রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতীয় সংকটের আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সরকারকে জাতীয় সংলাপের আহবান জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বৃহস্পতিবার নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।

রিজভী বলেন, আমরা এবারো বলেছি, রোহিঙ্গা সংকট কোনো দলীয়ভাবে দেখার বিষয় নয়, এটা একটা জাতীয় সংকট। এই সংকট বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রশ্ন। ফলে জাতীয় সংলাপ ডাকুন। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে সংলাপে বসুন। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগান।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে গিয়ে এখন সমস্যাটিকে উপক্রান্ত অবস্থায় সমাধান না করে লেজে গোবরে পাকিয়ে ফেলা হয়েছে। সরকার প্রধান নিজের ইমেজ তৈরীর হাতিয়ার হিসেবে এটিকে ব্যবহার করতে গিয়ে ভয়ঙ্কর মানবদুর্যোগের সৃষ্টি করেছেন।
এরআগে সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা জিয়াউর রহমানের সৃষ্টি। এমন বক্তব্যে বিএনপির এ মূখপাত্র বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে নিজেদের অনতিক্রম্য দুর্বলতা ও ব্যর্থতার গ্লানি ঢাকতেই প্রধানমন্ত্রী আজগুবি কথা বলছেন। উন্মাদ অভিগ্রস্ত না হলে এধরণের কথা বলা যায় না। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ব্যর্থতায় প্রমাণিত হয়েছে-এই সরকার বন্ধুহীন হয়ে পড়ছে।

রিজভী বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, দেশের জনগণ সাক্ষী, মিয়ানমার বারবার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দিয়ে সমস্যা সৃষ্টি করতে চেয়েছিলো কিন্তু ৭৮ সালে সেটি শক্ত হাতে মোকাবেলা করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ৯২ সালেও রোহিঙ্গা সংকট কঠোর ও সফলভাবে মোকাবেলা করেছেন বেগম খালেদা জিয়া। এটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের যারা খবর রাখেন সেই সমস্ত ব্যক্তিরাও এই কথাগুলি উল্লেখ করছেন।

খালেদা জিয়ার অসুস্ততার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, পিজি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার স্বাস্থ্য সম্পর্কে সরকারের শেখানো বক্তব্য ও ব্যাখ্যা দিলেও সুচিকিৎসার কোনো পদক্ষেপই নেয়নি। গত এক সপ্তাহে কোনো চিকিৎসক বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাননি। তার হাতে যে ব্যথা ছিলো তা পা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। সারা শরীরে প্রচন্ড ব্যথা। নার্সরা তার হাতে-পায়ে হাত দিতে পারছেন না, হাত দিলেই তিনি প্রচন্ড যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে যাচ্ছেন। তার ডান পায়ের গোড়ালীতে একটা ফোড়ার কারণে সেই যন্ত্রণা আরও তীব্রতর হয়েছে।