একটা পাখিরও নিজ ঘরে থাকার অধিকার আছে! অথচ একজন মুক্তিযোদ্ধার নেই?? তুহিন মালিক

লা,শের দন্ড!( ডক্টর তুহিন মালিক )বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা আজ জীবন-মৃ,ত্যুর সন্ধিক্ষণে। প্রবাসের হাসপাতালে জীবন-মৃত্যু,র সন্ধিক্ষণে দেশের জন্য যুদ্ধ করা এই বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃ,ত্যুর আগেই জেনে গেছেন, তার কোন দেশ নেই! তিনি আজ কেবলই রাষ্ট্রবিহীন-দেশহীন একজন মানুষ! মৃত্যুর পর তার লা,শও হয়ত এমনি রাষ্ট্রবিহীন-দেশহীন!

তার লা,শের পথযাত্রাতেও আজ যেন প্রবেশ নিষি,দ্ধের সতর্কবাণী লিপিবদ্ধ! পাঁচ বছর আগে ক্যা,নসার চিকিৎসায় যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন তিনি। দুই বছর আগে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে স্ত্রী,সহ নিজের পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করেন। কিন্তু তাদেরকে আজ অবধি সেই পাসপোর্ট দেয়া হয়নি। কোনো স,দুত্তরও দেয়া হয়নি। অথচ উনাদের নাগরি,কত্ব বাতিল করা হয়নি। পাসপোর্ট আইনে উনারা অযোগ্যও নন। আইন-কানুন নিয়ম-নী,তি মেনেই আবেদন করেছেন।

বিরোধী নেতা-কর্মী বা সরকারের সমালোচক কিংবা ভিন্ন মতাদর্শীদের প্রতি রাষ্ট্রের এহেন প্রতি,হিংসা ও ঘৃ,ণার রাজনীতি এদেশে নতুন নয়। কিন্তু ভিন্ন মতাদর্শীদের লা,শের উপর যে হিং,স্র প্রতিহিং,সা ও ঘৃ,ণার রাজনীতি আমরা বিগত কয়েক বছর ধরে দেখে আসছি তা সভ্য সমাজে একেবারেই বিরল।

লা,শের আবার দল কি? মরার সাথে আবার যুদ্ধ কিসের? লা,শের সাথে কিসের প্রতিদ্বন্দ্বিতা? একজন চিরশত্রুও কিন্তু তার প্রতিদ্বন্দ্বির লা,শের কফিনটাকে কাঁধে নিয়ে জানাজায় শরীক হয়। অশ্রুসিক্ত চোখে দুহাত তুলে মাগফি,রাতের দোয়া করে। এটাই মানুষের ধর্ম। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখেছি, বিরোধী দলের জানাজায় পর্যন্ত কেউ গেলে তার বিরুদ্ধে রিপো,র্ট হয়! বিএনপি-জামাতের ট্যাগ খাওয়ার ভয়ে এখন আর কেউ লাশ দেখতে যেতে পর্যন্ত ভয় পায়!

আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, টকশোতে সরকারের সমালোচনা করার অপরাধে কিভাবে রাষ্ট্রীয় বাহিনী দিয়ে পিয়াস করীমের লা,শকে ‘দন্ড দেয়া হয়েছিল’ শহীদ মিনারে! সাথে আমাকে সহ দেশের বিশিষ্ট ৯ জনকে মা,রা যাবার পর আমাদের লা,শকে শহীদ মিনারে অবাঞ্ছিত ঘোষনা দেয়া হয়েছিল সেদিন! বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর কবরে হাম,লা করা হলো। অসংখ্য লা,শের মিছিলে পর্যন্ত হাম,লা করা হলো। এমনকি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর পর্যন্ত উঠিয়ে দেয়ার নানা,ন হুমকি বা,ণীও এই জাতিকে সহ্য করতে হয়েছে। মৃ,তের লাশকে দ,ন্ডদানের এহেন বি,কৃত প,শুপ্রবৃত্তি আদিম ব,র্বর যুগেও ছিল না!

যারা দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবন বাজি রেখে যু,দ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করলো, তারাই আজ দেশহীন! রাষ্ট্রবিহীন! আর যারা দেশের মানুষকে মৃ,ত্যুর মুখে ফেলে রেখে পালিয়ে গিয়ে পাঁচ তারকা জীবন উপভোগ করেছিল, তারাই আজ দেশের মালিক! অথচ সেই পলাতক ফুর্তিবাজরাই আজ সিদ্ধান্ত দেয়, কে রা,ষ্ট্রবিহীন! আর কে দেশহীন! দুদিন আগে পাখির বাসা ভাংগা যাবে না বলে হাই,কোর্ট আদেশ দিলো। একটা পাখিরও তার নিজ ঘরে থাকার অধিকার আছে! অথচ একজন মুক্তিযোদ্ধার তার নিজ দেশে ফেরার কোন অধিকার নেই! যেমনটা তার লা,শেরও নাই!

ডক্টর তুহিন মালিক: আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ
Share this: