অশান্ত ইরাকে সরকার-বিরোধী বিক্ষোভে ফের গুলি, নিহত কমপক্ষে ৪২

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে জমায়েত হওয়া বিক্ষোভকারীদের হটাতে রাবার বুলেটের পাশাপাশি ঝাঁকে ঝাঁকে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়া হয়। বাগদাদের মূল ব্রিজ চত্বরের চারপাশ ঢেকে যায় সাদা ধোঁওয়ায়। ইরাক পুলিশের তরফে এদিন ২৩ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর খবর স্বীকার করা হয়েছে। জখম হয়েছে আরও কয়েক ডজন। শনিবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী আদিল আব্দুল মাহদি ঘোষণা করেন প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করা যাবে কিন্তু কিছুতেই সহিংসতা মেনে নেয়া হবে না।

কিন্তু সরকার বিরোধী বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে শুক্রবার ফের গুলি চালায় ইরাক পুলিশ। পুলিশের তরফে শূন্য গুলি চালানোর কথা বলা হলেও, এখনও পর্যন্ত ৪২ জন প্রতিবাদীর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে শতাধিক।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর শান্তির বার্তাতেও কাজ হচ্ছে না। অশান্ত ইরাকে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের তীব্রতা ক্রমে বাড়ছে। সেইসঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে মৃত্যুমিছিলও। সবমিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই গত কয়েকদিনে ১০০ ছাড়িয়েছে। আহত দু-পক্ষের প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন।

দুর্নীতি, বেকারত্ব, জীবনযাপনের খারাপ মান– এ সবের বিরুদ্ধে গত ১ অক্টোবর থেকে বিক্ষোভ চলছে ইরাকে। ২০০৩-এ দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর শিয়া সম্প্রদায়ই ইরাকের শাসনব্যবস্থা সামলাচ্ছে। তারাই গত বছর ক্ষমতায় এনেছে আদেল আব্দুল-মেহদিকে। এই বিক্ষোভ সামলানো এখন মেহদির কাছে বড়সড় পরীক্ষা।

ক’দিন আগে দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণে মেহদি বলেন, ইরাকের সমস্যার কোনও ‘ম্যাজিক সমাধান’ নেই। বিক্ষোভকারীদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন তিনি। কিন্তু তাতে বিশেষ লাভ হয়নি। বরং প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনে আরও ক্ষেপে ওঠেন বিক্ষোভকারীরা।

গত কয়েকদিনে বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণ করতে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে। বাগদাদ, নাসসিরিয়া, আমারা, বাকুবাতে প্রাণ গিয়েছে কমপক্ষে ৬০ জনের। পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণে কার্ফু জারি হয়েছে। বন্ধ রাস্তাঘাট, সেনা কনভয় ছাড়া কিছু চোখে পড়ছে না। ন্যূনতম বেতন স্থির করতে আর্থিক সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন মেহদি। কিন্তু আশ্বাসে চিঁড়ে ভিজছে না।