প্রবাসীদের ভোটার করতে ইসি টিম ৪ দেশে যাচ্ছে

বাংলাদেশীদের ভোটার নিবন্ধন করতে সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত(ইউএই) ও যুক্তরাজ্য যাচ্ছে নির্বাচন কমিশনের টিম। প্রবাসীদের নিবন্ধনের পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে এর আগেও কমিশন তাদের একটি দলকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিলো। গত সেপ্টেম্বরে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুতও ছিলো কমিশন। কিন্তু সিঙ্গাপুর সরকারের সবুজ সংকেত না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি বলে ইসি কর্মকর্তারা জানান। ইউএনবি

ইসির জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন শাখার মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সিঙ্গাপুরে যাওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছি এবং তাদের সরকারের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করছি। এরমধ্যে আমরা আরও চার দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছি।’

‘আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আমরা ওই চারটি দেশে যাবো’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিবন্ধনে ২০২০ সালের মধ্যে ৫০টি দেশে যাবো আমরা।’ তিনি বলেন, প্রবাসীদের থেকে অনলাইনে আবেদনপত্র নেয়ার আগে কমিশন ওই চারটি দেশের বাংলাদেশ মিশনের সাথে ভিডিও কনফারেন্সের আয়োজন করবে।

জাতীয় পরিচয়পত্র শাখার মহাপরিচালক আরও বলেন, ইসি বিশ্বের প্রায় সব দেশে যাবে না, কারণ বাস্তবে প্রায় ৫০টি দেশকে কেন্দ্র করেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা রয়েছেন।

‘তবে অন্য দেশে (৫০টি দেশের বাইরে) অবস্থানরত বাংলাদেশিরা পার্শ্ববর্তী দেশে গিয়ে ভোটার হতে পারবেন, যেখানে বাংলাদেশ কমিশন তাদের ভোটার হিসাবে তালিকাভুক্ত করার জন্য ডেস্ক খুলবে।

জানা যায়, ভোটার হতে ইচ্ছুক প্রবাসীদের প্রথমে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। পরে আবেদনে দেয়া তথ্যগুলো জাতীয় পরিচয়পত্র শাখা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে পাঠাবে। যাতে রোহিঙ্গাসহ বিদেশি নাগরিক ভোটার হতে না পারে।

যাচাই-বাছাই হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের দল ওই দেশগুলোতে আবার গিয়ে প্রবাসীদের বায়োমেট্রিক- আঙুলের ছাপ নিবে। যেখানে অটোমেটেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এএফআইএস) ব্যবহার করা হবে। তারপরে অনুমোদন প্রাপ্ত ভোটারদের এনআইডি কেন্দ্রীয় সার্ভারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

জাতীয় পরিচয়পত্র শাখার কর্মকর্তারা জানান, প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনের মাধ্যমে প্রবাসীদের স্মার্ট এনআইডি কার্ড সরবরাহ করা হবে।

ইসি সূত্রে জানা যায়, প্রবাসীরা যে কোনো স্থান থেকে অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করতে পারবেন। পাশাপাশি, কমিশনও ফরম পূরণের ক্ষেত্রে সহায়তা দেয়ার জন্য মিশনগুলোতে হেল্পডেস্ক স্থাপন করবে।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ থেকে ২০১৯ (সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ১ কোটি লাখ ২৬ লাখ ৬৯ হাজার ৩৮৯ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। যাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবস্থান করছেন সৌদি আরব, ইউএই, ওমান, মালয়েশিয়া, কাতার, সিঙ্গাপুর, কুয়েত ও বাহরাইনে।

কেএ/এমআই/এসবি