পার্লামেন্ট সচল হতেই জনসন বললেন, সুপ্রিম কোর্ট ভুল, বিরোধীদল পারলে আস্থা ভোট আয়োজন করুক

একই কথা বারবার বলছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি আবারও বলেছেন ব্রেক্সিট সময়সীমা বর্ধনের নয়া আইনকে শ্রদ্ধা করলেও ৩১ অক্টোবরই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়বে তার দেশ। চুক্তি না হলেও কোনো পরোয়া নেই বলে হুমকি দেন জনসন। বিবিসি, সিএনএন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে তড়িঘরি করে ফিরে বরিস জনসন পার্লামেন্টেে শুরুর অধিবেশনে যোগ দেন। অনাকাঙ্খিতভাবে তিনি সুপ্রিম কোর্টের তুমুল সমালোচনা করেন। তিনি আবারও বলেছেন তার বিশ্বাষ সুপ্রিম কোর্ট ভুল। যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ এই আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়ে দেশটির সরকার প্রধানরা এরকম প্রকাশ্যে সমালোচনা করছেন, এমন ঘটনা বেশ বিরল।

বরিস আরো বলেন, কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রুলিং দেয়া ঠিক নয়। এদিকে বিরোধীদলীয় নেতা জেরেমি করবিন অভিযোগ করেছেন, নিজের কর্মকা-ের দ্বারা পার্লামেন্টারি ভব্যতা নষ্ট করছেন করবিন।

করবিন বলেন, ‘দেশের ভালোর জন্যই তার সরে যাওয়া উচিত। সর্বোচ্চ আদালত বলছে প্রধানমন্ত্রী আইন ভেঙেছেন। তিনি জনগনের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতা নষ্ট করেছেন। প্রধানমন্ত্রীও আইনের উর্ধে নন। আমরা অবশ্যই নতুন নির্বাচন চাই। তবে তার আগে চাই সময়সীমা বর্ধন।’ এদিকে বিরোধীদলকে একটি আস্থা ভোট আয়োজনের চ্যলেঞ্জ জানিয়ে বরিস বলেছেন, পারলে আমার উপর অনাস্থা এনে দেখান।

‘আমাদের কর্মক্ষেত্রে আবারও আপনাদের স্বাগতম। এই বক্তব্য দিয়ে পার্লামেন্টের কার্যক্রম শুরু করেন হাউজ অব কমন্সের স্পিকার জন বেরকাউ। শুরুতেই জরুরী প্রশ্নোত্তর পর্বে জোয়ানা চেরি আক্রমণ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল জেফরি কক্সকে। তিনি সুপ্রিম কোর্টের মামলায় হেরে যাওয়ার পর আর প্র্যাক্টিস করবেন কিনা এই প্রশ্নের জবাবে

তিনি বলেন, ‘প্রতিবার মামলা হেরে যাওয়ার পর যদি আমি পদত্যাগ করতাম, তবে আমার আর ওকালতিই করা হতো না। সরকার এই রায়কে স্বীকার করে নিয়েছে, স্বীকার করে নিয়েছে এই হারকেও। তবে সবসময় সরকার জনগনের আস্থা রক্ষা করেচে। এগুলো খুবই জটিল বিষয়। যেই বিষয়ে জেষ্ঠ্য আইনজিবিরা দ্বিমত পোষণ করতেই পারেন।’

কক্স মনে করেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় পরবর্তী সরকারগুলোর প্রতি নির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। বহিস্কৃত করজারভেটিভ এমপি কেনেথ ক্লার্ক জানতে চান, যদি বরিস জনসন ক্ষমতায় আসেন এবং নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে পার্রামেন্টকে স্থগিত করতে চান, তবে তারা রাজি হবেন কিনা। এই প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর দেননি কক্স। তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই রায় ভবিষ্যতে দিকনির্দেশকের ভুমিকা পালন করবে। এই দিকনির্দেশক উভয় পক্ষের জন্যই প্রযোজ্য। যেকোন সরকার এই রায় দ্বারা প্রভাবিত হবে।’