শারীরিক সম্পর্কে রাজি না হওয়ায় রাস্তা বন্ধ

প্রতিবেশীর সুন্দরী স্ত্রীর দিকে নজর পড়ে গ্রামের ধনাঢ্য মিজানুর রহমান মিজানের (৩৬)। জীবীকার তাগিদে প্রায়ই বাড়ির বাইরে থাকতে হয় ওই নারীর স্বামী তারা মিয়াকে। তিনি একজন সবজি বিক্রেতা। এই সুযোগে এই নারীকে কাছে পেতে নানাভাবে চেষ্টা করেন। শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য সরাসরি প্রস্তাব দেন মিজান। কিন্তু তিনি অসম্মতি জানান। শেষ পর্যন্ত ওই নারীকে কাছে পেতে ব্যর্থ হয়ে এই দরিদ্র পরিবারের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে রংপুরের গঙ্গাচড়ার গজঘন্টা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাবু মিয়াজী পাড়ায়।
এ ঘটনায় আইনের আশ্রয় নিয়েছে দরিদ্র পরিবারটি। ওই নারী বাদী হয়ে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনালে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলা ও এলাকবাসী সূত্রে জানা যায়, মিয়াজী পাড়ার হামিদ আলীর পুত্র মিজানুর রহমান মিজান ও তার বাড়ির পাশেই ক্ষুদ্র সবজি ব্যবসায়ী দরিদ্র তারা মিয়ার বাড়ি। তারা মিয়া ব্যবসার কারণে প্রায় সময় গ্রামের বাইরে থাকেন। এই সুযোগে তার স্ত্রীকে কু-প্রস্তাব দেন মিজান। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ভিন্নপথ অবলম্বন করেন তিনি।

অভিযোগ করা হয়েছে, গত ৭ই আগষ্ট রাত ১০ টার দিকে ওই নারীর ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন মিজান। এসময় মিজানকে ঝাপটে ধরেন ওই নারী। তখন চিৎকার দিলে আশ-পাশের লোকজন এগিয়ে যায়। তবে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে রক্ষা পান মিজান।

বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে আপোষের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু মিজান ও তার পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের আপোষের উদ্যোগে সাড়া দেননি। উল্টো মিজান ও তার ভাইয়েরা তারা মিয়ার বাড়িতে গিয়ে এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি না করতে হুমকি দেয়। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা সৃষ্টি হলে তারা মিয়া ও তার স্ত্রীকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তারা মিয়ার স্ত্রী বলেন, মিজান প্রায় সময় আমাকে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো। আমি রাজি না হওয়ায় সে আমার স্বামীর অনুস্থিতির সুযোগ নিয়ে আমার সর্বনাশ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এখন আমাদের চলাচলের পথ বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। গত দেড় মাস ধরে আমরা বাড়ি থেকে ঠিকমত বের হতে পারছিনা। বিকল্প পথে কষ্টে আসা-যাওয়া করছি।