হলি আর্টিজান হামলা মামলায় ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড

বহুল আলোচিত হলি আর্টিজান হামলা মামলায় ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৭ নভেম্বর) দুপুর ১২ টার পর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান রায় ঘোষণা করেন। এ মামলার অন্যতম আসামি মিজানুর রহামান ওরফে বড় মিজানকে খালাস দেওয়া হয়েছে। তিন বছর চার মাস ২৬ দিন পর এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, হাতকাটা সোহেল মাহফুজ, হাদিসুর রহমান সাগর, রাশেদ ইসলাম ওরফে আবু জাররা ওরফে র‌্যাশ, শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ ও মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন।

এর আগে প্রাঙ্গণসহ রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পুরো আদালত প্রাঙ্গণ জুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।আদালত ভবনে প্রবেশের প্রত্যেক গেটে প্রবেশের সময় প্রত্যেকের ব্যাগ তল্লাশি করছে পুলিশ। এ ছাড়া নারী-পুরুষ উভয়েরই আদালতে আসার কারণ ও বিস্তারিত পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই তাকে আদালতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা চালিয়ে বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্যরা। তাদের হামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাও নিহত হন। পরে কমান্ডো অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়।

ওই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গুলশান থানায় একটি মামলা করেন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিপন কুমার দাস। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির মামলাটি তদন্ত করে ২০১৮ সালের ১ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। একই বছরের ২৬ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান।

এক বছরের ২৬ নভেম্বর এ মামলার বিচারকালে মোট ২১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১৩ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। এরপর আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মাধ্যমে গত ১৭ নভেম্বর এ মামলার বিচারকাজ শেষ হয়। পরে আদালত রায়ের জন্য ২৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেন