অনির্দিষ্টকালের জন্য (জাবি) বন্ধ ঘোষণা,বিকাল ৪ টার মধে‍্য হল ছাড়ার নির্দেশ

অনির্দিষ্টকালের জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনে অনুষ্ঠিত জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও সিন্ডিকেট সচিব রহিমা কানিজ গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনার পরপরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

এর আগে ভিসির পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় ছাত্রলীগের হামলায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষক, সাংবাদিকসহ অন্তত: ৩০ আন্দোলনকারী। আজ বেলা সাড়ে ১১টা থেকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। এদিকে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাদের বেশ কয়েকজনকে পাওয়া যাচ্ছে না। ছাত্রলীগ তাদের তুলে নিয়ে গেছে।

আহতরা কয়েকজন হলেন, নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস, একই বিভাগের অধ্যাপক মীর্জা তাসলিমা সুলতানা, দর্শন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক রায়হান রাইন। ছাত্রদের মধ্যে আহতরা হলেন, আলিফ (ইংলিশ, ৪৭ ব্যাচ), মারুফ (দর্শন, ৪৪ ব্যাচ), রুদ্রনীল (দর্শন, ৪৫ ব্যাচ) সহ আরও অনেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান মেগাপ্রকল্পে দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ এনে গত তিনমাসের বেশি সময় ধরে আন্দোলনে নামে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।

এদিকে দুর্নীতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে চলমান অবরোধে টানা ১০ দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা সোয়া ৭টা থেকে ভিসির বসভবন অবরোধ করে আন্দোলনকারীরা। এসময় জাবি ভিসি বাসাতেই ছিলেন। উপাচার্যের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তার বাসভবন অবরুদ্ধ রাখা হবে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক রায়হান রাইন।

গত ২৪ অক্টোবর থেকে সোমবার পর্যন্ত ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনকারীরা টানা ১০ দিনের মতো নতুন ও পুরনো দুইটি প্রশাসনিক ভবনই অবরোধ করে রেখেছে। ফলে এই ১০ দিন ভিসি, দুই প্রো-ভিসি, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রারসহ কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীই প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করতে পারেননি। কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম। তবে একাডেমিক কার্যক্রম অনেকটা স্বাভাবিক রয়েছে। অন্যদিকে নতুন করে অবরোধের আওতায় এসেছে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস। এতে পরীক্ষা সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে জটিলতা ও স্থবিরতা তৈরি হচ্ছে।