হারিরির পদত্যাগ উদযাপন করছেন লেবাননের বিক্ষোভকারীরা, চাহিদা পূরণে আরো বিক্ষোভের দাবি

পদত্যাগ করা প্রধানমন্ত্রীর সাদ হারিরির প্রশংসা করে সমস্ত দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাস্তায় থাকার প্রতিজ্ঞা করেছেন বিক্ষোভকারীরা । মঙ্গলবার প্রধানন্ত্রীর পদত্যাগের ঘোষনাকে ‘দীর্ঘমেয়াদী বিক্ষোভের প্রাথমিক বিজয়’ বলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তারা। আল-জাজিরা

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী ২১ বছর বয়সী চলচ্চিত্র নির্মাতা পিয়েরে মৌজান্না বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ আমাদের আন্দোলনের কয়েকটি দাবির একটি অংশ মাত্র। পিয়েরের মুখে লেবাননের পতাকা একে এবং ‘ঈশ^র আমাদের সঙ্গে আছেন’ প্লাকার্ড হাতে নিয়ে বিক্ষোভে যোগ দেয়। তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, রাজনীতিবিদরা আমাদের অর্থ চুরি করেছে তা ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানায়।

সন্ধ্যা নামার পর পর রিয়াদের আল-সোলহায় এলাকায় কয়েকশ’ লেবানিজ জাতীয় সংগীত গাইতে লাইন দিয়ে দাঁড়ান। একে অন্যকে জড়িয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। এসময় কয়েকজন নারীর চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। ৩০ বছর বয়সী ইঞ্জিনিয়ার নাবিল বলেন, রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে যে সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে সেটা আদায় করতে পারলে আমাদের প্রজন্মের জন্য বড় অর্জন হবে।

রাজধানীতে উল্লাসে যোগ দেন হিজবুল্লাহ ও আমাল মুভমেন্ট দলের সমর্থকরা। হারিরি টেলিভিশনে পদত্যাগের ঘোষণার আগে রাজধানী বৈরুতে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ কালো পোশাক পরে রাস্তায় জড়ো হয়। তারা কয়েকটি সরকারি স্থাপনার পাশে অবস্থান নেন। এতে পুলিশ ব্যপক প্রতিরোধ গড়তে টিয়ার গ্যাস ও রাবার গুলি চালালে বিক্ষোভকারীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়।

গত দুই সপ্তাহ ধরে লেবাননে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে বিক্ষোভ করছে তারা। এর প্রভাব পড়েছে দেশটির অর্থিক খাতে। মঙ্গলবার টেলিভিশনে এক ভাষণে হারিরি বলেন, তিনি প্রেসিডেন্টের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।

গত কয়েকদিন বিক্ষোভের সময়ে লেবাননের জনগণ রাজনৈতিক সমাধানের একটা পথ খুঁজে বের করতে সব রকম চেষ্টা করেছি। এবং তাতে জনগণ যেন খুশি হয়। উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর সরকার হোয়াটসঅ্যাপসহ যোগাযোগের অন্যান্য অ্যাপগুলোর উপর কর আরোপের ঘোষণা দিলে বিক্ষোভ শুরু হয় আরব বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দেশ লেবাননে।