হুমায়ুন কবির তালুকদার একাডেমিতে কোরআন শরীফ ছবক অনুষ্ঠতি

আজ মঙ্গলবার ২৯শে অক্টোবর ২০১৯ ইং সন্দ্বীপ পৌরসভায় অবস্থিত হুমায়ুন কবির তালুকদার একাডেমিতে কোরআন শরীফ ছবক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত তালুকদার একাডেমীর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদেরকে কোরআন শরীফ ছবক দেয়া হয় অত্যন্ত মনোরম পরিবেশে।
সকাল ১০ টায় ছবক অনুষ্ঠান শুরু হয় পবিত্র কোরআন তেলোয়াতের মাধ্যমে। প্রধান অতিথী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা কাজী নূরুল আবছার ও বিশেষ অতিথি ছিলেন মাওলানা মোঃ আলমগীর হোসেন, আমন্ত্রিত অতিথীবৃন্দ ছিলেন মাওলানা মোঃ ওমর ফারুক (সাবেক সুুপার অত্র একাডেমি), মাওলানা শিহাব উদ্দীন(সাবেক সুপার অত্র একাডেমী), মাস্টার মোঃ মাহমুদুল হাসান রাকিব (সাবেক শিক্ষক), মোঃ রফিকুল ইসলাম (অত্র একাডেমীর সেক্রেটারি), মোঃ জামশেদ সওদাগর (সামাজিক গন্যমান্য ব্যক্তি ও শিক্ষানুরাগী), রফিকুল মাওলা (সামাজিক গন্যমান্য ব্যাক্তি ও শিক্ষানুরাগী) এবং সভাপতিত্ব করেন অত্র একাডেমির কার্যকরী কমিটির সভাপতি মোঃ তাজউদ্দীন সুমন।

বক্তারা বলেন যে, ছবক অনুষ্ঠানের গুরুত্ব এই যে, কোরআন আল্লাহ্র বাণী। রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি পবিত্র কুরআনের একটি অক্ষর পড়বে, সে একটি নেকী পাবে। আর একটি নেকী দশটি নেকীর সমপরিমাণ। (তিরমিজি)

বক্তারা আরো বলেন যে, কোরআন শিক্ষা করা, মুখস্থ করা ও তাতে দক্ষতা লাভ করার ফজিলত সম্বন্ধে নবী করীম (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি কোরআন পাঠ করবে এবং তা মুখস্থ করবে এবং (বিধি-বিধানের) প্রতি যত্নবান হবে, সে উচ্চ-সম্মানিত ফেরেশতাদের সাথে অবস্থান করবে। আর যে ব্যক্তি কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও কোরআন পাঠ করবে এবং তার সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখবে সে দ্বিগুণ ছওয়াবের অধিকারী হবে। (বুখারী, মুসলিম)

বক্তারা বলেন যে, ইমাম খাত্তাবী (রহ.) বলেন হাদীসে এসেছে যে, জান্নাতের সিঁড়ির সংখ্যা হচ্ছে কুআনের আয়াতের সংখ্যা পরিমাণ। কুরআনের পাঠককে বলা হবে, তুমি যতটুকু কোরআন পড়েছ ততটি সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠ। যে ব্যক্তি সম্পূর্ণ কোরআন পড়েছে, সে আখেরাতে জান্নাতের সবশেষ সিঁড়ির ধাপে উঠে যাবে। যে ব্যক্তি কুরআনের কিছু অংশ পড়েছে সে ততটুকু উপরে উঠবে। অর্থাৎ যেখানে তার পড়া শেষ হবে সেখানে তার সওয়ারের শেষ সীমানা হবে।

তাঁরা বলেন যে, যার সন্তানে আল-কোরআন শিক্ষা করবে তার প্রতিদান সম্বন্ধে নবী করীম (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি কোরআন পাঠ করবে, শিক্ষা করবে ও তদানুযায়ী আমল করবে; তার পিতা-মাতাকে দু’টি পোশাক পরিধান করান হবে, যা দুনিয়ার সকল বস্তুর চেয়ে অধিক মূল্যবান। তারা বলবে, কোন্ আমলের কারণে আমাদেরকে এত মূল্যবান পোশাক পরানো হয়েছে? বলা হবে, তোমাদের সন্তানের কোরআন গ্রহণ করার কারণে। (হাকেম)

আরো বলেন যে, কোরআন তিলাওয়াত, অধ্যয়ন এবং কোরআন নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনার জন্য একত্রিত হওয়ার ফজিলত : রাসূল (সা.) বলেন, কোনো সম্পদ্রায় যদি আল্লাহ্র কোনো ঘরে একত্রিত হয়ে কোরআন পাঠ করে এবং তা পরস্পরে শিক্ষা লাভ করে, তবে তাদের ওপর প্রশান্তি নাজিল হয়, আল্লাহ্র রহমত তাদেরকে আচ্ছাদিত করে এবং ফেরেশতারা তাদেরকে ঘিরে রাখে। আল্লাহ্ তাঁর নিকটস্থ ফেরেশতাদের সামনে তাদের কথা আলোচনা করেন। (মুসলিম)

বক্তারা বলেন যে, কোরআন পাঠের আদব সম্বন্ধে ইমাম ইবনে কাসীর (র.) কোরআন পাঠের কিছু আদব উল্লেখ করেছেন, আর তা হচ্ছে – ক) পবিত্রতা অর্জন না করে কোরআন স্পর্শ করবে না বা তিলাওয়াত করা যাবে না, খ) কোরআন পাঠের আগে মেসওয়াক করে নিবে, গ) সুন্দর পোশাক পরিধান করবে, ঘ) কিবলামুখী হয়ে বসবে, ঙ) হাই উঠলে কোরআন পড়া বন্ধ করে দিবে, চ) বিনা প্রয়োজনে কোরআন পড়া অবস্থায় কারো সাথে কথা বলবে না, ছ) মনোযোগ সহকারে কোরআন পাঠ করবে, জ) সওয়াবের আয়াত পাঠ করলে থামবে এবং উক্ত সওয়াব আল্লাহ্র কাছে প্রার্থনা করবে। আর শাস্তির আয়াত পাঠ করলে তা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করবে, ঝ) (পঠন ব্যতিত) কোরআনকে খুলে রাখবে না বা তার ওপরে কোনো কিছু চাপিয়ে রাখবে না, ঞ) অন্যের ব্যাঘাত সৃষ্টি হয় এমন উচ্চ আওয়াজে কোরআন পড়বে না ও ট) বাজারে বা এমন স্থানে কোরআন পড়বে না যেখানে মানুষ আজেবাজে কথা-কাজে লিপ্ত।

তাঁরা আরো বলেন যে, কীভাবে কোরআন পাঠ করার ব্যাপারে আনাস ইবন মালিক (রা.)-কে রাসূলের (সা.) কোরআন পাঠের পদ্ধতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি উত্তরে বলেন, তিনি টেনে টেনে পড়তেন। ”বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” পাঠ করার সময় ”বিসমিল্লাহ্” টেনে পড়তেন, একইভাবে ”আররাহমান” টেনে পড়তেন, ”আররাহীম” টেনে পড়তেন। (বুখারী)

ছবক গ্রহণকারী ১ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা হলো; ১. মোঃ নূরুল আহাদ আজমীর, ২. নাদিয়া সুলতানা রিয়া, ৩. মোঃ মাহমুদুল হাসান, ৪. মোঃ আমিন রসূল , ৫. বিবি মরিয়ম নাদিলা, ৬. মোঃ আব্দুর রহমান তাহসিন, ৭. মোঃ মাহিদুল হাসান তুহিন, ৮. মোঃ জিহাদুল ইসলাম, ৯.ফাতেহাতুর রহমাহ, ১০. মুজাহিদুল ইসলাম (রাফি), ১১. আরিফ হোসেন, ১২. শামীম, ১৩. সুমাইয়া আকতার আনিকা, ১৪. মোহাম্মদ আমির হোসেন, ১৫. বিবি খাদিজা সাদিয়া, ১৬. আব্দুর রহমান সুদাইস, ১৭. সুমাইয়া বেগম, ১৮. মুশফিকা খানম, ১৯. তানজিনা আক্তার, ২০. ফিমা আক্তার, ২১. মোঃ তাহসিন, ২২. বিবি ফাতেমা আনিশা, ২৩. মোঃ আবির, ২৪. তানভীর হোসেন মাহিম, ২৫. রাজিয়া সুলতানা, ২৬. সাজেদা আক্তার জুঁই, ২৭. মাহমুদুর রহমান তাসিন, ২৮. জাহেদা আক্তার পুষ্প, ২৯. তাওসিন হোসেন শাওন, ৩০. সাবিয়া আক্তার সিমা, ৩১. আকাইদ উল্ল্যাহ, ৩২, মিফতাহুর রহমান ফারদীন, ৩৩. মোঃ সিয়াম, ৩৪. সাখাওয়াত হোসেন, ৩৫. সাদিয়া আকতার (আনন্দ), ৩৬. ইমতিয়াজ উদ্দীন নিরব, ৩৭. সায়্যেদ আহমেদ, ৩৮.খাদিজা বেগম মিমফা, ৩৯. আইরিন আক্তার, ৪০. মোঃ ইয়াছিন আরাফাত ৪১. আরিফ খান ৪২. মিনহাজুল হক ৪৩. জাফর ইসলাম ৪৪. রবিউল হোসেন মাহিন ও ৪৫. হুমায়রা কবির (ত্বাহা)

ছবক গ্রহণকারী ২য় শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা হলো: ১.মোঃ মাহমুদুল হাসান রাকিব, ২. মোঃ রাকিব হোসাইন, ৩. মোঃ আলি দিহান, ৪. মোসাম্মদ বিবি ফাতিমা মিমফা, ৫. আল আমিন সম্রাট, ৬. নুসরাত জাহান ৭. মোঃ সাদিয়া আকতার, ৮. মোসাম্মৎ জান্নাতুল নাঈমা, ৯. ওমর ফারুক, ১০. সামিয়া আকতার, ১১. মোঃ মাহিম, ১২. ইউছুফ হোসেন (ফারিয়া), ১৩. মোঃ নুরুল হাকিম, ১৪. রিফা আকতার, ১৫. আফরিন জাহান, ১৬. মাইমুনা সুলতানা, ১৭. রাজিয়া সুলতানা, ১৮. আবদুল আহাদ সিফাত, ১৯. মোঃ ইসমাইল হোসেন (ফাহিম) ২০. মোঃ জিহাদ, ২১. আলিয়া আকতার , ২২. জান্নাতুল ফেরদৌস, ২৩. আকবর হোসেন, ২৪. আবদুল্ল্যা, ২৫. আফসানা আকতার আঁখি, ২৬. জোবায়েদ হোসেন, ২৭. আরাবা আল ইমরান, ২৮. মাছুমা ফায়জা, ২৯. মাহমুদা বেগম, ৩০. সাজ্জাদ হোসেন, ৩১. সামিয়া আকতার, ৩২. সাকিবুল হাসান, ৩৩. আহসান হাবিব ৩৪. তাসফিয়া (তানিসা), ৩৫. রাকিবুল হাসান, ৩৬. সালমা আকতার মেঘনা ৩৭. সাজ্জাদ, ৩৮. মোঃ ইব্রাহিম ৩৯. মোঃ রায়হান ৪০. বিবি ফাতেমা, ৪১. মাছুমা সুলতানা, ৪২. ছামিয়া আক্তার ও ৪৩. জান্নাতুল মাওয়া।

অনুৃষ্ঠানকে মুখরিত করার জন্য বক্তব্যের বিরতির মাঝে চলেছে,পবিত্র কোরআন তেলোয়াত, হামদ, নাথ, মাসয়ালা ও দোয়া পরিবেশন করে বিভিন্ন ক্লাসের ছাত্রছাত্রীবৃন্দ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ক্বারী মাওলানা ফখরুল ইসলাম। একাডেমীর সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন প্রতিষ্ঠান প্রধান মাওলানা নাছির উদ্দীন ও প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিগণ। উক্ত ছবক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উক্ত একাডেমির ছাত্রছাত্রীবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ অভিভাবকগণ ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন অত্র একাডেমির শিক্ষক মাস্টার সাহেদুর রহমান ও মাস্টার মাকছুদুর রহমান। তাদের সহযোগিতা করেছেন মাওলানা মোঃ ইব্রাহিম, মাস্টার মোঃ আশরাফ উদ্দিন, মওলানা মন্জুর আলম, ম্যাডাম মাসুম বেগম, মাস্টার মোঃ মাহমুদুল হাসান, মাওলানা হাফিজ সাজ্জাদ মাহমুদ, হাফেজ ওমর ফারুক ও কেয়ার টেকার নাজিম উদ্দিন।
সভাপতির বক্তব্যের শেষে ছাত্রছাত্রীদের ছবক প্রদানের পর অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীদের মাঝে তবারুক বিতরণ করা হয়। মুসলিম উম্মার নেক নিয়ত মহান রাব্বুল আলামিন কবুল করার জন্য মোনাজাত ও দোয়ার মাধ্যমে ছবক অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
প্রেস রিলিজ।

প্রেস রিলিজ।