জেএসডি’র জাতীয় পরিষদের সভার প্রস্তাব- জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি

বর্বরোচিত ভাবে আবরার হত্যা, আইওয়াশের ক্যাসিনো অভিযান ও বিনা প্রাপ্তিতে ফেনী নদীর পানিসহ জাতীয় স্বার্থ ভারতের কাছে বিকিয়ে দেয়ার প্রতিবাদে জনতার বিক্ষোভের মধ্যে সরকারের পদত্যাগ ও জাতীয় সরকার গঠন অপরিহার্য।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি জাতীয় পরিষদের সভার প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ভোট ডাকাতি, ঘুষ, খুন-ধর্ষণ, দখলবাজী, টেন্ডারবাজী, চাঁদাবাজী, বিদেশে টাকা পাচার ইত্যাদিতে জনগণ প্রচন্ড বিক্ষুদ্ধ। সর্বশেষ বর্বরোচিতভাবে আবরার হত্যা, আইওয়াশের ক্যাসিনো অভিযান ও বিনা প্রাপ্তিতে জাতীয় স্বার্থ ভারতের কাছে বিকিয়ে দেয়ার ফলে সরকারের পতন অনিবার্য হয়ে ওঠেছে। সরকারের পতনের পর জাতীয় ঐক্য রক্ষা ও সংঘাত-সহিংসতা থেকে জাতিকে রক্ষা করার জন্য জাতীয় সরকার গঠন অপরিহার্য।

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন ভোট ডাকাতির মাধ্যমে ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নির্বাচন কাঠামো ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে চুড়ান্তভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। তিস্তা নদীর পানি সহ বাংলাদেশের ন্যায্য কোন দাবী আদায় ছাড়াই ভারতকে ফেনী নদীর পানি, এলপি গ্যাস, চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের অনুমতি, বঙ্গোপ সাগরের উপকুলে ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণের অনুমতি প্রদানের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ক্ষুন্ন করা হয়েছে। এর সাথে ভিন্নমত পোষণের কারণে বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে সরকারী ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বর্বরোচিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

প্রতি বছর দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হচ্ছে।
ব্যাংক ও শেয়ার বাজার থেকে লক্ষ কোটি টাকা লুটেরাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে, মন্ত্রী-নেতা সহ গড ফাদারদের না ধরে ক্যাসিনোর ক্ষেত্রেও চুনুপঁটিদের ধরে জনগণের আইওয়াশ করা হচ্ছে।

বিশ হাজার টাকার পর্দা এক লক্ষ সাঁইত্রিশ হাজার টাকায় কেনা ও পাঁচ হাজার টাকার বই পঁচাশি হাজার টাকায় কেনার মতো অসংখ্য ঘটনা ঘটে চলছে।

উৎপাদিত পন্যের ন্যায্য মূল্য থেকে কৃষকদের বঞ্চিত করা হচ্ছে অথচ ভোক্তাদের অস্বাভাবিক উচ্চ মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে হচ্ছে।

দেশে আইন-শৃঙ্খলা, জানমালের নিরাপত্তা বলতে আজ কিছুই নেই। ছেলে-মেয়েরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসার পর অভিভাবকরা সবসময় উদ্বিঘœ থাকে তাদের সন্তানরা জীবিত ফিরে আসতে পারবে কি-না, এ নিয়ে।

এতে সরকারের পদত্যাগ ও পরবর্তীতে জাতীয় ঐক্য রক্ষা এবং সংঘাত-সহিংসতা থেকে দেশকে রক্ষার জন্য জাতীয় সরকার গঠন আজ অপরিহার্য হয়ে ওঠেছে। এ লক্ষ্যে জেএসডি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে জাতীয় ঐক্যের প্লাটফর্মে পরিণত করা ও সর্বব্যাপক সংগ্রাম গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহন করবে।

আন্দেলন-সংগ্রামকে গতিশীল করার জন্য দলকে শক্তিশালী করার একান্ত প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে জেএসডি অবিলম্বে সকল জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, পৌরসভা ও শিল্পাঞ্চল শাখার কাউন্সিল/সম্মেলন/কমিটি গঠন-পুন:গঠন শেষ করে আগামী ২৮ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠান করবে।

জেএসডি সভাপতি জনাব আ স ম আবদুর রব এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক জনাব আবদুল মালেক রতন, এম এ গোফরান, মোঃ সিরাজ মিয়া, মিসেস তানিয়া রব, শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, এম এ আউয়াল, এ্যাড. আবদুর রহমান,গোলাম জিলানী চৌধুরী,আবদুল জলিল চৌধুরী,সা ক ম আনিসুর রহমান কামাল,সোহরাব হোসেন,এডভোকেট মিন্টু ভৌমিক,কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী, এ্যাড. সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল, মোশারফ হোসেন, মতিউর রহমান মতি,খান মোঃ লোকমান হোসেন, এ্যাড. কাউছার নিয়াজী, এডভোকেট বিকাশ চন্দ্র সাহা, শফিউল আলম, অধ্যাপক আমির উদ্দিন,আবদুল লতিফ খান,সামছুল আলম নিক্সন,আবুল কাসেম পাটোয়ারী,ডা. সাদেক জাহেদী,সৈয়দ বিপ্লব আজাদ,আবদুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।