আবরার হত্যার ঘটনায় বিস্মিত বৃটেন,নিরপেক্ষ তদন্ত চায় জাতিসংঘ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে ঢাকাস্থ বৃটিশ হাইকমিশন। আজ হাইকমিশন নিজস্ব ফেসবুক পেজে বাংলা ও ইংরেজিতে দেয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, বুয়েটে ঘটে যাওয়া ঘটনায় আমরা বিস্মিত ও মর্মাহত। বৃটেন বাকস্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রসঙ্গে নিঃশর্তভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।

উল্লেখ্য, গত ৬ই অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের ১৯ জন নেতাকর্মীকে অভিযুক্ত করে মামলা হয়েছে। এরই মধ্যে ১৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে ১০ জনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়ে ১১ জনকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করেছে ছাত্রলীগ। ৫ই অক্টোবর নিজের ফেসবুক আইডি থেকে করা এক পোস্টের জেরে আবরারকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। আবরার বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।।
জাতিসংঘ:
মুক্তভাবে নিজের মত প্রকাশের অভিযোগে বুয়েটের তরুণ ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। আজ বুধবার জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কের অফিস থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা বলা হয়েছে, বছরে পর বছর ক্যাম্পাসের সহিংসতায় বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝরেছে বহু প্রাণ। কিন্তু এসব ঘটনায় দায়ীরা দৃশ্যত পায় দায়মুক্তি। অভিযুক্ত হত্যাকারীদের কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তার করেছে এ বিষয়টিতে নোট নিয়েছে জাতিসংঘের বাংলাদেশ অফিস। ওই বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, জাতিসংঘ এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত উৎসাহিত করে, যাতে সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচারের পথ করে দেয় এবং একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার প্রতিরোধ নিশ্চিত হয়। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, মুক্তভাবে কথা বলা হলো মানুষের মানবাধিকার। এ জন্য কাউকে হয়রানি করা, নির্যাতন করা অথবা কাউকে হত্যা করা উচিত নয়।
ওদিকে আবরার হত্যাকাণ্ডে ডিকাব-এর সঙ্গে এক মতবিনিময়কালে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো।