ফেরত গিয়েছে ইজিপ্টের ক্রুটিপূর্ণ এয়ারক্রাফট, ৬৬০ কোটি টাকা গচ্চায় ক্ষতির মুখে বিমান বাংলাদেশ

অবশেষে বাংলাদেশ বিমানের ‘গলার কাঁটা’ হিসেবে পরিচিত মিসর থেকে ভাড়ায় আনা দুটি ত্রুটিপূর্ণ এয়ারক্রাফট ফেরত গিয়েছে। আর এই দুটি এয়ারক্রাফটের জন্য বাংলাদেশ বিমানের ক্ষতি হয়েছে ৬৬০ কোটি টাকা। এ কারণে আবারও বিশাল ক্ষতির মুখে পরেছে বাংলাদেশ বিমান।

বিমান কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে, ১৬ জুলাই প্রথম বিমানটি মিসর পাঠানো হয়। ২য় বিমানটি বিদায় দেয়া হয় ২২ অক্টোবর। উড়োজাহাজটি ফিলিপাইনের একটি মেরামত শপ ছিলো। সেখান বিমানটি নিয়ে মিশরে যায় বিমানের পরিচালক ফ্লাইট অপারেশন (ডিএফও) ক্যাপ্টেন এবিএম ইসমাইল ও ক্যাপ্টেন ইসহাকের নেতৃত্বে একটি টিম। তারা উড়োজাহাজটি মিশরে গিয়ে ফিরিয়ে দিয়ে আসেন। এসব তথ্য বিমান সূত্রে জানা গেছে। দুটি উড়োজাহাজই দীর্ঘদিন ফিলিপাইনে ওভারহোলিংয়ের কাজে হ্যাঙ্গারে পড়ে ছিল।

চুক্তি অনুযায়ী ভাড়া নেয়ার সময় উড়োজাহাজ দুটি যে অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল, ফেরত দেয়ার সময় সে অবস্থা করে দিতে হবে। এ কারণে প্রায় ৬ মাস উড়োজাহাজ দুটি ফিলিপাইনের একটি ওভারহোলিং শপের হ্যাঙ্গারে রাখা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এয়ারক্রাফট দুটি নেয়ার সময় অসম চুক্তি করায় ফেরত দিতে এ বিশাল অঙ্কের টাকা গুনতে হয়েছে। বিমান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ দুটি লিজ চুক্তিতে আনা হয়েছিল মিথ্যা তথ্য দিয়ে। যে কারণে লাভের চেয়ে ক্ষতি হয়েছে বেশি। মাসে ১১ কোটি টাকা হারে পাঁচ বছরে ৬৬০ কোটি টাকা মাশুল গুনতে হয়েছে। হিসেবে দেখা গেছে দুটি বিমানে বছরে গচ্চা দিতে হয়েছে প্রায় ১৩২ কোটি টাকা।

২০১৪ সালের মার্চে পাঁচ বছরের চুক্তিতে ইজিপ্ট এয়ারলাইন্সের কাছ থেকে দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর লিজ নেয় বিমান। এর একটি বিমানের বহরে যুক্ত হয় ওই বছরের মার্চে ও অন্যটি একই বছরের মে মাসে।

কিন্তু উড়োজাহাজ দুটি ১১ মাস পার হতে না হতেই ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতেই বিকল হয়ে পড়ে একটির ইঞ্জিন। ওই উড়োজাহাজটি মেরামত করতে ইজিপ্ট এয়ার থেকেই ভাড়ায় আনা হয় আরেকটি ইঞ্জিন। অপরদিকে দেড় বছরের মাথায় নষ্ট হয় বাকি ইঞ্জিনটিও।

আবারও চড়া দামে ভাড়ায় আনা হয় আরেকটি ইঞ্জিন। এরপর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অজুহাতে নষ্ট হতে থাকে উড়োজাহাজ দুটি। একপর্যায়ে নষ্ট হয়ে যায় ভাড়ায় আনা ইঞ্জিনও। এরপর ইঞ্জিনগুলো মেরামত করতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি শপে পাঠানো হয়।

কারণ ইঞ্জিনগুলো এমনই দুষ্কর মডেলের ছিল যে যুক্তরাষ্ট্রের ওই শপ ছাড়া বিশ্বের আর কোনো কারখানায় মেরামত সম্ভব ছিল না। এতে মোটা অঙ্ক হাতিয়ে নেয় ওই শপ। মেরামত করতে পাঠানোর কারণে বিমানকে উড়োজাহাজ না চালিয়ে ভাড়ার ১১ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে প্রতিমাসে।

দীর্ঘদিন পরে হলেও বিমান কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। সংশ্লীষ্টরা বলছেন, অসম চুক্তির জন্য দায়ী বিমানের পরিকল্পনা বিভাগ। বিদেশি বিমান সংস্থাগুলো যেভাবে চুক্তির খসড়া তৈরি করে দেয়, পরিকল্পনা বিভাগ সেটা বাস্তবায়ন করে। এখন সময় হয়েছে বিমানের পরিকল্পনা বিভাগ ঢেলে সাজানোর।