চলমান রাজনৈতিক সংকট। জাতীয় সরকার কি সমাধান??

বাংলাদেশের রাজনীতির চলমান শুন্যতার সংকট নিয়ে ইতিমধ্যে অনেক আলোচনা সমালোচনা হয়েছে হচ্ছে।এখানে ইতিবাচক নেতিবাচক সবকিছুই বেরিয়ে আসছে।দীর্ঘ সামরিক শাসনের পরে একটি গণঅভ্যুত্থান সামরিক জান্তার শাসনকে উৎখাত করে দেশে প্রায় দুইযুগের উপরে গনতান্ত্রিক শাসনের নামে এদেশ এ জাতি দুটি বুর্জোয়া দলের শাসন দেখে আসছে।যার সর্বশেষ সংস্করণ জাতি এখন দেখছে।।

বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদ তার অবাধ লুন্ঠন চালাতে বাজার অর্থনীতির আড়ালে দুর্নীতি, দুঃশাসন, দখলবাজি,চাঁদাবাজির অবাধ প্রবাহ হচ্ছে হাওয়াভবন থেকে আজকের ক্যাসিনোভবন।আর এক্ষেত্রে মুখ্যভুমিকা পালন করেছে দেশের দুটি প্রধান বুর্জোয়া রাজনৈতিক দল।এরা বিগত দুইযুগে শুধু একে অপরের বিরুদ্ধাচার করতে গিয়ে দেশে চালু করেছে একটি প্রতিহিংসাপরায়ন রাজনীতির লীলাভূমি।। তদের দুটি দলেরই আদর্শ বলতে বাজার অর্থনীতি ও অবাধ লুটপাট।। সেকারণ তারা বেছে নিয়েছে কে বেশি দুর্নীতিগ্রস্থ।তাদের দুইপক্ষের আলোচ্য বিষয় একটাই কার আমলে বেশি দুর্নীতি হয়েছে।এর বাইরে তাদের আর কোন আদর্শ নেই।এটা করতে গিয়ে আজকে তারা উভয় পক্ষ দেশের রাজনীতিকে করে ফেলেছে মারমুখী নিঃশেষকরণের এক বিধ্বংসী পথে।

সাম্প্রতিককালের দুর্নীতির যে ভয়াবহ চিত্র এটা একদিনে হয় নি। এটা একদিকে কতৃত্ববাদী শাসন ও দুটি রাজনৈতিকদলের অপরাজনীতির ফলাফল। এখন মাত্র কিছু চুনোপুঁটির নামমাত্র নমুনা বের হয়েছে। যে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনার কথা বলা হচ্ছে এটা চলমান থাকলে জাতিকে আরো হতাশ হতে হবে।আজকে একটি রাজনৈতিকদল কতটা দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে যে তাদের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান করতে হচ্ছে।।তাদের নেতৃত্বকে অবলিলায় নিজের দলের দুর্নীতির কাহিনী জাতিকে জানাতে হচ্ছে।যদিও কিছু কিছু দলদাস সুকৌশলে এ দুর্নীতির সাথে অপরাপর রাজনৈতিকদলকেও জড়িয়ে নিজেদের অপরাধকে জনমনে একটু হালকা করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। এখন এসে বলছেন শুদ্ধি অভিযান অন্যদেরও করা হবে।এটাই বুর্জোয়া রাজনৈতিকদলের দেউলিয়াপনা।।
এই রাজনৈতিক সংকট উত্তোরণে আজকে জাতির সামনে তিনটি মৌলিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।আজকে রাষ্ট্র যে প্রক্রিয়ায় চলছে সেটাকি এভাবেই চলমান থাকবে।শুদ্ধি অভিযানের নামে যেটা হচ্ছে এটা করে কি মনস্তাত্ত্বিকভাবে একটি দুর্নীতিগ্রস্ত দলকে শুদ্ধ করা যাবে।নাকি আরো কিছু দুর্নীতিবাজ গজিয়ে উঠবে।নাকি এই শাসককে সরিয়ে পুর্বের জামাত বিএনপি শাসনকে আবার ফিরিয়ে আনতে হবে।আবার হাওয়া ভবন ফিরে আসবে।নাকি এই দুয়ের বিকল্প কোন শক্তির উত্থান হবে তবে সেটা হলে কারা কোন মৌলবাদী শক্তি নয়তো?

এসব নিয়েই আমি গতকাল দুটি পোষ্ট দিয়েছিলাম। বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন ” নেপালের বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত কমিউনিষ্ট পার্টি যদি এক হতে পারে তবে আমাদের দেশে কেন পারবো না”।আমরা জানি নেপালে রাজতন্ত্র উৎখাতের পরে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সেখানকার কমিউনিষ্ঠ পার্টি বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত হয়ে সশস্ত্র লড়াইয়ের পথ বেছে নিয়েছিলো।অনেক আলোচনা সমালোচনার পরে তারাও সশস্ত্র লাইন ত্যাগ করে আজকে গনতান্ত্রিক রাজনীতিতে ফিরে এসেছে।জনাব সেলিম দীর্ঘ দিন ধরেই একটি বাম বিকল্প শক্তি গড়তে চেষ্টা করে আসছেন এবং তিনি মওলানা ভাসানি,কমরেড মনিসিং ও কর্নেল তাহেরের অনুসারীদের একটি বৃহৎ ঐক্যের একটি আহবান দীর্ঘদিন জানিয়েও আসছেন।সে প্রেক্ষাপটে তার আজকের আহ্বান নুতন নয়।এইসব নেতাদের যেসকল অনুসারীর মধ্যে ডান সুবিধাবাদ ও বামবিচ্যুতি বাসা বেধেছে, যারা নিজেরা ক্ষমতাআশ্রয়ী হয়ে বুর্জোয়া দলের লেজুড়বৃত্তি করছেন তাদেরকে বাদ দিয়ে যারা সমাজতান্ত্রিক আদর্শকে এখনো লালন করেন তাদের মধ্যে এজাতীয় ঐক্য চহিদা সময়োচিত হতেই পারে।এক্ষেত্রে এদের সাথে অন্যান্য সামাজিক প্রগতিশীল শক্তিকেও যুক্ত করা যেতে পারে।।

অপরটি ছিলো “স্বাধীনতার স্বপক্ষীয় সকল বাম ও প্রগতিশীল শক্তির সমন্বয়ে একটি জাতিয় সরকার হতে পারে বর্তমান সংকট থেকে উত্তোরনের একটি রাজনৈতিক সমাধান।” দুটি বুর্জোয়া রাজনৈতিকদলের সীমাহীন দুর্নীতি, দুঃশাসন, অবাধ লুন্ঠন,দখলবাজি ও চাঁদাবাজি। হত্যা,খুন, ধর্ষনের রাজনীতি সমাজকে করে তুলেছে অস্থির।দুটি বুর্জোয়া দলের প্রতিহিংসার রাজনীতি একের প্রতি অপরের আস্থাহীনতা, দোষারোপ জাতিকে বিকল্প অন্বেষনে বাধ্য করে তুলেছে।জাতি একদিকে সকল মহাদুর্নীতিবাজদের গ্রেফতার ও বিচার প্রত্যাশা করে।মৌলবাদী শক্তি এ সুযোগে মাঝে মাঝেই হুংকার ছাড়ছে।যা জাতির জন্য একটি মহা অশনিসংকেত। দুই বুর্জোয়া দলের হেফাজত ও জামাতের সাথে আপোষ ও গাটছড়াও জাতির জন্য মহাদুর্যোগ।এর থেকে পরিত্রাণ পেতেই আজ স্বাধীনতার স্বপক্ষীয় বাম রাজনৈতিকদল ও প্রগতিশীল সামাজিক শক্তির সমন্বয়ে জাতীয় সরকার একটি সময়োপযোগী দাবি।।

আসুন এদাবীতে সকল বাম প্রগতিশীল রাজনৈতিকদল ও সামাজিক শক্তির একটি বৃহত্তর ঐক্যে এনে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলি।।জাতিকে প্রতিহিংসার রাজনীতি, হত্যা,খুন ধর্ষন থেকে রক্ষা করি।সকল দুর্নীতিবাজ,দখলবাজ চাঁদাবাজদের ও ডান সুবিধাবাদ, বাম বিচ্যুতদের রাজনীতি থেকে বিদায় করি।মুক্তিযুদ্ধের ঘোষনার সাম্য, মানবিক ও সামাজিক ন্যায় বিচারের কল্যাণমুখি বাংলাদেশ গড়ে তুলি।।
লেখক:Ahmedfazlur Rahman Murad
Sources:Facebook