের লেবার পার্টি। টরি নেতা বরিসের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ছাড়াও অনেকেই এ বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। লেবার পার্টির ছায়া এটর্নি জেনারেল শামি চক্রবর্তী বরিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেছেন, তার এ বক্তব্য প্রমাণ করেছে যে তিনি ‘সিঙ্গেল মাদার’দের শুধু অভিযুক্ত করছেন না বরং যৌন নির্যাতনকেই সমর্থন করছেন। এবং বরিসের উচিত আগামী নির্বাচনের আগেই এজন্যে ক্ষমা চাওয়া। ইন্ডিপেনডেন্ট/স্টার/মিরর

ওই কলামে বরিস এও মন্তব্য করেন কোনো নারীকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হলে তা পুরুষের দুর্বলতা এবং একাকী যে সব নারী থাকেন তাদের পুনরায় বিয়ের ইচ্ছাকে পূরণের ব্যবস্থা করা উচিত। এসব একাকী মায়েদের শিশুরা বড় হলে তা অর্থনৈতিকভাবে বোঝা বলেও বরিস মন্তব্য করেন তার কলামে। তবে বরিস এখন বলছেন, ওই কলাম তিনি লিখেছিলেন ২৫ বছর আগে এবং তখন তিনি রাজনীতিও করতেন না। তাই তার এ বক্তব্যকে রাজনৈতিকভাবে বিরোধিতা করা ঠিক হবে না। কলামে বরিস আরো বলেছিলেন, এধরনের নারীদের বাচ্চা নেওয়ার আগে দুবার চিন্তা করা উচিত। বিশেষ করে কিশোরীদের গর্ভবতী হওয়ার ব্যাপারে তিনি সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু বরিসের বিরোধিরা তার এ মন্তব্যকে নারীদের প্রতি দায়িত¦জ্ঞানহীনপ্রসূত বলে অভিহিত করেছেন।

এরআগেও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন মুসলিম নারীদের মধ্যে যারা হিজাব পড়েন তাদের ‘লেটার বক্সের’ সঙ্গে তুলনা করলে বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়। অনেক ব্রিটিশ মুসলিম নারী বরিস জনসন সস্পর্কে প্রশ্ন তোলেন তারা এখন কিভাবে তার ওপর ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে আস্থা রাখবেন। তবে বরিস মুসলিম নারীদের সম্পর্কে তার এধরনের মন্তব্যকে বাকস্বাধীনতার অংশ বলে অভিমত দেন। গত সপ্তাহে বিবিসি কোশ্চেন টাইম স্পেশাল অনুষ্ঠানে বরিস জনসন বলেন, আমি আমার জীবনে সাংবাদিক হিসেবে লাখ লাখ শব্দ লিখেছি, কিন্তু কাউকে দুঃখ দেয়া বা আঘাত করার এর উদ্দেশ্য ছিল না। তবে এলবিসির অনুষ্ঠানে রুথ নামে এক নারী বরিস জনসনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, একজন একক মা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর এধরনের বক্তব্যকে স্বাগত জানাতে পারি না। বরিস অবশ্যই তার পরিবার সম্পর্কে বলতে উৎসাহ বোধ করবেন না তাহলে তিনি কেন একাকী মায়েদের ও তাদের সন্তানদের সম্পর্কে এধরনের মন্তব্য করেন। বরিস সবসময় তার সন্তান কয়টি এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে অপছন্দ করেন। আসলে বরিসের উচিত তাকে বা অন্যকাউকে অসন্মান না জানানো।