কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে বাধ্য করছে চীন-ভারত: ড. ইফতেখারুজ্জামান

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘট বা গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইকের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ ও প্রতিবাদ র‌্যালিতে অংশ নিয়ে শুক্রবার সকালে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক এ মন্তব্য করেন। প্রতীকী অবস্থান ধর্মঘটে টিআইবির সহযোগী সংগঠনগুলো অংশ নেয়। বিডিনিউজ২৪

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে সরে আসছে তখন আমরা নতুনভাবে এ প্রকল্পে নিজেদের জড়িয়ে ফেলছি। যেসব দেশ আমাদের দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থ ব্যয় করছে তারা নিজেদের দেশ থেকে সরে এসেছে। বিশেষ করে ভারত ও চীন। তারা আমাদের দেশে এসে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাস্তবায়নে সরকারকে জিম্মি করে দাবি আদায় করছে।

তিনি বলেন, আমরা বৈশ্বিক শত্রুর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। আমাদের ঘরের শত্রু কিন্তু আরও বেশি বিভীষণ। কারণ ঘরের শত্রু এখন বাংলাদেশকে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বৈশ্বিক হারে রূপান্তর করছে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিদ্যুৎ খাতে মহাপরিকল্পনার যে খসড়া করেছেন সেখানে আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে কয়লাভিত্তিক ২০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র করবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু কয়লা পুড়িয়ে ৩০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায়। অথচ গ্রিনপিসের তথ্যমতে শুধু মাতারবাড়িতে এক হাজার ৩০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু হলে পরবর্তি ৩০ বছরে ওই এলাকায় ১৪ হাজার মানুষের অকাল মৃত্যু হবে।

টিআইবি পরিচালক বলেন, এখন পর্যন্ত যারা কার্বন নিঃসরণকারী জ্বালানি নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র করছে, পরিকল্পনা গ্রহণ করছে; তাদেরকে এই আত্মঘাতী পথ থেকে সরে আসার আহ্বান জানাই। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে আমরা জলবায়ু পরিবর্তনে অবদান রাখছি। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর।

২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধের আহ্বান জানান টিআইবির এই নির্বাহী পরিচালক।