৬০ টি ক্যাসিনোতে প্রতিদিন প্রায় গড়ে ১২০ কোটি টাকার জুয়া খেলা হতো:রাজেকুজ্জামান রতন

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল- বাসদ কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন বলেছেন, অন্ধকার রাতে বিদ্যুৎচমকের মতো রাজধানীর ক্লাবগুলোতে একের পর এক ক্যাসিনো আবিস্কার দেখিয়ে দিলো সমাজের এক ভয়াবহ দুষ্টু ক্ষত। ৬০ টি ক্যাসিনোতে প্রতিদিন প্রায় গড়ে ১২০ কোটি টাকার জুয়া খেলা হতো। বুধবার সকালে দলের রাজধানীর তোপখানা রোডে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাক্ষাতে তিনি এ কথা বলেন।

বাসদ কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, একের পর এক ক্যাসিনো বেরিয়ে এলো আরও চমকপ্রদ তথ্য। বিভিন্ন নেতার আশীর্বাদে পুষ্ট হয়েছে তারা এবং তারা মোটেই অকৃতজ্ঞ নয়। দলের নেতা, প্রশাসন, পুলিশ সবাইকে সন্তুষ্ট করে অবাধে জুয়ার ব্যবসা চালিয়েছে, শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে বিদেশেও তাদের সম্পদ আছে প্রচুর। শুধু কোটি কোটি নগদ টাকা, এফডি আর নয়, একজনের বাড়ীতে ৭২০ ভরি সোনা পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, যুব লীগের নেতারা ঠিকাদারির কাজ পেতে হাজার কোটি টাকা নাকি ঘুষ দিয়েছে। রাতের ভোট করতে যেমন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, পুলিশ এক যোগে কাজ করেছে এ ক্ষেত্রে যেন সেই সমন্বয় লক্ষ্য করা গেলো। মাদকের ভয়াবহতা সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে দিচ্ছিলো। এখন উদ্ঘাটিত হোল ক্যাসিনোর বিস্তৃতির চিত্র। উন্নয়নের মোহে আচ্ছন্ন করে অধঃপতনের যে অবাধ যাত্রা শুরু হয়েছে তার শেষ কোথায়? যে দেশে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার জন্য একজন গার্মেন্টস যুবক সারামাস উদয়াস্ত পরিশ্রম করে, কৃষক একমণ ধান বিক্রি করে ৫০০ টাকা পায় না, পড়াশুনার খরচ যোগাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রী টিউশনি করাতে বাধ্য হয়, শিক্ষা শেষে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বেতনের চাকরি যোগাড় করতে হিমসিম খেয়ে যায়, চাকরির আশায় দেশের বাইরে অনিশ্চয়তার পানে ছুটছে লাখ লাখ যুবক, সেই দেশে এক রাতের জুয়ায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা উড়িয়ে দে যে যুবক তারা কারা? তাদের বা তাদের বাবাদের আয়ের উৎস কি?

তিনি আরও বলেন, যারা ক্যাসিনো পরিচালনা করেছিল তাদের ক্ষমতা কোন খুঁটিতে বাঁধা ছিলো? সে বাধন কে এবং কেন খুলে দিলো? এসব কি সাময়িক না এই অভিযান চলবে আরও? এসব প্রশ্ন ঘুরছে এখন মানুষের মুখে মুখে। তবে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়েছে যে ক্ষমতা, দুর্নীতি, মাদক ও জুয়া পরস্পরের সাথে দারুণভাবে সম্পর্কিত। স্বার্থের এ বাঁধন ছিন্ন করা কঠিন। সম্পাদনা : মহসীন