জাবি আন্দোলনকারী নেতাদের বাসায় পুলিশ, ‘হেনস্তার’ অভিযোগ

জাহাঙ্গীর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তার অপসারণ চেয়ে আন্দোলনে নামে ছাত্র ইউনিয়নসহ বাম সংগঠন এবং সাংস্কৃতিক জোটের নেতাকর্মীরা।আন্দোলনের অংশ হিসেবে উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করলে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের হামলার স্বীকার হয় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী।এতো কিছুর পরও উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে প্রতিবাদী শ্লোগান খচিত চিত্র, পটচিত্র, দুর্নীতির চিত্র, হল বন্ধসহ নানা অসঙ্গতি তুলে ধরছে রং তুলির ক্যানভাসে। চলছে গানে গানে প্রতিবাদ।

আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অন্তত পাঁচজন সংগঠকের বাড়িতে পুলিশ ‘হয়রানি’ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা। এছাড়া এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদ।রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল এবং সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় বলেন, সকল তথ্য-উপাত্ত পাঠানোর পরও ভিসি ফারজানা ইসলামকে রক্ষার জন্য একের পর এক অবৈধ কাজ করে যাচ্ছে সরকার।আন্দোলনকারীদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে ও পরিবারের লোকজনদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও তাদের হেনস্তা করা হচ্ছে।এই দমন নীতি বন্ধ না করলে এই আন্দোলন আরও বৃহত্তর রূপ নেবে। শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো ধরনের দমন-পীড়ন চালানো হলে সারাদেশের শিক্ষার্থীরা তাদের পাশে দাঁড়াবে।

মুশফিক উস সালেহিন বলেন, পুলিশ আমার নানা বাড়িতে গিয়ে আমার পরিবারের বিস্তারিত তথ্য নেন।এরপর থেকে আমার পরিবার আতঙ্কগ্রস্ত, চিন্তিত।উপাচার্য ঊর্ধ্বতন যোগাযোগের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করছে।এভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আন্দোলনকে দমনের চেষ্টা করা নিন্দনীয়।

‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ আন্দোলনের সমন্বয়ক অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘এভাবে আন্দোলনকারীদের বাসায় যাওয়া মোটেই ঠিক নয়।এতে তাদের পরিবার আতঙ্কের মধ্যে থাকে।এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ইন্ধন থাকতে পারে।আন্দোলনকে দমানোর একটি অপকৌশল হিসেবেই এসব করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব বিষয়ে অবগত নয় জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার পরেও তারা আইন অমান্য করে ক্যাম্পাসে মিছিল-মিটিং করছে। আর তাদের গ্রামে কী হচ্ছে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবগত নয়।

ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আরিফুল ইসলাম অনিকের বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি, হাসান জামিলের বাড়ি টাঙ্গাইলের পশ্চিম আকুরটাকুর পাড়া এবং রাকিবুল রনির বাড়ি কিশোরগঞ্জের তারাইল।এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি হাসান জামিলের বাড়িতে পুলিশ যাওয়ার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান।

কিশোরগঞ্জ থানার ওসি মজিবুর রহমান বলেন, এসপি মহোদয়ের নির্দেশে আমরা রাকিবুল রনির বাড়ি যাই।কটিয়াদি থানার ওসিও অনিকের বাড়ি যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেন।