জাতিসংঘে শান্তিরক্ষী জোগানে দ্বিতীয়, বিশ্বে সামরিক শক্তিতে ১১ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ

আজ বৃহস্পতিবার যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপিত হচ্ছে। দেশের সকল সেনানিবাস, নৌ ঘাঁটি ও স্থাপনা এবং বিমান বাহিনী ঘাঁটির মসজিদগুলোতে দেশের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নতি ও অগ্রগতি কামনা করে ফজরের নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হচ্ছে।

১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।

ইউনাইটেড নেশনস নিউজ সেন্টার থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, জাতিসংঘের শান্তি মিশনে বাংলাদেশ জাতিসংঘে শান্তিরক্ষী জোগানে দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। শান্তি রক্ষায় জাতিসংঘে বাংলাদেশকে শক্তিশালী দেশ হিসেবে সম্মানের চোখে দেখা হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৮৮ সালে ইরাক-ইরানের মধ্যে সশস্ত্র সহিংসতা বন্ধে নিয়োজিত হওয়ার মধ্য দিয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষী বাহিনীর কার্যক্রম শুরু হয়। গত তিন দশকে যেসব দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা কাজ করেছেন, কর্ম আর দক্ষতায় তা অনন্য হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের দেওয়া তথ্যমতে, ১২ টি পৃথক মিশনে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা কাজ করছেন। মোট ৭ হাজার ২৪৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর মধ্যে সেনা ও পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এদিকে বিশ্বে সামরিক শক্তিতে ১১ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ।

গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার নামের একটি জরিপ প্রতিষ্ঠানের চলতি বছরের জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। জরিপে বাংলাদেশকে ১৩৭ দেশের মধ্যে ৪৫তম শক্তিশালী বলা হয়েছে। এর আগের জরিপে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৫৬। সংস্থার প্রতিবেদন মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক শক্তির দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমানে তৃতীয়। প্রথম স্থানে রয়েছে ভারত। দ্বিতীয় স্থানে পাকিস্তান। এরপরই বাংলাদেশ। এ প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৩৭ দেশের তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপরই স্থান পেয়েছে রাশিয়া। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন।

গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের জরিপে সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি প্রাধান্য পেয়েছে ভৌগোলিক অবস্থান, প্রাকৃতিক সম্পদ, জনসংখ্যার মতো দিকগুলো। এছাড়া, দেশগুলোর সামরিক সরঞ্জাম কতটা বৈচিত্র্যপূর্ণ এসব দিক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।