তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনও ভিত্তি পাওয়া যায়নি:শাহরিয়ার কবির

গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি বলেন, ‘তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে সেটা নিয়ে আমরা গত বছরই একটি তদন্ত কমিশন গঠন করেছি। যার সদস্য হচ্ছেন উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগের ৩ জন সাবেক বিচারপতি- বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, বিচারপতি শামসুল হুদা ও বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম। উচ্চ আদালতের সাবেক ৩ বিচারপতি তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিষয়ে কোনো ভিত্তি পাননি। তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন’।

মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মুহাম্মদ ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে দেখা করা ও ২৫ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগে ১১ নভেম্বর আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর পদ থেকে অপসারিত হন ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন কাঠামোর (খসড়া) প্রকাশ উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলো।

সম্মেলনে শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘আমাদের তদন্ত কমিশনের তিন বিচারপতি তিনটি সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ি, ২৫ কোটি টাকার যে অভিযোগ করা হয় তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তুরিন আফরোজ এমন কোনো কাজই করেননি। তুরিন আফরোজ একজন প্রসিকিউটর হিসেবে আসামির সঙ্গে দেখা করতে পারেন কি, পারেন না- এমন প্রশ্নের বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, এ আইনের মধ্যে অর্থাৎ ১৯৭৩ সালের আমাদের যে ট্রাইব্যুনালের আইন সে আইন অনুযায়ী একজন প্রসিকিউটরের আসামির সঙ্গে দেখা করার অধিকার রয়েছে। এটি আইনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং এ দুটি বিষয়ে তারা তুরিন আফরোজকে নির্দোষ পেয়েছেন’।

চলতি বছরের ১১ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের সব মামলা থেকে সরিয়ে দেয়া হয় তুরিন আফরোজকে। অপসারণের পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রমাণ হয়েছে এবং তাকে প্রসিকিউটর পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। এছাড়া যে আসামির বিরুদ্ধে গোপন বৈঠকের অভিযোগ সেই আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠন হওয়ায় তুরিন আফরোজের অপসারণ জরুরি ছিল। এ বিষয়ে তুরিন আফরোজ জানান, তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সম্পাদনা : আসিফুজ্জামান পৃথিল