ভারতের সাথে অসম চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে- গনতান্ত্রিক বাম ঐক্য

১৩ অক্টোবর রবিবার সকাল ১১ টায় গনতান্ত্রিক বাম ঐক্য’র ২২/১ তোপখানা রোডস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গনতান্ত্রিক বাম ঐক্য’র সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী ‘র সাধারণ সম্পাদক কমরেড ডাঃ এম এ সামাদ।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উওর দেন বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড হারুন চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য কমরেড ডাঃ এম এ সামাদ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে। তিনটি প্রকল্প উদ্ভোধন ও একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী’র।

সমঝোতা স্মারক ও বিবৃতিতে বাংলাদেশের জনগনের সকল স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে। আর ভারতের বেশ কিছু স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহকে গ্রহণ করা হয়েছে। এটি দু’দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার কোন চুক্তি হয়নি শুধু নরেন্দ্র মোদী তথা ভারতকে খুশি রেখে যেনতেন ভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে তাদের সমর্থন আশির্বাদ ও সহযোগিতা পাওয়ার আশায় ভারতকে একতরফা সুবিধা গ্রহণের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। এর আগেও বারবার ভারতকে একইভাবে একতরফা সুবিধা দিয়ে আসা হয়েছে। বিধায় বাংলাদেশের শাসকগোষ্টী ভারতকে বন্ধু ভাবলেও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে ভারত সম্পর্কে বৈরী মনোভাব সঞ্চিত হচ্ছে।

তিস্তাসহ অভিন্ন নদীসমূহ থেকে বাংলাদেশের পানি প্রাপ্তির ন্যায্য হিস্যার বিষয়টি বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রাখা হলেও, বাংলাদেশ কর্তৃক ফেনী নদীর ১.৮২ কিউসেক পানি ভারতকে প্রদান করার চুক্তিতে রাজী হওয়ায় বাংলাদেশের মানুষ বিস্মিত ও হতাশ হয়েছে। বাংলাদেশ কর্তৃক ভারতে ‘এলপিজি’ রপ্তানির বিষয়টি অনভিপ্রেত এবং দেশের স্বার্থের জন্য আত্মঘাতি ও জনগণের সাথে প্রতারনা এবং বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।

ভারত নাগরিকপঞ্জির নামে ভারতীয় মুসলমানদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত করলেও বিবৃতিতে এ প্রসংগে কিছু বলা হয়নি রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত-বাংলাদেশকে কোন প্রকার সহযোগিতা করতে রাজি হয়নি। একতরফা ভাবে কোনো এক দেশের স্বার্থ রক্ষার এমন চুক্তি নজির বিহীন বলে দেশবাসী এমন অসম চুক্তি বাতিলের দাবীতে রাজপথে লড়াই করবে।

ভারত যে একটি আগ্রাসী ও সম্প্রসারনবাদী ফ্যাসিবাদী রাষ্ট তার প্রমান বাংলাদেশের সমুদ্র উপকুলে বঙ্গোপসাগর পর্যবেক্ষণের জন্য ভারতের ২০টি রাডার বসানোর যে চুক্তি সম্পাদিত করেছে যা এ অঞ্চলের বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জন্য হুমকি স্বরুপ বলে দেশবাসী মনে করেন।

বাংলাদেশের শাসক গোষ্ঠী আর ভারতের শাসকগোষ্ঠি বন্ধু হতে পারে কিন্তু বাংলাদেশের জনগন তাদের শত্রু ভাবতে শুরু করেছে এটা কারোরই কাম্য নয় প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে তিস্তা’র পানি চুক্তি, সীমান্তে মানুষ হত্যা, ভারতের নাগরিকপঞ্জি এবং রোহিংগাদের ফেরৎ পাঠানোতে ভারতের ইতিবাচক মনোভাব প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু এ সফরে বাংলাদেশের মানুষের জন্য অনেক বড় হতাশা ও বঞ্চনা নিয়ে এসেছে। দুই দেশের শাসকগোষ্ঠীর মধ্যকার এই চুক্তি আমরা দেশের জনগনের স্বার্থ পরিপন্থী এই চুক্তি বতিলের দাবী জানান।

অসম চুক্তি বাতিলের দাবীতে আগামী ১৭ ই অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় এক সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচী ঘোষনা করেন।

উপস্থিত ছিলেন জোটের শরীক দল সমাজতান্ত্রিক মজদুর পার্টির সাধারন সম্পাদক কমরেড ডাঃ সামছুল আলম, এসডিপির আহ্বায়ক কমরেড আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট কমিউনিস্ট পার্টির সহ সাধারন সম্পাদক কমরেড মোখলেছুর রহমান, সাম্যবাদী দলের কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড আবু মাসুম, সমাজতান্ত্রিক মজদুর পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড সিরাজুল ইসলাম মাষ্টার, এসডিপির কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড সজল প্রমূখ।