মৃত বাবার নম্বরে রোজ মেসেজ করতেন মেয়ে, চার বছর পরে এল রিপ্লাই! চোখের জলে ভাসছে নেট-দুনিয়া

প্রিয়জনকে হারানোর যন্ত্রণা সহ্য করা বোধহয় সবচেয়ে কঠিন। অপার শূন্যতা নিয়ে প্রতিদিনের সব কাজ, সব অভ্যেস পালন করে যাওয়া কারও পক্ষেই সহজ হয় না। সে প্রিয়জন যদি হন ছাতার মতো, অবলম্বনের মতো, তা হলে তাঁকে ছাড়া জীবনের এক একটা দিন পার করা যেন নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে। এমনটাই হয়েছিল ২৩ বছরের চেস্টিটি প্যাটারসনের সঙ্গে। বাবা মারা যাওয়ার পরে খুবই ভেঙে পড়েছিলেন দক্ষিণ আমেরিকার আর্কানসাস এলাকার নিউপোর্টের বাসিন্দা চেস্টিটি। সেই যন্ত্রণা থেকে, শূন্যতা থেকে, রোজ একটি করে মেসেজ পাঠাতেন মৃত বাবার ফোন নম্বরে।

চার বছর পরে হঠাৎ এক দিন এল সেই মেসেজের রিপ্লাই! খুলে গেল হৃদয়বিদারক এক অজানা কাহিনির পাতা!

বাবা চলে যাওয়ার পর থেকে, বাবাকে খুব মিস করতেন চেস্টিটি। সে কথাই তাঁকে জানাতেন রোজ মেসেজে। জানাতেন, কতটা ভালবাসেন তিনি বাবাকে। জীবনে যে দিন বিশেষ কোনও ঘটনা ঘটত, যেমন চেস্টিটির গ্র্যাজুয়েট হওয়ার দিনটা– সে দিন বেশিই দীর্ঘ হতো মেসেজ। ভালবাসায়, কষ্টে উপচে পড়ত প্রতিটি লাইন।

চেস্টিটির মস্তিষ্ক বলত, মৃত মানুষের কাছে জাগতিক মেসেজ পৌঁছয় না। তাঁর বাবার কাছেও পৌঁছচ্ছে না। এত কথা মোটেও জানতে পারছেন না তাঁর বাবা। কিন্তু মন বলত, এমনি করেই বাবার সঙ্গে জুড়ে থাকবেন তিনি। নাই বা জানতে পারলেন বাবা, কিন্তু তাঁর জানানো তো হল! শেয়ার তো করা হল! বাবা চলে যাওয়ার পরে ক্যানসার হয়েছিল চেস্টিটির। দীর্ঘ লড়াইয়ে সেরে ওঠেন তিনি। সেই সেরে ওঠার খবরও বড় আনন্দ করে ‘বাবাকে’ জানিয়েছিলেন চেস্টিটি।

চেস্টিটি লিখেছিলেন, “চার বছর হয়ে গেল, তুমি নেই। কিন্তু আমার একটা দিনও পেরোয় না, যেদিন তোমায় মিস করি না। তোমার যখন আমায় সবচেয়ে দরকার ছিল, তখন তোমার পাশে থাকতে পারিনি, আমি সরি। কিন্তু একদিন নিশ্চয় আমরা একসঙ্গে বসে আমাদের ফেভারিট ম্যাচ দেখার সুযোগ পাব।”

এভাবেই চলছিল রোজ। চার বছর ধরে।

হঠাৎ এল রিপ্লাই! চমকে উঠে সে মেসেজ খুললেন চেস্টিটি। তাতে লেখা, “আমার নাম ব্র্যাড। আমি তোমার বাবা নই। কিন্তু রোজ তোমার মেসেজ পাই। ২০১৪ সালোর অগস্ট মাসে আমার মেয়ে মারা যায় একটি গাড়ি দুর্ঘটনায়। তার এক বছর পর থেকেই তোমার মেসেজ আসতে শুরু করে। এই মেসেজগুলোই আমায় বাঁচিয়ে রেখেছে। যখন তুমি মেসেজ করো, আমার মনে হয়, আমি ঈশ্বরের বার্তা পেলাম।”

চমকে ওঠেন চেস্টিটি। তাঁর মেসেজ যে বাবার কাছে পৌঁছচ্ছে না এ কথা জানতেন তিনি। কিন্তু তাঁর মেসেজ পেয়ে যে অন্য কোনও কন্যাহারা বাবা নতুন করে বাঁচছেন, সন্তানস্নেহে সিক্ত হচ্চেন, তা তিনি ভাবতেও পারেননি! ব্র্যাডের ওই মেসেজে আরও লেখা ছিল, “আমি চার বছর ধরে তোমার প্রতিটা কথা শুনছি। আমি বোধহয় সবচেয়ে কাছ থেকে তোমায় বড় হয়ে উঠতে দেখছি।”

অচেনা এই বাবা-মেয়ের মেসেজের কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় সামনে আসার পরেই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি নেটিজেনরা। আবেগে, মমতায় ভেসে গিয়েছেন তাঁরা। ব্র্যাড আরও লিখেছেন, “আমার সেই প্রথম দিন থেকেই খুব খুব ইচ্ছে করত, তোমায় রিপ্লাই দিই। কিন্তু আমি তোমার বিশ্বাস ভাঙতে চাইনি। তুমি নিশ্চয় তোমার বাবার জন্যই এগুলো পাঠাতে। কিন্তু এগুলো যে অন্য কেউ পড়ছে, তা জানলে হয়তো তোমার খারাপ লাগতে পারত।”

নেটিজেনরা বলছেন, কার কোন কাজ যে কখন কীভাবে কাকে ছুঁয়ে যায়, তা হয়তো সে জানতেও পারে না। নিজের অজান্তেই চেস্টিটি কষ্ট ভাগ করেছেন এমন একজন মানুষের সঙ্গে, যিনি নিজেও কষ্টে বিদীর্ণ হয়ে ছিলেন। এবং চেস্টিটির সেই কষ্টের ভাগাভাগি তাঁর কষ্ট লাঘবের কারণ হয়ে ওঠে। নিজেদের অজান্তেই দু’জন দু’জনের পাশে থেকে গেছেন। এক জনও যদি একটু কম সংবেদনশীল হতেন, তা হলে হয়তো এমন একটা স্নেহের বন্ধন তৈরিই হতো না।